খাতুনে জান্নাতের কয়েকটি কবিতা

প্রতীকী ছবি
আজ পাক্ষিক অনন্যায় খাতুনে জান্নাতের কয়েকটি কবিতা আপনাদের জন্য প্রকাশ করা হলো।

তৃষ্ণা ও চিঠি


বৃষ্টির লিরিকে লিখছি তোমাকে
কে তুমি হরিজন নাভিমূলে রেখে গেছ তৃষ্ণার কোলাহল।
এই জ্বর-জ্বর রাত টলছে।
পিদিমের সলতে উড়ে গেলে আঁধারের চারুবৃত্ত।
শ্রাবণে প্লাবনে কেতকী, কেয়া বনে দুলে উঠা আমলকী ছাদ।
বহুদূরে ঘুমিয়ে তিথী; বহুদূরে  প্রিয়তমের অপ্রিয় আখ্যান।
তোমাকে লিখছি চিঠি পাতার অক্ষর, ভ্যানগঘ নীলে
গম ক্ষেতের পাশে হুদহুদ ডেকে ওঠে  আহত যাপনকালে।
কোথাও রয়েছে ব্যথা হাজার বছরের,
বেলাভূমির  আলাপনে উষ্ণ হয়ে উঠা বদ্বীপ চরাচর-
কোথাও ছায়া নড়ে, বেদনার আলপিন।
পাহাড়ের খাড়াইয়ে জংলী লতার ডেরা,
টুপ করে ঝরা বকফুল।
লিখছি ইচ্ছার দূত  সূর্যমুখী খামে।
স্নান শেষে ভেজা চুলে ময়ূরগন্ধী  কোরিওগ্রাফি।
তোমাকে লিখছি আমাজন পোড়া ছাইয়ে...

 

 

 

যত্ন

 


অতিথি পাখির নামে টিপসই দিয়ে
ফিরে আসো দ্রুতগামী ট্রেন
স্লিপারে পায়ের কাদা মুছে শব্দাতুর হও রেলওয়ে স্টেশন
তুমি পেন্টাগন ; নিজেই কর নিজের অপরাধ চুরি
ধুলা উড়বে বলে জল ঢেলে খালি কর নদী
কতটা ভরন্ত হলে তুমি ডুবে যাবে-
ডুবে যাবে জল ডুবডুব পাখি?
কেউ জানে না তোমার উড়াল যত্ন করে রাখি...

 

 

 

নামের গভীরে জ্যোতি

 

 

একটি নাম লিখতে লিখতে লিখে ফেলি মায়া
গুঞ্জনে গুঞ্জনে পোয়াতি হয় পয়মন্ত সময়
আয়ু বাড়ায় জ্যোতি ও সংগ্রাম
প্রজাপতি হারিয়ে গেছে শূককীট বনে
বনের গভীরে প্রলম্বিত মনের বাহু ও আলোছায়া
এ আমি নদী পাড় ভেঙে চলছি প্লাবনের খর পূর্ণতায়
এ আমি জটাজালে আবৃত সামাজিক আয়ু
এ আমি রজকিনী প্রতীক্ষিত হাজার বছর
একটি নাম লিখতে লিখতে লিখে ফেলি গান
একটি নাম খুঁজতে খুঁজতে পেয়ে যাই নির্বাণ...

পুরনো সিন্দুকে জমানো বইয়ের ন্যাপথলিন মাখতে মাখতে
একটি পারিজাত গল্প হয়ে যাই,
ছন্দের বারান্দায় অলঙ্কার,অনুপ্রাস ও বিন্যাস;
নামের কিনারে লেখা থাকে ইতিহাস!

 

 

 

বৃষ্টিমুখ

 


ভেসে যায় কান্না ;
অপরিচিত ঝনাৎকারে পড়ে থাকা কাৎরা কাৎরা
সহগামী কম্পন,
জাগ্রত শিল্প,
অনুরণনের পাঠশালা ছুঁয়ে-
ফাৎনা কাঁপিয়ে চলছে বৃষ্টি ঝমঝম…

কদম ফুলের নিমগ্নতা
অস্তিত্বের রোয়াওঠা উঠুনের স্রোতে...

 

অসুখ ও আমাদের মাঝে বৃষ্টি প্রাচীর
চুপিসারে তোমার কণ্ঠ ভাবালুতার মিষ্টি রিমঝিম
সন্তানের চোখের মতো আগ্রহী ভোর
মায়ের চোখে শুভ হোক নন্দন কালের গল্প,
হাতে ভেজা-পাতার চিঠি
গন্ধরাজ মুখ যেন কবিতার সিম্পনি
ক্রন্দনের দাগ-মোছা গীতালি বাতাস..

 

মহাশূন্যতার কোল ভারী করে বেঁচে থাকার আগামী,
বৌদ্ধবিহার, শালগ্রাম, পাহাড়পুরের ইতিকথা;
বৃষ্টিতে মিশে থাকে দ্রাবিড় জীবন-
ফসলের আদিবাসে লেখা মনুষ্য ইতিহাস...

 

 

 

ভোর ও পিপাসা

 

পাতাদের মান ভাঙেনি বলে ও পথ মাড়াই না।
ঝরা ফুলেরা ঝরুক মিশে যাবার প্রত্যয়ে।
লাঙলচষা ক্ষেত, শামুক কুড়ানো দিন,
বিরহী  গোধূলি মিশে থাকি  তোমার হাসিতে...

 

মুঠোতে ধান তোলার গান।  
মনভারকরা পানসি  ছুঁয়ে থাকো চঞ্চল প্রিয়তম ভোর আমার।
ডাহুক পাখিরা নেমে পড়েছে সদ্য উপছে-পড়া তোমার গা বেয়ে।
হলদে বউ, শালিক, দোয়েল, মুনিয়া গাইতে গাইতে শান্ত এখন।
কুঁয়াশাভেজা পা গুটি গুটি ঢেউয়ে ধুয়ে নেবে রাত্রির শিথিলতা।
নটে শাক দিগন্ত ছুঁতে চেয়ে কার পায়ে দলিত...

 

দাঁতের  ব্যথায় ককানো বিকেলবেলা, ক্রন্দসী বাউল গীত।
ঝড়ের আগাম সংকেতে পিঁপড়েরা বেরিয়ে আসে।
উড়ে ঝিঁঝিঁ, ডানাওয়ালা উই।
আহা সঞ্চিত ধন ফুরোয়, পুড়েই যায় স্নেহবতী কাল।
কেবল নখে লেগে থাকে জ্যোৎস্নার দাগ...