ভাসমান নগরী ভেনিস

ভাসমান নগরী ভেনিস
ভাসমান নগরী ভেনিস
ইউরোপের সবচেয়ে রোমান্টিক শহর ভেনিস। পানির উপর ভেসে থাকা দৃষ্টি নন্দন প্রাসাদ, তার গা ঘেঁষে এঁকেবেঁকে বয়ে চলার স্বচ্ছ পানি লেকের জন্য পৃথিবী জুড়ে বিখ্যাত। পৃথিবীর ভাসমান শহরের তালিকায় সব সময় শীর্ষে ভেনিসের নাম।

ভেনিস জলে ভাসমান একটি শহর, যা নীল স্বচ্ছ পানির উপর দাঁড়িয়ে আছে দৃষ্টিনন্দন প্রাচীন প্রাসাদ। প্রাসাদের  মাঝে এঁকে বেঁকে বয়ে চলেছে নদী। স্বচ্ছ পানিতে তাকালেই প্রাচীন নান্দনিক শহরের প্রতিবিম্ব ভেসে উঠছে। যেন শিল্পী নিদারুণ কারুকাজে আঁকা শহরের প্রতিবিম্ব। বলছি শেক্সপিয়ারের নাটক মার্চেন্ট অফ ভেনিস এর সেই বিখ্যাত শহর অথবা অ্যাঞ্জেলিনা জোলি ও জনি ডেপের বিখ্যাত দ্যা টুরিস্ট সিনেমার সেই শহর। ইতালির ভেনিস নগরী।

 

বলিউড, হলিউড সিনেমার হাজারো ছবির গানের শুটিংয়ের যে শহরের সৌন্দর্য রূপ প্রতিনিয়ত ফুটে উঠছে। ভূ-মধ্য সাগরের বুকে সেই শান্তিপূর্ণ রোমান্টিক শহর ইতালির ভেনিস নগরী। ইতালির সবচেয়ে নান্দনিক সৌন্দর্যের আর ঐতিহাসিক একটি নগরী হলে ভেনিস নগরী।
 

ইউরোপের সবচেয়ে রোমান্টিক শহর ভেনিস। পানির উপর ভেসে থাকা দৃষ্টি নন্দন প্রাসাদ, তার গা ঘেঁষে এঁকেবেঁকে বয়ে চলার স্বচ্ছ পানি লেকের জন্য পৃথিবী জুড়ে বিখ্যাত। পৃথিবীর ভাসমান শহরের তালিকায় সব সময় শীর্ষে ভেনিসের নাম।

 

ভেনিস শহরটির মত নান্দনিক শহর পৃথিবীতে কমই আছে। পুরো শহরের বুক জুড়ে থাকা পানিতে প্রাসাদের প্রতিচ্ছবি আর আকাশের মেঘগুলো তে লেকের জলে লুটোপুটি খায়। অপূর্ব সুন্দর এই শহরটি তাই, সারা পৃথিবীর পর্যটকদের কাছে প্রিয় একটি শহর।

 

ভেনিসে সারাবছরই পর্যটকদের ভিড়ে মুখরিত থাকে। প্রতিদিন প্রায় ৫০ হাজার পর্যটক ভেনিসের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। ভেনিসের শিল্প-সাহিত্য, বিশেষ করে স্থাপত্য শিল্পের যে কারো মন জুড়িয়ে যায়। প্রতিটি ঘরবাড়িও যেন এক একটি নান্দনিক রূপ। রংবেরঙের কারুকার্য নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে জলের মধ্যে। এ যেন এক অপরূপ জলের শহর। ভেনিস শহর টি মূলত কতগুলো দ্বীপের সমষ্টি। 
 

আদ্রিয়াটিক সাগরের উপকূলে ইতালির ভেনিটো অঞ্চলে বো অফ পিয়াভব নদীর মিলনস্থলে প্রায় ৪১৪.৫৭ বর্গ কিলোমিটার এলাকা নিয়ে গঠিত ভেনিস। ৩ লাখ নাগরিক বুকে ধারণ করছে ভেনিসের ১১৮ টি ছোট ছোট দ্বীপ। ১১৭টি খাল আর এক দ্বীপ থেকে অন্য দ্বীপে পায়ে হেঁটে যাওয়ার জন্যে রয়েছে ৪০৯টি সেতু। আর তাই রূপের পসরা`সাজানো ভানিসকে ভাসমান নগরীও বলা হয়।  

 

ইতিহাস থেকে জানা যায়, জলদস্যুদের হাত থেকে রক্ষার জন্য এখানে প্রবাসীরা বসতি গড়ে তোলে। পরে লোক সংখ্যা বাড়তে থাকে এবং পানির উপরে উঠে এই শহরে। ভেনিসে গাড়ি চালানোর কোন রাস্তা নেই, বরং পুরো শহর জুড়ে গাছের শিকড়ের মত খাল, এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেতে হলে সঙ্গে একমাত্র ছোট ডিঙি নৌকা। ভেনিসে বসবাসকারী প্রতিটি পরিবারের নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা হল এই নৌকা। বাড়ির সাথে বাঁধানো থাকে তাদের নিজস্ব নৌকা বা স্পিড বোড। 

 

ভেনিসের জলযানের একটি আকর্ষণীয় রোমান্টিক জলযান হল গান্ডোলা। আর এই ঐতিহ্যবাহী গান্ডোলা সকল পর্যটকদের দৃষ্টি কেড়ে নেয়। চমৎকার কারুকার্য খচিত শিল্পীর শৈল্পিক ছোঁয়ায় ফুটে ওঠা গন্ডোলার চড়ে নদীর জলে ভাসতে ভাসতে দেখতে পারবেন ভেনিসের পর্যটন কেন্দ্রের প্রধান আকর্ষণ গুলো। আর নয়তো খালের পাশ দিয়ে তৈরি পায়ে চলার পথে ঘুরে বেড়াতে পারেন। তবে, মজার বিষয় হচ্ছে আপনি যতই হাটে চারপাশের পানি থাকায় ভেনিসের প্রধান দ্বীপের বাইরে চলে যাওয়া ভয় নেই।  
 

তাছাড়া একটু পরপরই দেখার মত কিছু না কিছু তো পাবেন, সেটা হতে পারে প্রাচীন কোন চার্চ, জাদুঘর বা প্রদর্শনী। আর একটু পরপর মুখোশ, টুপি বা নানা রংয়ের কাচের জিনিসের দোকান তো আছেই। ভেনিসের পরোতে পরোতে ছড়িয়ে আছে মোহনীয় সৌন্দর্যে। রোমান্টিক শহর ভেনিস নবদম্পতিদের হানিমুনের জন্য দারুণ জনপ্রিয় একটি জায়গায়। তাই এ শহরকে সিটি অফ লাভ বলেও ডাকা হয়।

 

মাকড়সার জালের মত পুরো ভেনিস শহর জুরে ছড়িয়ে আছে অসংখ্য খাল। এর মাঝে এই শহরকে দ্বিখণ্ডিত করেছে গ্র্যান্ড ক্যানেল। নৌকা, স্পিড বোডের যাতায়াতের পথের এই সব খাল থেকে দেখতে পাবেন শহরের চোখ জুড়ানো রং, নকশা ও দারুণ স্থাপত্যশৈলী। খালের উপরে রয়েছে চমৎকার সব সেতু। এসব সৌন্দর্য পর্যটকদের মুগ্ধ করে। 

 

তবে সবচেয়ে সুন্দর জমকালো সেতু হল রিয়ালটো ব্রিজ। যা গ্র্যান্ড ক্যানেলের উপর স্থাপিত। খালের মধ্যে থেকে এই সেতুর অপূর্ব কারুকার্য দর্শনার্থীদের মন ছুঁয়ে যায়। ভেনিসে আসলে গন্ডোলায় চড়ে এই সেতুর নিচে পাড় না হলে, পুরো ভ্রমণই যেন অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। 

 

মুখোশের শহর হিসেবে সারা বিশ্বে দারুণ খ্যাতি আছে ভেনিস নগরীর। প্রতি বছর ভেনিসে মুখোশের কার্নিভাল অনুষ্ঠিত হয়। এই কার্নিভাল উপলক্ষে অসাধারণ কারুকার্য খচিত শৈল্পিক রুচির সমন্বয়ে তৈরি হয় চমৎকার সব মুখোশ। ভেনিস গেলেই পর্যটকরা রংবেরঙের এই  মুখোশগুলো কিনে থাকেন। ভেনিস নগরীর এক পেয়াজ্য সান মার্গোতে রয়েছে আকর্ষণীয় ভোজ প্যালেস। যা প্রাচীন স্থাপত্য রীতিতে নির্মিত এই ভবন মূলত একটি জাদুঘর। 

 

এছাড়া এখানে ছোট ছোট আরো অনেক পুরনো মনোমুগ্ধকর স্থাপত্য প্রাসাদ, জাদুঘর রয়েছে। তার পাশাপাশি অনেক রকমের বুটিক ক্যাফে ও রেস্তোরাঁ রয়েছে। ভাসমান শহর ভেনিস সামুদ্রিক খাবারের জন্য পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। যারা সীফুড প্রেমিক তাদের জন্য খাবারের স্বর্গরাজ্য ভেনিস। এখানে ভূমধ্যসাগরের নানান সামুদ্রিক খাবারের সাথে পাবেন, শুধু উত্তর আটলান্টিক থেকে নিয়ে আসা অক্টোপাস স্কুইডো।

 

পৃথিবীর বিখ্যাত অপেরা হচ্ছে ইতালির অপেরা। টেট্রোলা ফ্যারিস প্রাসাদ টি দ্যা ফেলিক্স নামে অপেরা হাউসে পর্যটকরা আসে ইতালির বিখ্যাত অপেরা শোনার জন্য। এছাড়া ভেনিসের সেন্ড মার্কে অবস্থিত বিখ্যাত স্থাপত্য ক্যাথেড্রল। এটার চারদিকের দেয়ালে নানান সুসজ্জিত কারুকার্য খচিত চিত্রকর্ম, অক্ষরের লিপিবদ্ধ নানান কাহিনী পর্যটকদের বিমোহিত করে। 

 

ভেনিসের লিডে দ্বীপ পর্যটকদের জন্য আরেকটি চমৎকার স্থান, এটি কে বলা হয় ভেনিসের সোনালী দ্বীপ। এ দ্বীপের সমুদ্র সৈকতে গোধূলি লগ্নে সূর্যাস্তের দৃশ্য উপভোগ করতে প্রচুর পর্যটকের সমাগম ঘটে। ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে একটি স্বপ্নের নগরীর ভেনিস। সব মিলিয়ে পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা, এই শহরটা সৌন্দর্যের মুহূর্তে আপনাকে মুগ্ধ করবে।