Skip to content

২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | সোমবার | ১১ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

বাবাকে দুষে আত্মহত্যা, সোশ্যাল মিডিয়ায় যেমন মন্তব্য!

শনিবার (২৭ আগস্ট) থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমজুড়ে ঘুরপাক খাচ্ছে একটি ঘটনা। ঘটনাটি এক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীর আত্মহত্যার ঘটনা। তার আত্মহত্যার কারণ লেখা যে চিরকুট সামনে এসেছে, তা আঁতকে ওঠার মতোই৷ আত্মহত্যার আগে লিখে যাওয়া চিরকুটে তার মৃত্যুর জন্য নিজের বাবাকে দায়ী করেন ওই তরুণী। শুধু তাই নয়, বাবাকে ‘রেপিস্ট’ ও ‘পশু’ উল্লেখ করেন চিরকুটে৷ বিষয়টি সামনে আসার পর যথারীতি সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। বিষয়টি ঘিরে নানান ধরনের মন্তব্য করছেন নেটিজেনরা।

রাজধানীর দক্ষিণখান মোল্লারটেক এলাকার একটি ১০তলা ভবনের ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেন। গতকাল শনিবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। ওই তরুণী বাবা-মায়ের সঙ্গে ওই ভবনের একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন। ভবনটিতে তাঁদের একটি নিজস্ব ফ্ল্যাট রয়েছে। একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

চিরকুটে লেখা রয়েছে, ‘আমার মৃত্যুর জন্য আমার বাবা দায়ী। একটা ঘরে পশুর সাথে থাকা যায়। কিন্তু অমানুষের সাথে না। একজন অত্যাচারী রেপিস্ট যে কাজের মেয়েকেও ছাড়ে নাই। আমি তার করুণ ভাগ্যের সূচনা।’

গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ১০তলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন ওই তরুণী। গুরুতর অবস্থায় তাকে প্রথমে একটি স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে গেলে বিকেল ৪টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওই তরুণীর একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে দক্ষিণখান থানা পুলিশ। চিরকুটে লেখা রয়েছে, ‘আমার মৃত্যুর জন্য আমার বাবা দায়ী। একটা ঘরে পশুর সঙ্গে থাকা যায়। কিন্তু অমানুষের সঙ্গে না। একজন অত্যাচারী রেপিস্ট যে কাজের মেয়েকেও ছাড়ে নাই। আমি তার করুণ ভাগ্যের সূচনা।’

বিভিন্ন গণমাধ্যমে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী মেয়েটির মা’ও দোষারোপ করছেন মেয়ের বাবাকে। তার ভাষ্যমতে, তার স্বামী দুইটি বিয়ে করেছেন, এ নিয়ে সাংসারিক বিভিন্ন ঝামেলাও চলছিল। বাবার অত্যাচার সহ্য করতে না পেরেই আত্মহত্যা করেন মেয়ে, এমন দাবি তার মায়ের।

এ বিষয়ে বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে শেয়ার দেয়া খবরের কমেন্ট বক্স ঘুরে দেখা যায় নানা মন্তব্য। বিভিন্ন বয়সের, বিভিন্ন পেশার মানুষের ভিন্ন ভিন্ন মন্তব্য দেখা যায় সেখানে। লিঙ্গ ভেদেও মন্তব্যে ভিন্নতা এসেছে বৈকি। অনেকেই এ ঘটনা নিয়ে শোক প্রকাশ করছেন। অনেকে আবার সম্প্রতি আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়ে যাওয়া নিয়েও কথা তুলছেন। কেউ কেউ এক তরফা আত্মহত্যা করা ওই তরুণীকে দোষারোপ করছেন, কেউ আবার ধিক্কার জানাচ্ছেন এমন বাবাকে।

এ ঘটনার জন্য সমাজব্যবস্থাকে দায়ী করেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করছেন অনেকে। নারীর নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। মেয়েটি সুইসাইড নোটে লেখেন, ‘তার বাবা একজন রেপিস্ট যে কিনা বাসার কাজের মেয়েকেও ছাড় দেয়নি।’ পুরুষতান্ত্রিক সমাজে যেকোনো জায়গায় যে নারীর ওপর ঝাঁপিয়ে পরতে পারে যে কেউ তা যেন আরও পরিষ্কার।

এ ঘটনার সত্যতা এখনো যাচাই করা হয়নি। তবে বাবার কাছে মেয়ে নিরাপদ নয়, বাবার কাছে যৌনহয়রানি ও ধর্ষণের শিকার মেয়ে এমন ঘটনা এর আগেও সামনে এসেছে। আর কাজের মেয়েদের যৌন-হয়রানির বিষয় তো শীর্ষে বলা চলে। এতকিছুর ভিড়ে সঠিক তদন্ত হোক, সত্য ঘটনা বের হয়ে আসুক এমনটাই প্রত্যাশা সবার।