ঘুরে আসুন সোনারগাঁও

ঘুরে আসুন সোনারগাঁও
ঘুরে আসুন সোনারগাঁও
ঢাকা থেকে মাত্র এক ঘণ্টা দূরে অবস্থিত সোনারগাঁও শহরটি। মধ্যযুগীয় রাজধানীর ইতিহাস এবং সংস্কৃতির বিশাল এক অস্তিত্বের ঝলক পাওয়া যায় এ অঞ্চলটিতে৷ পরিবার, বন্ধুবান্ধব সহ আপনি একা একাই ঘুরে আসতে পারেন সোনারগাঁয়ে৷

 

ইতিহাস,ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতিতে ঘেরা বাংলাদেশের প্রাচীন রাজধানী সোনারগাঁও। বাংলার প্রাচীন সভ্যতাও গড়ে উঠেছিল সোনারগাঁও অঞ্চলকে কেন্দ্র করে৷ পুরাতন দালান, জাদুঘর আশেপাশের বেশ খানিকটা জায়গাজুড়ে এখন পর্যটকদের আনাগোনায় মুখরিত পানাম সিটি। ছুটির দিনগুলোতে প্রশান্তির জন্য পর্যটকরা ভিড় জমান সোনারগাঁও শহরে৷

 

ঢাকা থেকে মাত্র এক ঘণ্টা দূরে অবস্থিত সোনারগাঁও শহরটি। মধ্যযুগীয় রাজধানীর ইতিহাস এবং সংস্কৃতির বিশাল এক অস্তিত্বের ঝলক পাওয়া যায় অঞ্চলটিতে৷ পরিবার, বন্ধুবান্ধব সহ আপনি একা একাই ঘুরে আসতে পারেন সোনারগাঁয়ে৷ সামগ্রিকভাবে সোনারগাঁ ঘুরে দেখার জন্য প্রধান দুটি জায়গা রয়েছে। একটি ঐতিহ্য সংবলিত সোনারগাঁ জাদুঘর এবং অন্যটি প্রাচীন দালানে ঘেরা পানাম নগর। আপনার যদি অতিরিক্ত সময় থেকে থাকে তবে আশেপাশে অবস্থিত কয়েকটি মধ্যযুগীয় আমলের মসজিদ ঘুরে দেখতে পারেন।

সোনারগাঁ জাদুঘর কমপ্লেক্স বা সোনারগাঁও জাদুঘর

 

কমপ্লেক্সটিতে আর্টস এবং ক্রাফটস সংবলিত একটি জাদুঘর, একটি হ্রদ সহ একটি পার্ক এবং বেশকিছু আকর্ষণীয় স্থাপত্য সহ কয়েকটি ভবন রয়েছে। প্রাচীন এবং মধ্যযুগীয় দৈনিক জীবন-যাপনের বিভিন্ন উপাদান যাদুঘরে দেখতে পাবেন৷ এছাড়াও ব্যবহার হওয়া বাসনপত্র, কৃষির সরঞ্জাম, মৃৎশিল্প, হরেক রকমের বাদ্যযন্ত্র, পেইন্টিং, কাপড়, হস্তশিল্পের কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম রয়েছে।

শিল্প কারুশিল্পের মাধ্যমে জাতির সংস্কৃতি সম্পর্কে এবং তাদের চালচলনের নানা দিক নিয়ে সাজিয়ে তোলা হয়েছে জাদুঘরটি। এবং এটি নিঃসন্দেহে শিল্পপ্রেমীদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে আরো বেশি আকৃষ্ট করে। মধ্যযুগীয় আমলের রাজ পরিবারগুলো এবং তাদের সংস্কৃতির দিকগুলোও তুলে ধরা হয়েছে জাদুঘরটিতে।

 

জাদুঘর ভবনের চারদিক ঘিরেই রয়েছে বিশাল একটি পার্ক। পার্কটিতে পরিবারগুলির জন্য পিকনিক স্পট। দুপুরের খাবার প্রশান্তির জন্য অনেকে পার্কে বসে সময় কাটান। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ থাকলেও দুর্ভাগ্যক্রমে পার্কটির চারপাশে লক্ষ্য করা যায় মানবসৃষ্ট ময়লার স্তূপ৷ মানুষেরা একটু সচেতন হয়ে ডাস্টবিন ব্যবহার করলেই এমনটি আর দেখা যেত না। সামগ্রিক ভাবে অঞ্চলটি খুব শিথিল এবং সবুজ। আপনি চাইলে হ্রদে নৌকা চালাতে পারেন অথবা আকর্ষণীয় রাইড নিতে পারেন। এছাড়াও সেখানে মাছ ধরার ব্যবস্থা আছে৷

সোনারগাঁও কমপ্লেক্সে কখন ঘুরবেন!

 

সপ্তাহের শুক্রবার থেকে মঙ্গলবার সকাল টা থেকে বিকেল টা পর্যন্ত যেকোনো সময় পরিবারের সাথে ঘুরে আসতে পারেন সোনারগাঁও কমপ্লেক্সে। বুধবার বৃহস্পতিবার জাদুঘরটি বন্ধ থাকে৷ কমপ্লেক্সটি সরকারি ছুটিতেও বন্ধ থাকে।

 

জাদুঘরে প্রবেশের জন্য বাংলাদেশিদের জন্য ২০ টাকা এবং বিদেশিদের জন্য ১০০ টাকার টিকেট কিনতে হয়। নৌকা চালানো, রাইড এবং মাছ ধরার ক্ষেত্রে আপনাকে গুনতে হবে ১০০-১২০ টাকা। এছাড়াও কমপ্লেক্সটিতে আপনি খাবার দোকান হোটেল পাবেন যেখানে মধ্যাহ্নভোজের চাহিদা পূরণ করতে পারেন৷

পানাম সিটি, সোনারগাঁও

 

পানাম শহর বা পানাম নগর সোনারগাঁয়ের আরও একটি বড় আকর্ষণ। পানাম নগর হল এক ভূত শহর যা এক শতাব্দী পূর্বে হিন্দু বণিকরা ত্যাগ করেছিল। উনিশ শতকে পানাম নগর কাপড়ের জনপ্রিয় ব্যবসা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হত। মসলিন, মটকা, জামদানীসহ নানা ধরনের কাপড়ের কারবার চলত পানাম নগরকে ঘিরে।

 

ব্রিটিশরা উপমহাদেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার পর পরই, হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা শুরু হয়েছিল এবং তখন সমস্ত অঞ্চলকে ধর্মীয় কারণের ভিত্তিতে বিভক্ত করা হয়েছিল। তৎকালীন সোনারগাঁও মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশে পড়েছিল। তখনই হিন্দু পরিবারগুলো তাদের বাড়িঘর এবং ব্যবসা পিছনে ফেলে চলে গিয়েছিল। যার নিদর্শন হিসেবে থেকে গেছে পানাম নগরের দালানগুলো৷

পানাম সিটিতে চোখে পড়ত আবাসিক এবং বিনোদন উভয় ধরণের ভবন। উদাহরণস্বরূপ, সিটিতে চারটি বলরুম রয়েছে যা সমাবেশ এবং পার্টির জন্য ব্যবহৃত হয়েছিল। মাত্র কয়েক বছর আগে বাংলাদেশ সরকার পানাম নগরের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়েছিল। আজ পানাম সিটি বাংলাদেশের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের কাছে সংরক্ষিত আছে। তারা শহরটিকে যথাযথভাবে সুরক্ষিত করে ঐতিহ্যবাহী জায়গায় রূপান্তরিত করেছেন।

 

সোনারগাঁও জাদুঘর কমপ্লেক্স থেকে মাত্র ১০ মিনিটের হাঁটলেই চোখে পড়বে পানামাসিটি। বাংলার রাজধানীর আদি নিদর্শন দেখতে আপনিও ছুটে যেতে পারে ঢাকার অদূরেই অবস্থিত সোনারগাঁও অঞ্চলে। ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতির মাঝে একটুখানি জ্ঞান আরোহণ শহরের কোলাহল ছেড়ে প্রশান্তির নিশ্বাস নিতে আপনিও ছুটে যেতে পারেন সোনারগাঁতে৷