সাফল্য

ফেসবুকের বাংলাদেশ অংশ দেখবেন বাংলাদেশের দিয়া

Diya
সাবহানাজ রশীদ দিয়া
গত এপ্রিল মাস থেকেই সাবহানাজ রশীদ দিয়া ফেসবুকের বাংলাদেশ বিষয়ক পাবলিক পলিসি ম্যানেজার হিসাবে কাজ করছেন। তবে চলতি মাসের ৬ তারিখ তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি অনলাইন মিটিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। বাংলাদেশের পাবলিক পলিসি ম্যানেজারের পাশাপাশি ফেসবুকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চল টিমের একজন সদস্য হিসাবে কাজ করছেন তিনি।

বিশ্বে অন্যতম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের বাংলাদেশ বিষয়ক কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে এক বাংলাদেশিকে। সম্প্রতি সাবহানাজ রশীদ দিয়া নামে এক তরুণীকে ফেসবুকের বাংলাদেশ সংক্রান্ত বিষয়গুলো দেখাশোনার জন্য নিয়োগ দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

 

গত এপ্রিল মাস থেকেই সাবহানাজ রশীদ দিয়া ফেসবুকের বাংলাদেশ বিষয়ক পাবলিক পলিসি ম্যানেজার হিসাবে কাজ করছেন। তবে চলতি মাসের ৬ তারিখ তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি অনলাইন মিটিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। বাংলাদেশের পাবলিক পলিসি ম্যানেজারের পাশাপাশি ফেসবুকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চল টিমের একজন সদস্য হিসাবে কাজ করছেন তিনি।

 

সাবহানাজ রশীদ দিয়া বাংলাদেশি একজন লেখক এবং কম্পিউটেশনাল সমাজবিজ্ঞানী। তিনি বৈশ্বিক প্রযুক্তির বিকাশ এবং অর্থনৈতিক নীতির মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা করেন। সময় কাটান সিয়াটল, সানফ্রানসিসকো এবং ঢাকায়। সাবহানাজ সক্রিয়ভাবে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক প্রকাশনাগুলোতে প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক উন্নয়ন নিয়ে লেখালেখি করেন।

 

ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে অর্থনীতি এবং ফিল্ম স্টাডিজে স্নাতক সম্পন্ন করেন দিয়া। এরপর স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন বার্কলের ইউনিভর্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া থেকে পাবলিক পলিসি (ফোকাসিং অন ডাটা সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি) বিষয়ে। বাংলাদেশের ইংরেজি পত্রিকা ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি, সহ-সম্পাদক এবং কলামিস্ট হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। তাঁর লেখা এবং সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছে ওয়ার্ড, পাবলিক পলিসি জার্নাল, দ্য হাফিংটন পোস্ট, আলজাজিরা, ঢাকা ট্রিবিউন, দৈনিক প্রথম আলো, দৈনিক ইত্তেফাক, দ্য ডেইলি সান এবং ইউথ কি আওয়াজে। ২০১০ সালে ফাউন্ড্রি ফটো সাংবাদিকতার জন্য তাঁকে মেমোরি অব আলেকজান্দ্রা বোলাত ফটো সাংবাদিকতা বৃত্তিতে ভূষিত করা হয়।

 

২০০৬ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগে সাবহানাজ ওয়ান ডিগ্রি ইনিশিয়েটিভ ফাউন্ডেশন নামে একটি সামাজিক উদ্যোগ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সেখানে ১৬ থেকে ২৫ বছর বয়সীদের প্রযুক্তির ব্যবহার করে পাবলিক সার্ভিস উদ্ভাবনগুলো বিকাশের জন্য পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করেছেন। সংস্থাটি বাংলাদেশে দু'শটিরও বেশি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে, যা এক লাখ ২০ হাজার লোককে প্রভাবিত করেছে এবং বিশ্বব্যাপী তরুণ ও প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য (যাদের মধ্যে ৬৫ শতাংশ নারী) পরামর্শদাতা হিসেবে তৈরি করেছে।

 

তিনি বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা, নাইজেরিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডিজিটাল এবং অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি, তথ্য বিশ্লেষণ এবং মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন, বিশ্বব্যাংক এবং গুগলের প্রযুক্তিসংক্রান্ত নীতিমালা সম্পর্কে পরামর্শক হিসেবেও কাজ করেছেন। আর এসব কাজের জন্য তিনি প্রচুর স্বীকৃতিও পেয়েছেন। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ইয়ুথ অ্যাকশন নেট লরেট গ্লোবাল ফেলো, ওয়ান ইয়াং ওয়ার্ল্ড অ্যাম্বাসেডর টু বাংলাদেশ, আশোকা ফেলো, দ্য এশিয়া ২১ ইয়াং লিডার এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইয়াং লিডার ইন পলিটিকস ও নিউ মিডিয়া। ২০১৩ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ওয়ান ডিগ্রি ফাউন্ডেশন সাবহানাজকে পুরস্কৃত করে সাভারের রানা প্লাজা ধসের পর ক্ষতিগ্রস্তদের উল্লেখযোগ্য বা অনুকরণীয় সহায়তা করার জন্য।

 

বাংলাদেশে প্রায় চার কোটি মানুষ ফেসবুক ব্যবহার করেন। এটি যেমন ব্যক্তিগত যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে, তেমনি ব্যবসার প্রয়োজনেও অনেকে এই মাধ্যমটিকে ব্যবহার করেন। এছাড়া, বাংলাদেশে ফেসবুকের নিজস্ব ব্যবসায়িক স্বার্থও রয়েছে। ফলে বেশ গুরুত্ব দিয়েই দেখা হচ্ছে বাংলাদেশ বিষয়ক একজন কর্মকর্তা হিসেবে সাবহানাজ রশীদের নিয়োগকে। ডাক ও টেলি যোগাযোগ মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, দিয়া বাংলাভাষী। বাংলাদেশ বিষয়ক যেকোনো বিষয়ে সে দ্রুত সাড়া দেবে এবং সমস্যার সমাধান করবে বলে ফেসবুকের সিঙ্গাপুর কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।