Skip to content

৪ঠা অক্টোবর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | মঙ্গলবার | ১৯শে আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

টিপ রাজনীতির শেষ কোথায়!

টিপের প্রচলন এদেশে প্রায় ৫০০০ বছর ধরে রয়েছে। টিপ কে কেন্দ্র করে মানুষ নানা রকম ইতিহাস বলেন । অনেক রকম গল্প বলেন । কিন্তু টিপ নিয়ে এক শ্রেণির লোকের বিদ্বেষের যে চরম সীমা অতিক্রম করেছে সেটা তো আগেও বোঝা যেতো। যে, লোকে টিপ পরা মেয়েদের ভাল চোখে দেখে না।  কিন্তু এখন এই বিষয়টি রীতিমত প্রকাশ্যে গর্বের সাথে ঢোল পিটিয়ে যাচ্ছে মানুষ। 

 

ঢাকার রাস্তাঘাটে পর্যন্ত মেয়েদের ধরে ''টিপ পরেছে কেনো'' এইরকম প্রশ্নও জিজ্ঞেস করার মত স্পর্ধা পর্যন্ত অর্জন করেছে মানুষ। কিছুদিন আগে এক তথাকথিত ভদ্রলোক তেজগাঁও কলেজের থিয়েটার ও মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষককে রাস্তায় অপদস্থ করেছে। ভদ্রলোকটি তাঁকে  ''টিপ পরসোস কেনো''  বলেই অকথ্য গালি দেয়। ওই ব্যক্তির গায়ে ছিলো পুলিশের পোশাক। ঘটনার প্রতিবাদ জানালে এক পর্যায়ে সেই মেয়েটির পায়ের উপর দিয়েই মোটর সাইকেল চালিয়ে চলে যান তিনি। যদিও এই ব্যপারে লিখিত অভিযোগ করেন লতা সমাদ্দার। 

 

কিন্তু এই যে টিপ নিয়ে একটা অযাচিত বিদ্বেষ। এই বিদ্বেষের কারণটা কি? মেয়েদের সৌন্দর্য নিয়ে অনেকে অনেক কথাই বলেন । কেউ বলে মেয়েদের সৌন্দর্য দেখা না গেলেই ভালো। মেয়েরা ললিপপ এর মত । খোলা রাখলে পিপড়া ধরে যায় বন্ধ থাকলে নিরাপদ থাকে।  সেরকম ঐ টিপ পরলে অনেকে মনে করেন একজন নারীর রূপ অন্বয় মানুষের কাছে দৃশ্যমান হয়ে যায়। এইজন্য টিপ পরা ঠিক না। 

 

অনেকে আবার টিপের সাথে পতিতাবৃত্তি কে জড়িয়েছেন।  অনেকেই মনে করে টিপ দেয়া হতো পুরোহিতদের ভগ সঙ্গীকে চিহ্নিত করার জন্য। অতএব, টিপ পরা নারীরা আসলে অনেকের দৃষ্টিতে ভোগের বস্তু। অবশ্য নারী টিপ পড়লেও যা না পড়লেও তা। নারীরা সব সময়ই সমাজের কাছে ভোগ্যপণ্য হিসেবেই বিবেচিত ছিলো। নারীর প্রতি হয়রানির এমন বৈধতা প্রচলিত হয়ে আছে যুগের পর যুগ ধরেই । টিপ যখন সনাতনী ধর্মে পুরুষলোকেরা তিলক হিসেবে ব্যবহার করতো তখন সেটা ছিলো যারপরনাই সম্মানের এবং ভক্তি। কিন্তু নারীর ক্ষেত্রে হয়ে গেলো পতিতাবৃত্তি আর অশ্লীল।  

 

অথচ টিপের কত রকম ধরন থাকে। টিপ দিয়ে কতক রকম অভিব্যক্তি প্রকাশ পায় একজন নারীর। বড় টিপ পড়তে দেখা যেতো অনেক  নারীদেরই।ফেরদৌসি প্রিয়ভাষিণী , মুনমুন আহমেদ সহ আরো অনেকেই । এই ব্যক্তিবর্গ যথেষ্ট শিক্ষিত এবং অনেক জ্ঞানই  ধারণ করেছেন  তাঁরা নানা উপায়ে। কিন্তু কেবল মাত্র তাদের কপালের টিপ  এবং গায়ের শাড়ি দেখে অনেক মানুষ অনেক  মন্তব্য করে চলেছেন তাঁদের।  

 

এই উপমহাদেশের ভারত, বাংলাদেশ, নেপালসহ শ্রীলংকা, মৌরিতানিয়া, থাইল্যান্ডেও প্রচলিত রয়েছে টিপ। ‍ওইসব দেশে টিপকে বলে বিন্দি- আক্ষরিকভাবে এর অর্থ ''ফোঁটা'' । আশ্চর্যজনকভাবে ঋকবেদে টিপের উল্লেখ আছে যাকে ''তিলক'' ও বলা হয়।  

 

অনেক অনলাইন দোকানেও টিপ পাওয়া যায় । সেখানে দুর্গার প্রতিচ্ছবির মত টিপ,  দেবী কালির মত দেখতে টিপ কিংবা ত্রিশূল এর মর দেখতে টিপ বা গয়না পাওয়া যায়। এবং মানুষ এটা নিয়ে পরিধান ও করে।অনেকেই বলতে পারে কেনো পরিধান করে মানুষ এমন জিনিষ। 

 

মানুষ পরিধান এই জন্য করে কারণ, মানুষ যখন এই গয়নাগুলো পরিধান করেন তখন তাঁরা নিজেদের মধ্যে সেই ব্যক্তিত্বকে খুঁজে পান।কিংবা নিজেকে দুর্গার মত শক্তিশালী মনে করে।

 

 তবে এই মনে করা নিয়ে কারো ব্যক্তিগত কোন ক্ষতি সামজিকগত ক্ষতি বা সমষ্ঠিগত কোনো বাগড়া তো আসছে না তবুও এই টিপ নিয়ে পরে আছে মানুষ। মানে মানুষ কতটা ফাকা মস্তক নিয়ে বসবাস করলে কে কি পরল এটা নিয়ে কাউকে বিচার করে বসে।   

 

শুধু তাই না। টিপ একটা বাঙ্গালী সংস্কৃতি। নিজের সংস্কৃতি কে নিয়ে গর্ব বোধ করবে পোশাকে নিজেদের সংস্কৃতি নিজেদের পরিচয়ের ছাপ থাকবে এটাই স্বাভাবিক।  শাড়ি আর টিপ পরছে। তাতে সমস্যা খুঁজে বের করছে সেই একি সংস্কৃতিতে বেড়ে ওঠা আরেকজন ব্যক্তি। বিষয়টি একি সাথে দুঃখজনক এবং একি সাথে হাস্যকর।