তরুণ-দম্পতির  উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার গল্প

তরুণ-দম্পতির  উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার গল্প
ছবি: সংগৃহীত
বর্তমানে আমার পিরোজপুর ডটকমের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত এ অঞ্চলের বিখ্যাত রসগোল্লাসহ কৃষকদের উৎপাদিত অর্গানিক সুগন্ধি কালোজিরা চাল, অর্গানিক মাল্টা ও শুটকি দেশের নানা প্রান্তে বিপণন করা হচ্ছে। ফলে এ অঞ্চলের কৃষকরাও তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন। 

তরুণ দম্পতি জি.এম. আদল এবং সিরাজুম মুনিরা। নিজেদের ব্যক্তিগত পরিচয়ের বাইরেও তৈরি করেছেন আরো এক পরিচয়। দুজনের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আজ তারা সফল উদ্যোক্তা। ই-কমার্সের এই যুগে আয়ের পথ খুঁজতে গিয়ে অনেকেই হয়ে ওঠেন সফল উদ্যোক্তা। তবে এই তরুণ দম্পতির উদ্যোগ, উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার গল্পে একটু ভিন্নতা তো রয়েছেই বটে। 

 

শিক্ষাজীবন থেকেই অন্যরকম কিছু করার চিন্তা করেন আদল ও মুনিরা। আর এমন চিন্তাভাবনা থেকেই তাদের হাত ধরে যাত্রা শুরু 'আমার পিরোজপুর ডট কম' এর।  তাদের এ যাত্রা শুরুর গল্প নিয়ে তারা বলেন,  ‘মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে গ্রাজুয়েশন করার উদ্দেশ্যে যখন আমরা ভার্সিটিতে যাওয়া শুরু করি, তখন বন্ধুরা অন্যদের মতো জিজ্ঞেস করতো আমাদের জেলা কোথায়? তখন যখন পিরোজপুরের নাম বলতাম—অনেকেই একবারে সঠিকভাবে চিনতো না। তখন থেকেই নিজের জেলাকে সবার মাঝে পরিচিতি করার একটি স্বপ্ন ছিল। সেই স্বপ্ন ও তাগিদ থেকেই আমার পিরোজপুর ডটকমের যাত্রা শুরু।’


একজন পড়াশোনা করেছেন ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে,  আর একজন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।  দীর্ঘদিনের ভালোবাসার সম্পর্ক শেষে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন তারা। দুজনেই ছিলেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকুরীজীবী। যদিও তা  নিয়ে তেমন একটা সন্তুষ্ট ছিলেননা দুজনেই। তার উপর আবার বাধ সাধল করোনা মহামারী। একইসাথে চাকরী হারায়নি বেকার হয়ে পড়েন দুজনেই। তবে হতাশ হননি কেউই। হাতে চাকরি থেকে আয় করা যে সামান্য পরিমাণ টাকা ছিল তা নিয়েই আমার পিরোজপুর ডটকমে পুরো দমে সময় দেওয়া শুরু করেন তারা। এবং খুব সময়েই  পৌঁছান সাফল্যের দৌড় গড়ায়।

 

আর এক্ষেত্রে নিজেদের বন্ধুবান্ধবদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এ দম্পতি। তারা বলেন, 'এক্ষেত্রে বন্ধুরা আন্তরিকভাবে এগিয়ে এসেছেন। তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। হয়ত তাদের কারণেই আজ আমাদের ভাগ্যের চাকা ঘুরেছে।’ 


ইতিমধ্যে দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৩৪ টির অধিক জেলার মানুষের কাছে আমার  পিরোজপুর.কম এর পণ্য পৌছাতে সক্ষম হয়েছে। তাদের লক্ষ্য  বিলুপ্তপ্রায় বিভিন্ন শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করা, মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা। এক্ষেত্রে তার কাজ করছে শীতলপাটি সহ বহু বিলুপ্তপ্রায় পণ্য নিয়ে।  

 

শুধু তাই নয় মাছ ও কৃষিনির্ভর জেলা পিরোজপুরকে এগিয়ে নিয়ে যেতে রয়েছে আরো অনেক উপায়। যেমন, এখানকার কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের মধ্যে মাল্টা ও কালোজিরা চাল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। পিরোজপুরকে মাল্টার স্বর্ণভূমি বলা হয়। পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক মানুষের জীবন-জীবিকা গড়ে উঠেছে নদীকে কেন্দ্র করে। রয়েছে অফুরান মাছের যোগান। এছাড়াও রয়েছে শত বছরেরও বেশি সময় ধরে সমাদৃত এ এলাকার রসগোল্লা । প্রবীণ বিশেষজ্ঞদের মতে রসগোল্লার আদি উৎপত্তিস্থল এই পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায়।


বর্তমানে আমার পিরোজপুর ডটকমের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত এ অঞ্চলের বিখ্যাত রসগোল্লাসহ কৃষকদের উৎপাদিত অর্গানিক সুগন্ধি কালোজিরা চাল, অর্গানিক মাল্টা ও শুটকি দেশের নানা প্রান্তে বিপণন করা হচ্ছে। ফলে এ অঞ্চলের কৃষকরাও তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন। 


আমার পিরোজপুর.কম কে এগিয়ে নিতে সহযোগী হিসেবে কাজ করছে পিরোজপুর জেলার  বিসিক,বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা),ইএসডিপি সহ আরো অনেকে।
এই উদ্যোগের উদ্যোক্তা জি, এম আদল এবং সিরাজুম মুনিরা দম্পতি  স্বপ্ন দেখেন ভবিষ্যতে আমার পিরোজপুর.কম দেশের অন্যতম একটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান হবে, জেলার শত বেকার তরুণের কর্মসংস্থান তৈরি হবে। শুধু তাই নয়  এ উদ্যোক্তা দম্পতি স্বপ্ন দেখেন আমার পিরোজপুর ডট কম এর মাধ্যমে সারা বিশ্বব্যাপী পিরোজপুর জেলাকে তুলে ধরার।