মিতাশার শখ থেকে স্বপ্ন, স্বপ্ন থেকে পেশা

মিতাশা রহমান খান
মিতাশা রহমান খান। সদ্যই ইডেন মহিলা কলেজ থেকে সাইকোলজি বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। নিজস্ব একটি ফ্যাশন হাউজ এবং রমণীদের হিজাব নিয়ে কাজ করছেন তিনি। এছাড়াও তার নিজস্ব আরেকটি উদ্যোগের নাম ফ্রেশ অ্যান্ড হেলথি। একইসঙ্গে তিনি অনলাইনে হিজাব শপ অনলাইন স্টোর নামে একটি ফেসবুক পেজ থেকেও হিজাব বিক্রি করে থাকেন এই নারী উদ্যোক্তা।

 

বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের অনেকেই এখন ঝুঁকছেন অনলাইন ব্যবসার দিকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ব্যবহার করে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস থেকে শুরু করে সাজসজ্জার কিংবা রান্নার উপকরণ, প্রায় সব কিছুই গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন তারা। পড়াশোনার পাশাপাশি ঘরে বসেই আয়ের এই উৎস থেকে তাই স্বাবলম্বী হচ্ছেন অনেকেই। তাদেরই একজন মিতাশা রহমান খান।

 

মিতাশার অনলাইন বিজনেসের যাত্রা শুরু হয় ২০১৪ সাল থেকে। যদিও শুরুটা সহজ ছিল না। অনেক বাধা-বিপত্তিকে দূরে ঠেলে শুরু করতে হয়েছে তাকে। তিনি জানান, আমাদের সামাজিক রীতিতে নারীদের জীবনটা স্বভাবতই সবাই মনে করে পুরুষতান্ত্রিক। আর নারীদের জীবনে তো শত বাঁধা বিপত্তি থাকেই। আমার জীবনও তার ব্যতিক্রম নয়। 

 

অনার্স প্রথম বর্ষে অধ্যয়নকালে শখের বসেই অনলাইন বিজনেস শুরু করেন মিতাশা। প্রায় একই সঙ্গে শুরু হয় তার সংসার জীবন। তিনি জানান, এই সমাজে মেয়েদের ঘরের কাজ ফেলে বাহিরে বা অন্যান্য কাজ করা মোটেও সহজ না। আমার পড়াশোনা এবং ঘরের কাজের ফাঁকে অবসর সময়ে কিছু করবো ভেবেই অনলাইনে আমার নিজস্ব ফেসবুকভিত্তিক একটি পেজ খুলে ফেললাম। আমার হাতে তৈরি কিছু কাজের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করেছিলাম। অনলাইন বিজনেসটা ছিল আমার শখ। ক্রমেই আমার এই শখের বিজনেসে রীতিমতো সাড়া দেখে স্বপ্ন দেখতে শুরু করি। পরে এই শখের স্বপ্ন পেশা থেকে নেশায়, ধ্যান-ধারণায় রূপ নেয়।

 

মিতাশা বলেন, আমার উদ্যোগের নাম ফ্রেশ অ্যান্ড হেলথি। যেখানে  আমি বিভিন্ন জেলার ঐতিহ্য বাহি খাবার সেল করি। আমি কুমিল্লা জেলায় জন্মেছ ,তাই আমার জেলার রসমালাই বিখ্যাত বলে রসমালাই  দিয়ে কাজ শুরু করেছিলাম।তারপর আস্তে আস্তে বগুড়ার দই, সিরাজগঞ্জের  ঘি, সুন্দরবনের মধু , ঘানি ভাঙা সরিষার তেল নিয়ে কাজ করি। আর সাথে আমার হাতে বানানো বালুসাই মিষ্টি যেটা আমার সিগনেচার আইটেম। আমার আরেকটি উদ্যোগ হিজাব শপ অনলাইন স্টোরে দেশীয় শাড়ি, হিজাব, জামা নিয়ে কাজ করি।

 

তিনি জানান, প্রথম দিকে সাধারণত তেমন একটা অনলাইন বিজনেসভিত্তিক পেজ ছিল না। খুব সামান্য পরিমাণ মূলধন নিয়েই পথচলা শুরু করি। কিছুদিন যেতেই আমার অনলাইন ভিত্তিক বিজনেসে দারুণ সাড়া পাই। পরে আমি আরও কিছু প্রোডাক্ট যুক্ত করি। অল্প দিনেই অভাবনীয় সাফল্যের জেরেই আমি এই বিজনেসকে পেশা হিসেবেই বেছে নেই। তারপর আমার হাতে তৈরি করা প্রোডাক্টের পাশাপাশি  উন্নত মানের কিছু প্রোডাক্ট ভারত থেকে নিয়ে আসি। বর্তমানে আমার হিজাব স্টোরে হিজাব ছাড়াও নারীদের নিত্য প্রয়োজনীয় সাজসজ্জার সামগ্রীসহ নারীদের সকল প্রকার ক্লথ, ওড়না, থ্রি-পিস ইত্যাদি বিক্রিসহ বিভিন্ন প্রোডাক্টের সার্ভিস দিয়ে থাকি। আমার অনলাইন পেজটি থেকে বিভিন্ন এক্সপার্ট বা প্রশিক্ষকের মাধ্যমে ভিডিও আকারে নারীদের সাজসজ্জা সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। 

 

সফলতার পেছনে স্বামীর ভূমিকাকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন মিতাশা। তিনি জানান, পাঁচ  বছরের বেশি সময় ধরে আমি এই অনলাইন বিজনেসের সাথে যুক্ত আছি এবং সবার কাছে পরিচিত হিসেবে দারুণ সফলতা পাচ্ছি। আমার এই সফলতার পেছনে আমার স্বামী এবং পরিবারের সমর্থন এবং সহযোগিতা ছিল বলেই আমি এত দূর আসতে পেরেছি। আমার  প্রোডাক্টগুলো ডেলিভারির ক্ষেত্রে গত ৫ মাস ধরে আমাদের নিজেদের কুরিয়ারের মাধ্যমে সাপ্লাই দেই। করোনাকালে যখন কুরিয়ার বন্ধ ছিল তখন আমার স্বামী একটি নিজস্ব  কুরিয়া কোম্পানি খোলেন। আর কুরিয়া কম্পানিটির নাম দেই আমাদের এক্সপ্রেস। আমাদের নিজস্ব প্রতিনিধিদের মাধ্যমে ডেলিভারি করে থাকি।এছাড়াও আমার নিজস্ব শো-রুমে এসেও প্রোডাক্ট ক্রয় করতে পারে। 

 

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ব্যাপারে জানতে চাইলে মিতাশা বলেন, ইচ্ছা আছে আমার ফ্রেশ অ্যান্ড হেলথির মাধ্যমে সবাই দেশের বিভিন্ন জেলার বিখ্যাত খাবারগুলো পাবে। আর ভবিষ্যতে আমার ড্রাই ফুডগুলা এক্সপোর্ট করবো। সেই কাজ চলছে এখন। আশা করি আমাদের দেশের মাটি ছড়িয়ে বাইরের দেশেও পৌঁছাবে আমার এই পণ্য।