ঐতিহ্যবাহী পুঠিয়া রাজবাড়ি

ঐতিহ্যবাহী পুঠিয়া রাজবাড়ি
ছবি: সংগৃহীত
সপ্তদশ শতকে মুঘল আমলে জনৈক নীলাম্বর সম্রাট জাহাঙ্গীরের কাছ থেকে ‘রাজা’ উপাধি লাভ করার পর পুঠিয়া রাজবাড়ি হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।

বাংলাদেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী দর্শন হল রাজশাহীর পুঠিয়া রাজবাড়ি। রাজশাহী বিভাগীয় শহর হতে ৩০ কিলোমিটার এবং রাজশাহী-নাটোর মহাসড়ক থেকে মাত্র ১ কিলোমিটার দূরে পুঠিয়া রাজবাড়ীর অবস্থান। নজরকাড়া স্থাপত্যের একটি অনন্য এক নিদর্শন এই পুঠিয়া রাজবাড়ি। ১৮৯৫ সালে মহারানি হেমন্তকুমারী দেবী ইন্দো-ইউরোপীয় স্থাপত্য রীতিতে আয়তাকার দ্বিতল রাজবাড়িটি নির্মাণ করেন।

 

 

পুঠিয়া বহুকক্ষ বিশিষ্ট দ্বিতল পুঠিয়া রাজবাড়ীতে প্রবেশের জন্য উত্তর দিকে একটি সিংহ দরজা রয়েছে। পুঠিয়া রাজবাড়ির প্রবেশ মুখের পুকুর পাড়ে বিশাল আকারের এ মন্দিরের নাম শিব মন্দির৷ পুঠিয়ার রানি ভুবনমোহিনী দেবী ১৮২৩ সালে এটি প্রতিষ্ঠা করেন৷ চারদিকে ৬৫ ফুট দীর্ঘ এই শিব মন্দির একটি উঁচু ভিতের উপরে নির্মিত৷ চার কোণায় চারটি আর কেন্দ্রে একটি রত্ন আছে৷ মন্দিরের দোতলায় একটি মাত্র কক্ষ আর চারপাশে দুই স্তরে বারান্দা৷ মূল কক্ষের ভিতরে আছে কষ্টি পাথরের বিশাল এক শিবলিঙ্গ৷

 

 

প্রবেশপথে বেলেপাথরের চৌকাঠের ওপর চমৎকার অলংকরণ আছে। দোতলার কক্ষটি আকারে ছোট এবং এটির চারপাশে উন্মুক্ত প্রবেশপথ আছে। পুঠিয়া বাজারের মধ্যে অবস্থিত চার তলাবিশিষ্ট মন্দিরটি দোলমঞ্চ আকারে ক্রমান্বয়ে সরু হয়ে ওপরে উঠে গেছে।

 

 


ইতিহাস


সপ্তদশ শতকে মুঘল আমলে জনৈক নীলাম্বর সম্রাট জাহাঙ্গীরের কাছ থেকে ‘রাজা’ উপাধি লাভ করার পর পুঠিয়া রাজবাড়ি হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। ১৭৪৪ সালে জমিদারি ভাগ হয়। সেই ভাগাভাগিতে জমিদারের বড় ছেলে পান সম্পত্তির সাড়ে পাঁচআনা এবং অন্য তিন ছেলে পান সাড়ে তিনআনা। ১৯৫০ সাল পর্যন্ত জমিদারি প্রথা ছিল। প্রথা বিলুপ্ত হলে পুঠিয়া রাজবাড়ির জমিদারিও বিলুপ্ত হয়। তবে প্রাসাদটি ১৮৯৫ সালে হেমন্তকুমারী দেবী তাঁর শাশুড়ি মহারানী শরৎ সুন্দরী দেবীর সম্মানে নির্মাণ করান।

 

পরবর্তীতে ১৯৭৩ সালে রাজবাড়িতে পুঠিয়া ডিগ্রি কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। যা লস্করপুর ডিগ্রি বিদ্যানিকেতন নামে পরিচিত। বলা যায়, রাজবাড়িটি সংস্কার করা হয়েছে।

 

 

পুঠিয়া রাজবাড়ী যাওয়ার উপায়

 


রাজশাহী-নাটোর মহাসড়কের পুঠিয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে এক কিলোমিটার দক্ষিণে রিক্সাযোগে মাত্র পাঁচ মিনিটের পথ, ভাড়া মাত্র পাঁচ টাকা। রাজশাহী শহর থেকে সড়ক পথে দূরত্ব ৩৪ কিলোমিটার এবং নাটোর থেকে ১৮ কিলোমিটার। নিজস্ব গাড়িতে জায়গাটিতে ভ্রমণে গেলে রাজশাহী শহরের প্রায় ত্রিশ কিলোমিটার আগে পড়বে জায়গাটি। এ ছাড়া রাজশাহীগামী যেকোনো বাসে গিয়েও পুঠিয়া নামা যায়। আবার রাজশাহী থেকে লোকাল বাসে পুঠিয়া আসতে সময় লাগে প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা। রাজশাহী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে নাটোরগামী বাসে চড়ে পুঠিয়া নামা যায়।