বিশ্বের বিখ্যাত জাদুঘর

বিশ্বের বিখ্যাত জাদুঘর
বিশ্বের বিখ্যাত জাদুঘর
ল্যুভর জাদুঘর পৃথিবীর অন্যতম একটি বিখ্যাত জাদুঘর। প্রথম সারির জাদুঘর গুলো তালিকা তৈরি করতে হলে বলা যায় এটি নিঃসন্দেহে প্রথমদিকে স্থান পাবে। এই বিখ্যাত জাদুঘরটি ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে অবস্থিত।

মানব সভ্যতার ইতিহাসে অন্যরকম সংগ্রাহক বা ধারক বলা হয় জাদুঘরকে। জাদুঘরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সভ্যতার ধারাবাহিক নিদর্শন পাওয়া যায়। তাই জাদুঘরে আসা দর্শনার্থীরা অতি সহজে ও সংক্ষেপে ইতিহাসের নিদর্শন প্রত্যক্ষ করে, ইতিহাসের ধারাবাহিক ধারনা লাভ করতে পারে। একটি দেশের জাদুঘরকে ঐ দেশের ইতিহাস ও সভ্যতা সংগ্রহশালা বলা হয়। তবে বিশ্বের বিখ্যাত কিছু জাদুঘর তাদের নিজ দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য কে তুলে ধরে না বরং তারা সমগ্র বিশ্বের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে বহন করে।

 

মেট্রোপলিটন জাদুঘর


মেট্রোপলিটন জাদুঘর নিউইয়ার্কে অবস্থিত। এটি ১৮৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এ জাদুঘরে ২০ লাখের বেশি দর্শনীয় বস্তু রয়েছে। যা সমগ্র বিশ্ব থেকেই সংগ্রহ করা হয়েছে। এখানে ইসলামিক, মিশরীয়, ইন্ডিয়ান ও গ্রিক কাল, সাংস্কৃতিক এবং ইউরোপের চিত্রশিল্প নিদর্শন রয়েছে। এখানে প্রায় ৬০০০ বছরের মানব ইতিহাসের সন্নিবেশ করা হয়েছে। এ জাদুঘরে বিখ্যাত অ্যাডাম ও ইভের মূর্তি রয়েছে। যা এই জাদুঘরকে আরও ব্যাপক জনপ্রিয়তা উপহার দিয়েছে। এ জাদুঘরটি এতোই বৃহৎ যে একদিনে পরিদর্শন করা সম্ভব নয়।

 

ল্যুভর জাদুঘর


ল্যুভর জাদুঘর পৃথিবীর অন্যতম একটি বিখ্যাত জাদুঘর। প্রথম সারির জাদুঘর গুলো তালিকা তৈরি করতে হলে বলা যায় এটি নিঃসন্দেহে প্রথমদিকে স্থান পাবে। এই বিখ্যাত জাদুঘরটি ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে অবস্থিত। এই জাদুঘরকে আধুনিক ইউরোপের ইতিহাসে সংগ্রহশালা বলা হয়। জাদুঘরের সামনে কাচের পিরামিড যা এটির বহুমাত্রিকতা দান করে। এখনো গ্রিক, মিশরীয়, রোমান ও প্রাচ্য দেশের অসংখ্য নিদর্শন রয়েছে। সবচেয়ে আকর্ষনীয় বস্তু সমূহ হলো রেনেসাঁ আমলে নিদর্শনসমূহ, যা এটি কে আরও বহুমাত্রিকতা দান করেছে। এখানে লিওনার্দো দা ভিঞ্চির বিখ্যাত চিত্রকর্ম মোনালিসা সহ এম্বান্ড, রুবেন্স ও টশিয়ালের বিখ্যাত কৃতকর্ম স্থান পেয়েছে। এছাড়াও এখানে আধুনিককালের বহু বিখ্যাত শিল্পী ও ভাস্কর্য শিল্প ও ভাস্কর্য কর্ম রয়েছে। যদিও শুরুর দিকে এটি মধ্যযুগের একটি দুর্গ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। প্রথমেই ১৬২৪ সালের সম্রাট ত্রয়োদশ লুই এর ব্যক্তিগত সংগ্রহশালা হিসেবে ব্যবহৃত হয় পরবর্তীতে ১৮৪৮ সালে তা ফ্রান্সের রাষ্ট্রীয় সম্পদে পরিণত হয় এবং তাকে জাদুঘর হিসেবে ঘোষণা করা হয়। বর্তমানে এখানে ৬টি গ্যালারিতে ভাগ করে দর্শনার্থীদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।

 

মাদাম তুসো জাদুঘর


মাদাম তুসো জাদুঘরটি যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অবস্থিত। এটি পৃথিবীর বিখ্যাত জাদুঘরের মধ্যে অন্যতম। এটি প্রথমে ১৮৩১ সালের ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় যাত্রা শুরু করে। পরবর্তীতে ১৮৩৫ সালে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে লন্ডনের প্রতিষ্ঠিত হয়। এই জাদুঘরটি বিখ্যাত হবার প্রধান কারণ হলো বিভিন্ন বিখ্যাত মোমের মূর্তি, মমি সংরক্ষণ করা। এখানে অ্যারিস্টটল থেকে শুরু করে স্টিফেন হকিং, অমিতাভ বচ্চন, শাহরুখ খান পর্যন্ত সকল কিংবদন্তী মোমের তৈরি প্রতিকৃতি রয়েছে। তাছাড়া হিটলার ও ফরাসি বিপ্লবের সময় বীরত্বের সাথে লড়াই করে মৃত্যুবরণকারী এবং মৃত্যু-দণ্ডপ্রাপ্ত বীরদের মাথায় মোমের তৈরি প্রতিকৃতি অন্যতম। এটির নামকরণ করা হয় মাদাম তুসো নামে এক ব্যক্তির নাম অনুসারে।

 

ব্রিটিশ জাদুঘর


ব্রিটিশ জাদুঘরটির যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অবস্থিত। এটি ১৭৫৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বিশ্বের বিভিন্ন স্থানের ঐতিহাসিক নিদর্শন ও প্রত্নতাত্ত্বিক কর্ম এখানে স্থান পেয়েছে। এখানে প্রায় খ্রিস্টপূর্ব ১৯৬ সালের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পাওয়া যায়। এ জাদুঘরটি মিশরীয় ঐতিহ্যের একটি বিরাট সংগ্রহশালা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাছাড়া ব্রিটিশদের সবচেয়ে বড় উৎস হিসেবে একে বিবেচনা করা হয়। এখানে সর্বমোট ৭০ লক্ষ সংগ্রহ কর্ম রয়েছে। এ জাদুঘর বছরে ৬০ লক্ষ দর্শনার্থী পরিদর্শন করে। তবে এখানে ৪০ লক্ষ সংগ্রহ সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত।


 
ভ্যাটিকান জাদুঘর


ভ্যাটিকান সিটিতে এ জাদুঘর  অবস্থিত। এটি মূলত খ্রিষ্টান ক্যাথলিক  জন্য বানানো হলেও বর্তমানে তা সকলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। এটি মূলত কোন জাতিগোষ্ঠীর ইতিহাস তুলে ধরে নি বরং এটি সমাজ ও সংস্কৃতির এক উজ্জ্বল প্রতিবিম্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এটি বিভিন্ন মানচিত্র ও ধর্মীয় বিভিন্ন চিত্রকর্ম এখানকার সংগ্রহশালায় স্থান পেয়েছে। বিভিন্ন প্রাচীন সভ্যতা থেকে শুরু করে মিশরীয় সভ্যতার শিল্প কর্ম এখানে গুরুত্বপূর্ণ স্থান লাভ করেছে। এখানে সিস্টাইন চ্যাপেল এবং রাফেল জন্য আলাদা সংগ্রহশালা তৈরি করেছে। যা এখানকার দর্শনার্থীদের নজর কে ভালো ভাবে আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয়। বলা হয়ে থাকে এখানে পরিদর্শন করেছে এমন সবার সাথে কথা বললে সবার প্রথমে এই দুইটি সংগ্রহশালা কথায় বলবে। তাছাড়া এখানে মোট ২২ টি সংগ্রহশালা রয়েছে। বছরে প্রায় ৪০ লাখেরও বেশি দর্শনার্থী এই জাদুঘরে পরিদর্শনের জন্য যায়।

 

তাই, এসব জাদুঘর সমগ্র বিশ্বের ভ্রমনপিপাসুদের আকৃষ্ট করে এবং মানব জীবনে ধারাবাহিক ইতিহাস, ঐতিহ্য, কলা, বিজ্ঞানকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের কাছে পৌঁছে আসছে।