চাঁদে প্রথম পা রাখবেন কোন নারী

চাঁদে প্রথম পা রাখবেন কোনও নারী
চাঁদে প্রথম পা রাখবেন কোনও নারী
নাসা জানিয়েছে, ২০২৪-এ চাঁদে যাওয়ার যে তোড়জোড় শুরু করছেন তারা, সেই আর্তেমিস মিশনেরই নেতৃত্ব দেবেন যিনি, তিনিও একজন নারী। ওই বিজ্ঞানীর নাম ক্যাথি লুয়েডার্স।

বর্তমান যুগে নারীরা পারেন না এমন কোনও কাজ নেই। প্রযুক্তির যুগেও নারীরা যে পুরুষদের সমকক্ষ, তা বারে বারে প্রমাণ করে দিচ্ছে। এমন কি মহাকাশ গবেষণায় নারীদের অবদান দিন দিন উল্লেখযোগ্য হয়ে উঠছে। নারী মহাকাশচারীরা একের পর এক সাফল্যের ধারাবাহিকতার নজির গড়ে চলেছে। এবারে পুরুষদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে প্রথমবার চাঁদের মাটিতে পা রাখতে চলেছেন কোনও এক নারী। ২০১৯ এর জুলাইয়ে সি এন এন টিভি চ্যানেলে এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন মহাকাশ গবেষণার সংস্থা ‘নাসা’ অ্যাপোলো-১১ এর চন্দ্রাভিযানের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আনুষ্ঠানিক ভাবে একথা ঘোষণা করেছে। ২০২৪ সালে একজন নারী ও একজন পুরুষ চাঁদের মাটিতে পা রাখবেন। নিঃসন্দেহে এটাও মানবসভ্যতাকে আরও অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে। রচিত হবে মানুষের চন্দ্রাভিযানের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়।

 


১৯৬৯ সালে ২১ শে জুলাই চাঁদের মাটিতে প্রথম পা রেখেছিলেন নীল আর্মস্ট্রং। তাঁর নামার ১৯ মিনিট পরে নামেন সহযাত্রী এডউইন বাজ অ্যালড্রিন। তৃতীয় সহযাত্রী মাইক কলিন্স কিন্তু নামেননি। তিনি মহাকাশযান অ্যাপোলো-১১ ভিতরেই ছিলেন। চাঁদে পা রেখেই আর্মস্ট্রং বলেছিলেন-‘ওয়ান স্মল স্টেপ ফর আ ম্যান, ওয়ান জায়েন্ট লিপ ফর ম্যানকাইন্ড’। প্রায় আড়াই ঘন্টা তাঁরা চাঁদের মাটিতে ছিলেন। তারপর তাঁরা ২৪শে জুলাই ফিরে এসেছিলেন পৃথিবীতে। সেই ঐতিহাসিক অভিযানের পর ১৯৬৯ থেকে ১৯৭২ এর মধ্যে আরও পাঁচটি (অ্যাপোলো-১২, অ্যাপোলো-১৪, অ্যাপোলো-১৫, অ্যাপোলো-১৬ এবং অ্যাপোলো-১৭) চন্দ্রাভিযানে আর্মস্ট্রং ও অ্যালড্রিনকে বাদ দিলে ১০ জন (মোট ১২ জন) মহাকাশচারী চাঁদের মাটিতে পা রেখেছেন। এদের সবাই ছিলেন পুরুষ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। উল্লেখ্য শেষ চন্দ্রপৃষ্ঠে হেঁটেছিলেন অ্যাপোলো-১৭-র অভিযাত্রী জিন কারনান। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোন নারীর পক্ষে সেই সুযোগ হয়নি। এবার নারীর স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে। এতদিন পর্যন্ত মহিলা মহাকাশচারীদের শুধু মহাকাশে ঘুরিয়ে আনা হয়েছে। ২০১৯-এর ডিসেম্বরের শেষ তথ্য অনুযায়ী আজ পর্যন্ত মোট ৫৬৫ জন মহাকাশ সফরকারীর মধ্যে ৬৫ জন হলেন নারী। রাশিয়ার দক্ষ প্যারাসুটবিদ ভ্যালেন্তিনা তেরেসকোভা প্রথম নারী যিনি মহাকাশে পাড়ি জমান। দিনটি ছিল ১৯৬৩ সালের ১৬ জুন।

 

 

মহাকাশযান ‘ভোস্তক-৬’-এ চেপে তিনি ৪৮ বার পৃথিবী প্রদক্ষিণ করেন। এরপর আবার কোন নারী পৃথিবী ছেড়ে মহাকাশে যেতে সময় লেগেছিল ২০ বছর। স্তেভলানা সভিৎস্কায়াও রুশ নাগরিক। ১৯৮২ সালে সোয়ুজ টি-৭ অভিযানে যান তিনি। মহাকাশে প্রথম মার্কিন নারী হলেন স্যালি রাইড। তিনি মহাকাশযান এস, টি, এস-৭-এ ১৯৮৩-র ১৮ জুন মহাকাশের উদ্দেশ্যে পাড়ি দেন।


২০২৪-এর চন্দ্র অভিযান আগের অ্যাপোলো অভিযানের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। এই অভিযানের প্রধান বৈশিষ্ট হল –এই প্রথম একজন নারী চাঁদে যাবেন। আর এই প্রথম চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছে শ্যকলেটন ক্র্যাটারের কাছাকাছি অবতরণ করে পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ চালানো হবে। তারা চাঁদের অদেখা জায়গাগুলো ঘুরে দেখবেন। সেখান থেকে মহাকাশ নিয়েও গবেষণা চালাবেন তারা। যন্ত্রের বদলে মানুষ নিজে গেলে পৃথিবীর একমাত্র প্রাকৃতিক উপগ্রহ সম্পর্কে আরো বেশি তথ্য জানা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। কিন্তু কেন এই দক্ষিণ মেরুতে অভিযান? আগে মনে করা হত, চাঁদ পুরোপুরি শুকনো। কিন্তু এখন জানা গিয়েছে, চাঁদে বরফ আছে, সেটাও সাউথ পোলে। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার চিফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটর জিম ব্রিডেনস্টাইন জানিয়েছেন-চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে জমে থাকা ‘ওয়াটার আইস’ থেকে সস্তায় রকেটের জ্বালানি তৈরি করার কাজ চলবে। আর এটা করা গেলে পৃথিবী থেকে রকেটের জন্যে বাড়তি জ্বালানি বহন করে নিয়ে যেতে হবে না এবং চান্দ্র অর্থনীতির একটা ভিত তৈরি করবে। তাছাড়া আরও একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল-এই অভিযানের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে মঙ্গলগ্রহে মানুষের অবতরণের প্রাথমিক প্রস্তুতি পর্ব সারবে নাসার বিজ্ঞানীরা। এছাড়াও চাঁদের মাটিতে মঙ্গল অভিযানের ঘাঁটি করাও নাসার অন্যতম উদ্দেশ্য। ব্রিডেনস্টাইন আরও জানিয়েছেন, ৫০ বছর আগে আর্মস্ট্রং আর অ্যালড্রিনের মতো খুব অল্প সময়ের জন্য এবার চাঁদের বুকে পা পড়বে না মানুষের। পাক্কা সাতদিন ধরে চাঁদের মাটিতে হাঁটাহাঁটি, নুড়ি-পাথর কুড়নো ও নানা ধরণের গবেষণা চালাবেন নারী ও পুরুষ মহাকাশচারীরা। পৃথিবী থেকে চাঁদে যেতে আর্মস্ট্রংদের লেগেছিল তিনদিন। বর্তমানে প্রযুক্তি এগিয়ে গিয়েছে অনেকটাই। তাই এবার আড়াই দিনেই পা ছোঁয়ানো যাবে চাঁদের মাটিতে।


চাঁদে প্রথম নারী অভিযাত্রী নিয়ে নাসা যে চন্দ্র অভিযানের প্রকল্প বা মিশন গঠন করেছে, তার নামকরণ করা হয়েছে গ্রিক পুরাণের চাঁদের দেবী ‘আর্তেমিস’-এর নামে। অ্যাপোলো ও আর্তেমিস দুই যমজ ভাইবোন। দু’জনেই গ্রিক দেবতা জিউসের সন্তান। তবে অ্যাপোলো সূর্য, আলো এবং জ্ঞানের দেবতা। আর আর্তেমিস চাঁদ ও বন্যপ্রাণির দেবী। চাঁদে প্রথম নারী অভিযাত্রীকে পাঠানোর জন্যে এই অভিযানের নাম তাই দেওয়া হয়েছে তাঁরই নামে---‘আর্তেমিস মিশন’। এমনকি যে চন্দ্রযানে চেপে তাঁরা চাঁদে যাবেন তার নামও রাখা হয়েছে ‘আর্তেমিস’।

 

 

আর এই প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ২৮০০ কোটি মার্কিন ডলার, বাংলাদেশী টাকায় যার পরিমাণ প্রায় ২ লক্ষ ৩৭ হাজার ৩৭২ কোটি টাকা। নাসা তার এই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসাবে এই দশকের শেষ দিকে নভোচারীদের জন্য চাঁদের কক্ষপথের কাছাকাছি ‘আর্তেমিস বেসক্যাম্প’ (স্পেশ স্টেশন) নামে একটি ক্যাম্প তৈরি করবে যেখানে চাঁদে দীর্ঘমেয়াদি অভিযান চালানোর জন্য সমস্তরকম পরিকাঠামো থাকবে। এই বেস ক্যাম্প তৈরি হয়ে গেলে চাঁদে গিয়ে চারজন মহাকাশচারী সাত থেকে ৪৫ দিন বসবাস করতে পারবে। এই আস্থানা থাকবে পৃথিবী থেকে আড়াই লক্ষ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে। ব্রিডেনস্টাইন আরও বলেছেন, তারা চেষ্টা করছেন ২০২৮ এর মধ্যে চাঁদকে মানুষের বাসযোগ্য করে তুলতে। যাতে সেখান থেকে মহাকাশ গবেষণা আরও ভালোভাবে করতে পারেন বিজ্ঞানীরা। তাঁদের পরিকল্পনা রয়েছে চাঁদকে স্টপ ওভার স্টেশন বা পা রাখার জায়গা করে সেখান থেকে আরও সহজে মঙ্গলগ্রহে অভিযান করা।

 


নাসার এই আর্তেমিস মিশনের কাজ চলবে ধাপে ধাপে কয়েক বছর ধরে। এই অভিযানে মহাকাশযানের দুটি অংশ থাকবে। একটি হল শক্তিশালী ‘স্পেস লঞ্চ সিস্টেম’ (এস, এল, এস)। এটি একটি রকেট, এটি উৎক্ষেপণ করবে। আর নভোচারীরা অ্যাপোলোর মতো একটি ক্যাপসুলে ভ্রমণ করবেন, যেটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ওরিয়ন’। ওরিয়নের চারটি ইঞ্জিন ইতিমধ্যে চূড়ান্ত পর্যায়ের পরীক্ষা করা হয়ে গিয়েছে। এরপর ওই ইঞ্জিনগুলির ‘হট ফায়ার টেস্ট’ (প্রচণ্ড তাপমাত্রাতেও যাতে গলে না যায়) হবে। এই টেস্টের পরই ওরিয়ন-এর কোর স্টেজটি (ভেতরের অংশ) পাঠানো হবে ফ্লোরিডার নাসার কেনেডি স্পেস সেন্টারে। তাকে মহাকাশযানের মূল অংশের সঙ্গে জোড়া হবে। তারপর এস, এল, এস এবং ওরিয়নকে পরীক্ষামূলক ভাবে একই সঙ্গে ২০২১-এর নভেম্বর মাস নাগাদ পাঠানো হবে চাঁদের কক্ষপথে। প্রদক্ষিণ করতে করতে লক্ষ্য রাখা হবে মহাকাশচারীদের জন্য ‘লাইফ সাপোর্ট সিস্টেম’ ঠিকঠাক ভাবে কাজ করছে কিনা। এটাই হবে আর্তেমিস মিশনের (আর্তেমিস মিশন-১) প্রাথমিক বা প্রথম ধাপ। সেই অভিযানে কোন মহাকাশচারী থাকবেন না। তার দু’বছর পর ২০২৩-এ হবে আর্তেমিস-২ মিশন। অভিযানে মহাকাশযানে থাকবেন একজন পাইলট মহাকাশচারী। তবে তিনি মহাকাশযান থেকে বেরবেন না। ব্রিডেনস্টাইন জানিয়েছেন, আর্তেমিস-২ অভিযানে চাঁদের কক্ষপথে এস, এল, এস রকেট থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর ওরিয়ন মহাকাশযানটি চালাবেন এক পাইলট মহাকাশচারী। এরপর ২০২৪-এ শুরু হবে সেই ঐতিহাসিক আর্তেমিস-৩ মিশন। এই অভিযানে ওরিয়ন মহাকাশযান, এস, এল, এস রকেট থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নভোচারীদের নিয়ে চাঁদের মাটিতে নামবে। যার দিকে তাকিয়ে আছে গোটা বিশ্ব। অপেক্ষায় দিন শুধু যে নাসার বিজ্ঞানীরাই গুনছেন তা একেবারেই নয়। দিন গুনছেন তামাম বিশ্ববাসী।


এখন লাখ টাকার প্রশ্ন হল, কে হবেন সেই সৌভাগ্যবতী চাঁদের রাণী যিনি প্রথম চাঁদে পা রাখবেন? এ ব্যাপারে নাসা কিন্তু এখনও পর্যন্ত বেছে নেওয়া দুই মহাকাশচারীদের নামধাম খোলসা করে কোন কিছু জানাননি। তবে ব্রিডেনস্টাইন বলেছেন, ২০২৪-এ চাঁদের বুকে প্রথম পদচারণা করবেন যে নারী তিনি হবেন “এমন একজন যার মহাকাশ ভ্রমণে অভিজ্ঞতা আছে, যিনি ইতিমধ্যেই কোন আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে গেছেন।“ পৃথিবীর বাইরে নারীপুরুষ উভয়েরই নানারকম শারীরিক অসুবিধে হতে পারে। একথা সবসময় মাথায় রাখতে হয় নির্বাচকদের। তাই তারা জোর দেন অভিজ্ঞতার উপর। প্রশিক্ষণের সময় তাঁরা যে মাটির স্পর্শে আছে, এই অনুভূতি তাদের মানসিক কাঠামোকে স্বস্তিতে রাখে। কিন্তু যখন তারা মহাকাশে পাড়ি দেয়, তখন তাদের মহাকাশযানে বহুক্ষণ কাটাতে হয় অতি স্বল্প পরিসর স্থানে এবং সীমিত সংস্থানের মধ্যে। এর থেকে তাদের মধ্যে নানারকম হতাশা, ভয়, ঘুমের ব্যাঘাত, একাকীত্ব, গতি অসুস্থতা এবং মানসিক বৈকল্য ঘটতেই পারে। এছাড়া কারও কারও ক্ষেত্রে দেহের হাড়ে ক্যালসিয়ামের মাত্রা অসম্ভব কমে যেতে পারে। নানারকম মহাজাগতিক বিকিরণের প্রভাবে বন্ধ্যাত্বও দেখা দিতে পারে। তাই সম্পূর্ণ তৈরি হয়েই চন্দ্রযান আর্তেমিস উড়ান ধরবেন দুই ভাবী মহাকাশচারী। 


সমস্ত দিক বিচার বিবেচনা করে নাসা ইতিমধ্যে ১২ জন নাসায় কর্মরত নারী মহাকাশচারীকে তাদের পছন্দের তালিকায় রেখেছেন। তাদের মধ্যে থেকেই একজন হতে পারেন সেই সৌভাগ্যবতী। ওই ১২ জনের বয়স ৪০ থেকে ৫৩। তাদের মধ্যে কেউ সাবেক সামরিক পাইলট, কেউ ডাক্তার আবার কেউ বিজ্ঞানী। তবে নতুন কোন নারী মহাকাশচারীকে চাঁদে যাওয়ার জন্যে বেছে নেওয়া হবে কিনা, তার সম্ভাবনা কিছুটা ক্ষীণ বলা যেতে পারে। তবে নভোচারী হওয়ার জন্যে স্নাতক পর্যায়ে এবছরে যারা সফলভাবে প্রশিক্ষণ সমাপ্ত করেছেন তাদের মধ্যে ছয় জন নারী আছেন। হতে পারে তাদের মধ্যে কেউ একজন ইতিহাস গড়তে পারে বা নাও পারে। বিভিন্ন জনের মুখে অনেকেরই সম্ভাব্য নাম ঘোরাফেরা করছে। যেমন রয়েছেন অ্যানা ম্যাকক্লেইন। সেনাবাহিনীর সাবেক নারী সেনা ও একজন হেলিকপটর পাইলট। ২০২০ সালের মাঝামাঝি তিনি মহাকাশ স্টেশনে পাড়ি দিয়েছেন। এছাড়া রয়েছেন ক্রিস্টিনা কচ, যিনি দীর্ঘ একটানা ৩২৮ দিন ধরে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে কাটিয়ে বিশ্বরেকর্ড করেছেন। আরও দু’জনের নাম উঠে আসছে। এই দু’জন হলেন জীববিজ্ঞানী জেসিকা মীর ও পাইলট নিকোলম্যান। তবে কার ভাগ্যে যে শিকে ছিঁড়বে তা আগাম বলা যাচ্ছে না। যোগ্য তো অনেকেই। শেষমেষ কোন নারী চাঁদে পা দেবেন, তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন নাসা যা আজও গোপনীয়।


তবে যেটা গোপনীয় নয়, সেটাও কিছুটা অবাক হাওয়ার মতো খবর। নাসা জানিয়েছে, ২০২৪-এ চাঁদে যাওয়ার যে তোড়জোড় শুরু করছেন তারা, সেই আর্তেমিস মিশনেরই নেতৃত্ব দেবেন যিনি, তিনিও একজন নারী। ওই বিজ্ঞানীর নাম ক্যাথি লুয়েডার্স।

 

 

নাসার ইতিহাসে এই প্রথম কোনও নারী ‘হিউম্যান স্পেস ফ্লাইট’ এর নেতৃত্ব দেবেন। ক্যাথি মহাকাশে কমার্শিয়াল ক্রূ এবং কমার্শিয়াল কার্গো প্রোগ্রাম, উভয়েই সফলভাবে পরিচালনা করতে সক্ষম। তাই ২০২৪-এ চাঁদে মহাকাশচারীদের যে দলটি যাবে তার নেতৃত্বের জন্যে ক্যাথিকে বেছে নেওয়া হয়েছে। ১৯৯২ সালে ক্যাথি নাসায় মহাকাশ বিজ্ঞানী হিসাবে যোগ দেন।

 


মহাকাশ অভিযান মিশনে নেতৃত্ব দেওয়া বা চাঁদে পাড়ি জমানো কিছুটা ঝুঁকির বিষয় হলেও, নাসার কাছে তা অসম্ভব নয়। তবে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও নাসার অভিযানে যোগ দিতে মার্কিন নারীদের কিছুটা বেগ পেতে হয়েছিল। আসলে সমান অধিকারের কথা মুখে যতই বলা হোক না কেন অধিকার আদায় করেই সমান অবস্থানে যেতে হয় প্রতিটি নারীকে। ব্যাতিক্রম চন্দ্র-মুখীদের ক্ষেত্রেও নয়। দেশ, কাল, শিক্ষা ও সংস্কৃতি কোন কিছুই এর ঊর্দ্ধে নয়।

 


ছবিতে যে বারো জন নারী আছেন তারা প্রত্যেকেই নাসায় কর্মরত নারী মহাকাশচারী। উপরের সারিতে (বাঁ দিক থেকে) অ্যান ম্যাকক্লেইন, ক্রিস্টিনা কচ, জিনেট জে এপস, জেসিকা মীর, ক্যাথলিন রুবিন্স এবং মেগান ম্যাকআর্থর। নীচের সারিতে (বাঁ দিক থেকে) নিকোল অনাপু ম্যান, সেরেনা অউনন চ্যান্সেলর, শ্যানন ওয়াকার, স্টেফানি উইলসন, 
সুনীতা উইলিয়ামস এবং ট্র্যাসি ক্ল্যাডোয়েল ডাইসন (সূত্রঃ নাসা)। 

 


ছবিতে যারা আছেন তারা সবাই নভোচারী হবার জন্য স্নাতক পর্যায়ে ২০২০-তে সফলভাবে প্রশিক্ষণ শেষ করেছেন। তাদের মধ্যে যে ছয়জন নারী আছেন তারাও যে কেউ হয়ত ইতিহাস গড়তে পারেন। (সূত্রঃ নাসা)

 

 

 

 

অধ্যাপক কল্যাণ কুমার দে

হুগলি মহাম্মদ মহসিন কলেজ (স্থাপিত-১৮৩৬)

চুঁচড়া, হুগলি-৭১২১০১

পশ্চিমবঙ্গ, ভারতবর্ষ