বৈজ্ঞানিকভাবে যেসব বিষয়ে এগিয়ে নারীরা

বৈজ্ঞানিকভাবে যেসব বিষয়ে এগিয়ে নারীরা
বৈজ্ঞানিকভাবে যেসব বিষয়ে এগিয়ে নারীরা
নারীদের ঘ্রাণশক্তি খুবই সূক্ষ্ম। নারীর নাক পুরুষদের তুলনায় বেশি সংবেদনশীল হওয়ায় যেকোনো কিছুর ঘ্রাণ খুব দ্রুত নিতে পারে তারা। এর কারণ হল নারীদের মস্তিষ্কের গন্ধকেন্দ্রের নার্ভে ক্রসসংযোগ পুরুষদের তুলনায় দ্বিগুণ বেশি থাকে। তাই তারা খুব দ্রুত কোন কিছুর গন্ধ নিতে সক্ষম।

সমাজে একসময় নারীরা ছিল অনেক পিছিয়ে। ঘরের এক কোণে কাটাতে হতো জীবন। শিক্ষা, মর্যাদায় স্থান নিচে দেয়া হতো নারীদের। কিন্তু এখন সময় পাল্টেছে অনেক। বর্তমানে অনেকক্ষেত্রেই নারী ও পুরুষকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে দেখা যায়। নারীদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আসছে। কিন্তু এখনো অনেকক্ষেত্রেই নারীদের চেয়ে পুরুষদের প্রাধান্যতা বেশি রয়ে গেছে। পরিবারে যেকোন সিদ্ধান্ত, মতামত নেয়ার ক্ষেত্রে নারীকে প্রাধান্যই দেয়া হয়না। কিন্তু আমরা অনেকেই জানিনা প্রকৃতিগতভাবেই কিছু কিছু বিষয়ে এগিয়ে আছে নারীরা যা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত। নারীর এই বৈশিষ্ট্যগুলো যেকোন সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর অংশগ্রহণ সিদ্ধান্তটিকে আরো উপযোগী করে তোলে। 

 


মস্তিষ্কের যেসব বিষয়ে এগিয়ে নারীরা
মানুষের বোধ শক্তির কেন্দ্র হচ্ছে মস্তিষ্ক। একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের থেকে একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারীর মস্তিষ্কের ওজন প্রায় ২০০ গ্রাম কম। পুরুষ মস্তিষ্কের কোষ সংখ্যাও নারী মস্তিষ্ক থেকে গড়ে চার শতাংশ বেশি। কিন্তু নারী মস্তিষ্কে স্নায়ুকোষের সংখ্যা এবং আন্তঃকোষীয় সংযোগ পুরুষ মস্তিষ্কের তুলনায় বেশি। রিজনিন ও নিউরোন এর মধ্যে যোগাযোগ সাধনে পারদর্শী নারী মস্তিষ্ক। যার ফলে পুরুষের তুলনায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারে নারীরা। আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ার আমেন ক্লিনিকস ইনকরপোরেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও মনোবিজ্ঞানী ড্যানিয়েল জি আমেন এক গবেষণায় মস্তিষ্কের ১২৮ টি অঞ্চল পর্যবেক্ষণ করে দেখেছেন প্রায় প্রতিটি অঞ্চলেই নারী মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালনের হার পুরুষদের তুলনায় বেশি। শরীরের কোন অঙ্গে রক্ত সঞ্চালন হার ওই অঙ্গের সক্রিয়তা প্রমাণ করে। সুতরাং নারীদের অঙ্গ সঞ্চলন ক্ষমতা বেশি।

 

আবার স্নায়ুসংযোগকারী নার্ভ পুরুষদের তুলনায় দশ গুণ বেশি থাকে নারীদের। তাই মানুষের সাথে যোগাযোগ রক্ষা এবং বাকশক্তি নারীদের বেশি। সিংগুলেট জাইরাস অংশ নারী মস্তিষ্কে বড় থাকায় নারীরা খুব দ্রুত এবং সঠিকভাবে স্মৃতি রোমন্থন করতে পারেন। নারী মস্তিষ্কের ডান ও বাম অংশের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনকারী কোষকলার সংখ্যা পুরুষদের তুলনায় চার গুণ বেশি। এর কারণে নারীরা সহজভাবেই একই সময়ে বিভিন্ন বিষয়ে মনোযোগ দিতে পারে আবার একই সময়ে বিভিন্ন কাজ করতে পারে। আবার নারী মস্তিষ্কে ‘লিম্বিক সিস্টেম’ এর আয়তন ও গভীরতা পুরুষ মস্তিষ্কের তুলনায় বেশি হয়ে থাকে। যার ফলে নারীরা বেশি আবেগপ্রবণ হয়।

 

নারীরা বেশিদিন বাঁচে  
পরিসংখ্যানে দেখা গেছে পুরুষদের তুলনায় নারীদের গড় আয়ু বেশি। ২০২০ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী পুরুষদের গড় আয়ু ৭০.৮ বছর যেখানে নারীদের গড় আয়ু ৭৫.৬ বছর। এর কারণ হিসেবে হরমোন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, অভ্যাস ও আচরণ এগুলোকে দেখা হয়েছে। এক্ষেত্রে নারীদের সেক্স হরমোন ইস্টোজেনকে বড় ভূমিকা পালন করতে দেখা যায়। ইস্টোজেন শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এনজাইমের কার্যকলাপ বাড়িয়ে দিয়ে বিষাক্ত রাসায়নিকগুলোকে সরিয়ে দেয়। এটি নারী রক্তনালীকে সুরক্ষা করে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। নারীর এ দীর্ঘায়ুর কারণে অনেকে নারীকে ‘কই মাছের প্রাণ‘ -এর সাথে তুলনা করেছেন। 

 

ঘ্রাণশক্তি বেশি নারীদের
নারীদের ঘ্রাণশক্তি খুবই সূক্ষ্ম। নারীর নাক পুরুষদের তুলনায় বেশি সংবেদনশীল হওয়ায় যেকোনো কিছুর ঘ্রাণ খুব দ্রুত নিতে পারে তারা। এর কারণ হল নারীদের মস্তিষ্কের গন্ধকেন্দ্রের নার্ভে ক্রসসংযোগ পুরুষদের তুলনায় দ্বিগুণ বেশি থাকে। তাই তারা খুব দ্রুত কোন কিছুর গন্ধ নিতে সক্ষম।

 

যেকোন ক্ষেত্রেই নারীকে পিছনে রাখার কোন কারণ নেই। সামগ্রিকভাবে দেখা যাবে কোন বিষয়ে হয়তো পুরুষ এগিয়ে আবার কোন বিষয়ে নারীরা এগিয়ে। তাই নারী-পুরুষের একসাথে কাজ করলেই সমাজ ও জাতির উন্নয়ন সম্ভব হবে। নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের সময় এখনই।