ঘুরে আসুন গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত!

ঘুরে আসুন গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত!
ঘুরে আসুন গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত!
ভ্রমণকে নিরাপদ করতে প্রয়োজনে ট্যুরিস্ট পুলিশের সাহায্য নিন। ভ্রমণ স্থানকে ময়লা ফেলে নোংরা করবেন না। নিজে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার বেপারে সচেতন হোন এবং অন্যকে সচেতন করার চেষ্টা করুন।

গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড উপজেলায় অবস্থিত। স্থানীয় মানুষের কাছে এই সৈকত ‘মুরাদপুর বীচ’ নামেও সুপরিচিত। সমুদ্র ও সৈকতের অনন্য সুন্দর একটি মনোরম পরিবেশ বিরাজ করে এখানে। ক্ষুদ্র চাকা চাকা মাটিগুলো যেন একেকটি সবুজ দ্বীপ। এখানে সবুজ ঘাসের বুকে শুয়ে সাগরের ঢেউয়ের গর্জন শোনা ও দেখা যায়। আর বাতাসের শীতলতা আপনাকে অন্য রকম প্রশান্তি দেবে।


সীতাকুণ্ড বাজার থেকে গুলিয়াখালি সি বীচের দূরত্ব মাত্র ৫ কিলোমিটার। একদিকে দিগন্ত জোড়া সাগর জলরাশি আর অন্য দিকে কেওড়া বন এই সাগর সৈকতকে করেছে অনন্য। কেওড়া বনের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া খালের চারিদিকে কেওড়া গাছের শ্বাসমূল লক্ষ করা যায়, এই বন সমুদ্রের অনেকটা ভেতর পর্যন্ত চলে গেছে। এখানে পাওয়া যাবে সোয়াম্প ফরেস্ট ও ম্যানগ্রোভ বনের মত পরিবেশ। গুলিয়াখালি সৈকতকে ভিন্নতা দিয়েছে সবুজ গালিচার বিস্তৃত ঘাস। 


সাগরের পাশে সবুজ ঘাসের উন্মুক্ত প্রান্তর নিশ্চিতভাবেই আপনার চোখ জুড়াবে। বীচের পাশে সবুজ ঘাসের এই মাঠে প্রাকৃতিক ভাবেই জেগে উঠেছে আঁকা বাঁকা নালা। এইসব নালায় জোয়ারের সময় পানি ভরে উঠে। চারপাশে সবুজ ঘাস আর তারই মধ্যে ছোট ছোট নালায় পানি পূর্ণ এই দৃশ্য যে কাউকে মুগ্ধ করবে। অল্প পরিচিত এই সৈকতে মানুষজনের আনাগোনা কম বলে আপনি পাবেন নিরবিলি পরিবেশ। সাগরের এত ঢেউ বা গর্জন না থাকলেও এই নিরবিলি পরিবেশের গুলিয়াখালি সমুদ্র সৈকত আপনার কাছে ধরা দিবে ভিন্ন ভাবেই। চাইলে জেলেদের বোটে সমুদ্রে ঘুরে আসতে পারেন। এক্ষেত্রে বোট ঠিক করতে দরদাম করে করে নিতে হবে।


ব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি দূর করতে ঘুরে আসতে পারেন এ সৈকতে। বিশাল মাঠ আর কিছুদূর পর পর সারিহীন গাছের বাগান দেখতে পাবেন। এক পাশে সাগর আর অন্য পাশে কেওড়াবন এই সি বিচকে করেছে অতুলনীয়। বিচের পাড়ে বসে ছবি তোলা যায় কিংবা সূর্যাস্ত দেখা যায়।

 

 

কীভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে গুলিয়াখালী যাওয়ার ক্ষেত্রে অধিকাংশ ট্রেন সীতাকুণ্ডে থামেনা। সেক্ষেত্রে ঢাকা থেকে যেতে হলে প্রথমে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে আসতে হবে, তারপর চট্টগ্রাম থেকে সীতাকুণ্ড ও অবশেষে সীতাকুণ্ড থেকে গুলিয়াখালী। ঢাকা-চট্টগ্রাম যাতায়াতকারী আন্তঃনগরের বেশিরভাগই সীতাকুণ্ডতে থামে না। তবে কিছু লোকাল ও মেইল থামে। চট্টলা এক্সপ্রেস সীতাকুণ্ড থামে। অথবা ফেনী/চট্টগ্রাম থেকে নেমে যে কোন বাসে সীতাকুণ্ড নামতে পারেন। সেক্ষেত্রে সীতাকুণ্ড থেকে গুলিয়াখালীতে অটো বা সিএনজিতে আসতে হবে।


থাকা ও খাওয়া

থাকা ও খাওয়ার জন্য চট্টগ্রামই ভালো হবে। এ ছাড়া সীতাকুণ্ডতে বেশ কিছু আবাসিক হোটেল পাবেন। খাওয়া-দাওয়া ইত্যাদি উভয় স্থানেই সহজলভ্য।


পার্শ্ববর্তী দর্শনীয় স্পট 

চন্দ্রনাথ মন্দির/পাহাড়/ইকোপার্ক, মহাময়া ঝরনা, বাঁশবাড়িয়া সমুদ্রসৈকত কাছাকাছিই। এগুলো দেখতে পারেন।


পরামর্শ

ভ্রমণকে নিরাপদ করতে প্রয়োজনে ট্যুরিস্ট পুলিশের সাহায্য নিন। ভ্রমণ স্থানকে ময়লা ফেলে নোংরা করবেন না। নিজে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার বেপারে সচেতন হোন এবং অন্যকে সচেতন করার চেষ্টা করুন। জোয়ার ভাটার সময় জেনে নিন। জোয়ারের সময় হলে বীচের কাছে না থাকাই ভালো। পানির ঢেউ যখন বাড়বে বীচ থেকে চলে আসবেন। আর জোয়ারের সময় পানি উঠে নালা গুলো পূর্ণ হয়ে যায়। তখন পারাপার হতে সমস্যা হতে পারে। আর যেহেতু এটা পর্যটক বান্ধব বীচ নয়, তাই সমুদ্রে নামার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন। সাঁতার না জানলে বেশি দূর কখনো যাবেন না।