দেশে দেশে ঈদ উদযাপন
ঈদুল ফিতর মুসলমানদের জন্য অন্যতম বড় উৎসব। এক মাস রোজা রাখার পর শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে ঈদ উদযাপন করা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ঈদ উদযাপনের কিছু মিল থাকলেও প্রতিটি দেশের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ছোঁয়া থাকে। আসুন জেনে নেওয়া যাক বিভিন্ন দেশে ঈদ কেমনভাবে উদযাপিত হয়।
সৌদি আরব
সৌদি আরবে ঈদ তিন দিন ধরে উদযাপিত হয়। ঈদের সকালে নামাজ পড়া হয় খোলা ময়দানে বা মসজিদে। এরপর পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করা হয়, উপহার বিনিময় করা হয়, বিশেষ করে শিশুদের দেওয়া হয় ঈদ সালামি। ঐতিহ্যবাহী খাবারের মধ্যে রয়েছে মুগালগাল (ভেড়ার মাংস ও টমেটোর খাবার) ও জারেশ (মসলাযুক্ত গম ও মাংস)। দরিদ্রদের সাহায্য করা সৌদির ঈদ উদযাপনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অনেকে বাড়ির বাইরে খাবার ও চাল রেখে দেন, যাতে অসহায় মানুষ তা নিতে পারে।

ইন্দোনেশিয়া
বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম দেশ হলেও ইন্দোনেশিয়ায় ঈদ খুব বেশি জাঁকজমকভাবে পালিত হয় না। বাংলাদেশের মতো ঈদের প্রতি তেমন আবেগ নেই। তবে ঈদের নামাজ আদায় করা হয় এবং পরিবারে বিশেষ খাবার রান্না করা হয়।
তুরস্ক
তুরস্কে সাধারণত ঈদের ছুটি একদিনের হয়। ঈদের দিন অনেকে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান, আবার অনেকে সমুদ্র সৈকতে ঘুরতে যান। সমুদ্রের ধারে বসে আনন্দ করেন, মাছ ধরেন ও সাঁতার কাটেন। এখানকার জনপ্রিয় ঈদের খাবার হলো ‘লোকুম’ বা টার্কিশ ডিলাইট, যা বিভিন্ন রঙের মিষ্টি দিয়ে তৈরি হয়।
ইরান
ইরানে ঈদের দিন সকালে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়। পুরুষরা সাদা ‘কান্দর’ পোশাক পরে, আর নারীরা ‘থাউব’ নামে বিশেষ পোশাক পরেন। ঈদের দিনে সবাই একে অপরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং দরিদ্রদের সাহায্য করেন।
সিঙ্গাপুর
সিঙ্গাপুরে ঈদ বেশ জাঁকজমকভাবে উদযাপিত হয়। গিলং সেরাই এলাকা রঙিন আলোকসজ্জায় সেজে ওঠে। এখানে শতাধিক খাবারের দোকানে ঐতিহ্যবাহী মালয় খাবার পাওয়া যায়। পুরো শহরে ঈদের উৎসবের আমেজ বিরাজ করে।
আইসল্যান্ড
আইসল্যান্ডের মুসলমানরা প্রতিদিন প্রায় ২২ ঘণ্টা রোজা রাখেন। ঈদের দিন মসজিদে নামাজের পর বিভিন্ন দেশের খাবারের আয়োজন করা হয়। শিশুরা নতুন পোশাক পরে আনন্দে মেতে ওঠে।
মিসর
মিসরে ঈদের দিন সকালে নামাজ পড়ার পর পরিবারের প্রবীণ সদস্যদের সঙ্গে দেখা করার রীতি রয়েছে। প্রবীণরা ছোটদের সালামি দেন। ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে অনেকেই পরিবার নিয়ে পার্ক ও চিড়িয়াখানায় যান।
নিউজিল্যান্ড
নিউজিল্যান্ডে ঈদের দিন ‘বাই অ্যানুয়াল ঈদ ডে’ নামে একটি উৎসব হয়। এটি অনেকটা কার্নিভালের মতো। এই উদযাপনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও খাবারের স্টল থাকে।
মরক্কো
মরক্কোতে ঈদের বিশেষ খাবার ‘তাজিন’। এটি মাটির পাত্রে রান্না করা মাংস, সবজি ও মশলার সংমিশ্রণে তৈরি হয়। ঈদের দিন সবাই মিলে একসঙ্গে খাবার ভাগ করে নেন এবং পরস্পরের খোঁজ-খবর নেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় ঈদ সাধারণত কর্মদিবসে পড়লে সরকারি ছুটি থাকে না। মুসলিমরা সকালবেলা নামাজের জন্য মসজিদ বা ইসলামিক সেন্টারে জড়ো হন। এরপর পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করেন, বিশেষ খাবার খান এবং ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেন। অনেক জায়গায় ঈদ মেলা ও কার্নিভালের আয়োজন করা হয়।
যুক্তরাজ্য
যুক্তরাজ্যে মুসলিমরা ঈদের নামাজ পড়তে খোলা ময়দান বা বড় মসজিদে যান। এরপর পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটান। মুসলিম কমিউনিটি বিভিন্ন পার্কে বা হলে বড় ঈদ উৎসবের আয়োজন করে, যেখানে খাবার, সংগীত, খেলাধুলা এবং শিশুদের জন্য নানা বিনোদনের ব্যবস্থা থাকে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ঈদ উদযাপনের ধরন ভিন্ন হলেও, মূল ভাবনা এক – পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করা, বিশেষ খাবার খাওয়া এবং দুঃস্থদের সাহায্য করা। ঈদ শুধু ধর্মীয় উৎসবই নয়, এটি ভালোবাসা, সম্প্রীতি ও উদারতার প্রতীক।