ঘুরে আসুন চীনামাটির পাহাড় ও নীল জলে!

ঘুরে আসুন চীনামাটির পাহাড় ও নীল জলে!
ঘুরে আসুন চীনামাটির পাহাড় ও নীল জলে!
পাহাড়, নদী আর সবুজ নীলের মিশেলে হ্রদটি আপনার সকল ক্লান্তিকে ভুলিয়ে দিবে।

নেত্রকোনা জেলার উত্তর প্রান্তে গারো পাহাড়ের পাদদেশের এক জনপদের নাম বিরিশিরি। যেখানে বয়ে গেছে টলটলে জলের সোমেশ্বরী নদী আর দিগন্ত হারিয়েছে আকাশ ছোঁয়া সবুজ পাহাড়। এখানে রয়েছে অসংখ্য লাল, গোলাপি, বেগুনী রঙের চীনামাটির পাহাড়। বিরিশিরির মূল আকর্ষণ হল বাংলাদেশের একমাত্র চীনামাটির পাহাড় এটি। এছাড়াও এখানে আপনি দেখতে পাবেন রাণীখং গির্জা, কমলা রাণীর দীঘি এবং সোমেশ্বরী নদী।


বিরিশিরি থেকে আরেকটু দূরে  বিজয়পুর নামক জায়গায় অবস্থিত এই চীনা মাটির পাহাড়। পাহাড় ও সমভূমি সহ এটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৫ দশমিক ৫ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ৬০০ মিটার। বিস্তর পাহাড় জুড়ে রয়েছে সাদা মাটি। কিছু কিছু জায়গায় লালচে মাটি ও দেখা যায়। পাহাড় থেকে মাটি কাটায় সেখানে হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে যার পানি কোথাও স্বচ্ছ নীল কোথাও সবুজাভ নীল কোথাও বা একদম লাল। তবে লাল পানি এখন নেই বললেই চলে। এই হ্রদের নীল জল যেন আপনার সমস্ত অবসাদ ও ক্লান্তি দূর করে দেবে। আর এসব হ্রদের পানিতে চোখ পড়তেই দেখবেন আসার সব কষ্টগুলো নিমিষেই মিলিয়ে গেছে। শ্বেত শুভ্র চিনামাটির পাহাড়ের পাদদেশ দিয়ে বয়ে গেছে অপরূপ নীলের উৎস সোমেশ্বরী নদী। যা বর্তমানে কয়লা খনি হিসেবে পরিচিত। এই নদীর নীল জলে সাদা চিনামাটির পাহাড়ের প্রতিবিম্ব যেন এক অলৌকিক সৌন্দর্যের প্রতীক।


পাহাড়, নদী আর সবুজ নীলের মিশেলে হ্রদটি আপনার সকল ক্লান্তিকে ভুলিয়ে দিবে।

 

 

 

অন্যান্য স্থানসমূহ


দুর্গাপুরের আসল সৌন্দর্যই বলা হয়ে থাকে এই সোমেশ্বরী নদীকে। ভারতের মেঘালয় রাজ্যের গারো পাহাড়ের বিঞ্চুরীছড়া, বাঙাছড়া প্রভৃতি ঝর্ণাধারা ও পশ্চিম দিক থেকে রমফা নদীর স্রোতধারা একত্রিত হয়ে সৃষ্টি হয়েছে সোমেশ্বরী নদী। এ নদী বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে রানিখং পাহাড়ের পাশ ঘেঁষে। পাহাড়, নদী আর গাছপালা দিয়ে ঘেরা নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর উপজেলার সোমেশ্বরী নদীর সৌন্দর্য আপনার নজর কাড়বেই। এক সময় সিমসাং নামে পরিচিত থাকলেও, সোমেশ্বর পাঠক নামে এক সিদ্ধপুরুষ ওই অঞ্চল দখল করে নিলে নদীটি পরিচিতি পায় সোমেশ্বরী নামে। আবার সিমসাংগ্রি থেকে উৎপত্তি হয়েছে বলে এর নাম সোমেশ্বরী রাখা হয়েছিল, এমন ধারণাও প্রচলিত রয়েছে। এক এক ঋতুতে এই নদী এক এক রূপ লাভ করে। বর্ষায় এই নদীর পানি বেড়ে গেলেও, শীতে এখানে হাঁটুজল থাকে। সেই হাঁটুজলে পা ভিজিয়ে হাঁটার অভিজ্ঞতা মনে গেঁথে থাকবে চিরকাল।

এছাড়াও তেভাগা আন্দোলনের কিংবদন্তি কমরেড মনি সিংহের স্মৃতিভাস্কর আছে এখানে। অপেক্ষাকৃত কোলাহলমুক্ত ছোট্ট একটি বাজার। বিরিশিরিতে পা রাখতেই অন্য রকম এক অনুভূতির পরশ বুলিয়ে যায় সারা গায়। এখনে আছে পাহাড়ী কালচারাল একাডেমী। শান্ত-স্নিগ্ধ, সবুজে ঢাকা ছিমছাম পরিবেশ। পর্যটকদের চাপ বেশী থাকেনা। এখানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রায় সবাই পাহাড়ী-গারো, হাজং। এ ছাড়াও যেতে পথে পড়বে সেন্ট যোসেফের গির্জা। গির্জাটা বেশ সাজানো-গোছানো, নীরব আর খুব সুন্দর।

এছাড়াও দূর্গাপুর থেকে ৬ কিলোমিটার উত্তর সীমান্তে পাহাড়ের চুড়ায় রানীখং গীর্জা অবস্থিত। এই পাহাড়ের চুড়া থেকে বিরিশিরির সৌন্দর্য যেন অন্য মাত্রা পায়। বিরিশিরি ইউনিয়ন পরিষদের পাশেই কমলা রানী দীঘি। এই কমলা রারী দীঘি সাগর দীঘি নামেও পরিচিত। দীঘিটি পুরোপুরি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেলেও এর দক্ষিণ-পশ্চিম পাড় এখনো কালের সাক্ষী হয়ে আছে।

 

 


কীভাবে যাবেন


মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে দুর্গাপুরে সরকার এবং জিন্নাত পরিবহনের বাস যায়। ভাড়া ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা। থামে সুকী নগর। সেখান থেকে নৌকায় নদী পার হয়ে রিকশা, বাস বা মোটরসাইকেলে দুর্গাপুরে যেতে হয়। বাস ভাড়া ২০ টাকা, রিকশায় যেতে ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং মোটরসাইকেলে ২ জন ১০০ টাকা ভাড়ায় দুর্গাপুর যাওয়া যায়।


ঢাকা থেকে ১১টা ৫০ মিনিটে হাওড়া এক্সপ্রেস ট্রেনে শ্যামগঞ্জ স্টেশনে নেমে বাস বা সিএনজি ভাড়া করে বিরিশিরি বাজারে যাওয়া যায়। বিরিশিরি বাজার থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশায় ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় ভাড়া নিয়ে সবগুলো স্থান ৫ থেকে ৬ ঘণ্টায় দেখে ফেলতে পারবেন।

 

 

 

থাকার ব্যবস্থা


দুর্গাপুরে থাকার জন্য ভালো ব্যবস্থা হল ইয়ুথ মেন খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশন বা ওয়াইএমসিএ-এর রেস্ট হাউজ ও কালচারাল অ্যাকাডেমি। এছাড়াও দুর্গাপুরে সাধারণ মানের কিছু হোটেল আছে। স্বর্ণা গেস্ট হাউজ, হোটেল সুসং, হোটেল গুলশান ইত্যাদি। এগুলোর ভাড়া খুব একটা বেশি না। অল্প খরচেই থাকতে পারবেন।