তেজপাতার গুণাগুণ

তেজপাতার গুণাগুণ
ছবি: সংগৃহীত
বেশি পানিতে তেজপাতা সেদ্ধ করুন। সেদ্ধ পানি ঠাণ্ডা করুন। তারপর সে পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। তেজপাতা সেদ্ধ ঠাণ্ডা পানি দিয়ে নিয়মিত মুখ ধোয়ায় ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ার পাশাপাশি ব্রণের জন্যও এটি উপকার করবে।

সৌন্দর্য চর্চায় আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে যুগ যুগ ধরে ব্যবহার হয়ে আসছে তেজপাতা। আমরা অনেকেই জেনে অবাক হবো, মশলা হিসেবে পরিচিতি থাকলেও সৌন্দর্য চর্চায় যুগ যুগ ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে এই তেজপাতা। আধুনিক বিজ্ঞানও এটা স্বীকার করে। ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে এটি।


এছাড়াও তেজপাতা থেকে পাওয়া তেল বিভিন্ন দামি পারফিউম তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া এর বাকল থেকে পাওয়া তেল সাবান তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। চলুন দেখে নেই ত্বকের যত্নে ও সৌন্দর্য চর্চায় তেজপাতার গুণাগুণ।

 

ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে  

 

তেজপাতার উদ্ভিজ্জ উপাদান ত্বকে বলিরেখা সৃষ্টির জন্য দায়ী ফ্রি র‌্যাডিক্যাল  নিষ্ক্রিয় করে দেয়। এর জন্য মুখে তেজপাতা সেদ্ধ করা পানির ভাপ নেয়া যেতে পারে । তেজপাতা সেদ্ধ করা পানির ভাপ অ্যান্টি এইজিং সলিউশন হিসেবে কাজ করে।

 

ত্বক উজ্জ্বল করতে

 

বিউটি ক্রিমের দৌরাত্ম্য শেষ হয়নি আমাদের জীবনে। কিন্তু ইতিমধ্যেই আমরা সৌন্দর্য চর্চায় ভেষজ উপাদানের সহায়তা নিচ্ছি ত্বক উজ্জ্বল করতে। তেজপাতা ত্বক উজ্জ্বল করতে সহায়তা করতে পারে। কীভাবে? বেশি পানিতে তেজপাতা সেদ্ধ করুন। সেদ্ধ পানি ঠাণ্ডা করুন। তারপর সে পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। তেজপাতা সেদ্ধ ঠাণ্ডা পানি দিয়ে নিয়মিত মুখ ধোয়ায় ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ার পাশাপাশি ব্রণের জন্যও এটি উপকার করবে।

 

শরীরের দুর্গন্ধ কমাতে 

 

তেজপাতার গুঁড়ো গরম পানিতে ভিজিয়ে স্নান করলে শরীরের দুর্গন্ধ কমে । কত কিছুই তো আমরা ব্যবহার করি শরীর থেকে দুর্গন্ধ তাড়াতে। এবার শরীরের দুর্গন্ধ কমাতে প্রায় বিনা পয়সার একটি টিপস দেওয়া যাক আপনাদের। রান্নার জন্য কেনা শুকনো তেজপাতা গুঁড়ো করে নিন। পরিষ্কার এক টুকরো কাপড়ে গুঁড়ো তেজপাতা দিয়ে পুঁটলি বাঁধুন। গুঁড়ো তেজপাতার সেই পুঁটলি কিছুক্ষণ ডুবিয়ে রাখুন কুসুম গরম পানিতে। তারপর সে পানি দিয়ে স্নান সেরে নিন। শীতে গরম পানিতে স্নান করার অভ্যাস আমাদের আছে। এ সময় এই টিপসটি কাজে লাগিয়ে দেখতে পারেন। একদিন তেজপাতা গুঁড়ো দিয়ে স্নান করলেই হবে না। এটা চালিয়ে যেতে হবে এক নাগাড়ে কিছুদিন।

 

খুশকি দূর করতে

 

আপনার প্রিয় ব্র্যান্ডের শ্যাম্পু ব্যবহার করুন, তাতে কোনো সমস্যা নেই। শুধু মাঝে মাঝে শ্যাম্পুর জায়গায় তেজপাতা সেদ্ধ করা ঠাণ্ডা পানি দিয়ে মাথা ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। এতে খুশকি দূর হওয়ার পাশাপাশি চুল পড়াও কমে যাবে। চুল পড়ে যাওয়া জায়গাগুলোতে তেজপাতার এসেনশিয়াল ওয়েল ব্যবহার করুন। তাতে চুল আর উঠবে না।

 

দাঁত উজ্জ্বল করতে

 

মাঝে মাঝে দাঁতে কাচা তেজপাতা ঘষে নিলে দাঁত উজ্জ্বল হয়। ব্রাশ তো প্রতিদিন করেনই। সেটা অব্যাহত রাখুন। নিয়ম করে মাঝে মাঝে দাঁতে কাচা তেজপাতা ঘষে নিন। কাচা তেজপাতা মাউথ ওয়াশ হিসেবেও কাজ করবে আপনার মুখে।