রূপচর্চায় রাইস ওয়াটার

রূপচর্চায় রাইস ওয়াটার
রূপচর্চায় রাইস ওয়াটার
রাইস ওয়াটার ক্লিনজার হিসেবে দারুণ কার্যকরী। রাইস ওয়াটারে কটন প্যাড ডুবিয়ে পুরো মুখে একবার বুলিয়ে নিন। মুখের উপরিভাগে জমে থাকা ময়লা দূর হবে। তবে মুখে মেক-আপ থাকলে যথাযথ মেক-আপ রিমুভারই ব্যবহার করুন।

আধুনিক রূপচর্চার জনপ্রিয় সামগ্রী রাইস ওয়াটার। কেন ব্যবহার করবেন এই বিশেষ উপাদান? কীভাবেই বা ব্যবহার করবেন? 

 

বর্তমানে রাইস ওয়াটার রূপচর্চার অত্যন্ত পরিচিত এবং কার্যকরী একটি উপাদান। টোনার, ক্রিম থেকে শুরু করে মিস্ট, প্যাক, ফেসওয়াশ ইত্যাদি বিভিন্ন প্রডাক্টেই আজ উপাদান হিসেবে রাইস ওয়াটারের নাম চোখে পড়ে। চালের প্রায় সব গুণই পাওয়া যায় এতে। তবে এই রাইস ওয়াটার কিন্তু সাধারণ চাল ধোওয়া পানি নয়। নির্দিষ্ট উপায়ে এটি তৈরি করতে হয়। পদ্ধতি অবশ্য খুবই সহজ। বাড়িতে সহজেই বানিয়ে নিতে পারেন। আতপ চাল, ব্রাউন রাইস বা সাধারণ বাসমতী চাল এক্ষেত্রে আদর্শ।

 

পরিমাণমত চাল বেশ খানিকটা পানি দিয়ে একবার ধুয়ে পরিষ্কার পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। যত বেশিক্ষণ ভিজিয়ে রাখতে পারবেন, ততই ভাল। পারলে এক-দু’দিন রেখে দিন। এতে পানি ফারমেন্ট (জারিত) হওয়ার সুযোগ পাবে। ফারমেন্টেড রাইস ওয়াটারই সবচেয়ে উপকারী। এরপর চাল ছেঁকে সাদা তরলটি বোতলে ভরে ফ্রিজে রেখে দিতে পারেন। সপ্তাহ খানেক ভাল থাকবে।

 

 

এছাড়া পানি সহ চাল ৫-৭ মিনিট ফুটিয়েও নিতে পারেন। তার বেশি ফোটাবেন না, সেক্ষেত্রে চালের বেশ কিছু গুণ নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এই পানি ছেঁকে ঠাণ্ডা করেও ফ্রিজে রেখে দিতে পারেন। এই উপাদান এক সপ্তাহের বেশি ব্যবহার করবেন না। যে পদ্ধতিতেই রাইস ওয়াটার বানান না কেন, একটি বিষয়ে অবশ্যই খেয়াল রাখবেন। রাইস ওয়াটারের নিজস্ব কোনও গন্ধ নেই। তাই ব্যবহার করার আগে দেখে নেবেন পানি থেকে কোনও দুর্গন্ধ পাচ্ছেন কি না। পেলে সেই পানি ব্যবহার করবেন না। তাতে স্কিন ইনফেকশন হতে পারে।

 

রাইস ওয়াটার এখন এতটাই জনপ্রিয় যে, এর গুণাগুণ সম্পর্কে কম-বেশি সকলেই অবগত। নিয়মিত তাই ত্বক আর চুলের যত্নে শামিল করতে পারেন রাইস ওয়াটার। সত্যি কথা বলতে, চালের গুঁড়োর থেকে রাইস ওয়াটার ব্যবহার করাও সহজ। সরাসরিও ব্যবহার করতে পারেন। আবার ফেসপ্যাক বা হেয়ার মাস্কে মিশিয়েও নিতে পারেন। সবরূপেই একইরকম জাদু দেখাবে রাইস ওয়াটার।

 

 

ক্লিনজার: রাইস ওয়াটার ক্লিনজার হিসেবে দারুণ কার্যকরী। রাইস ওয়াটারে কটন প্যাড ডুবিয়ে পুরো মুখে একবার বুলিয়ে নিন। মুখের উপরিভাগে জমে থাকা ময়লা দূর হবে। তবে মুখে মেক-আপ থাকলে যথাযথ মেক-আপ রিমুভারই ব্যবহার করুন।

 

ফেশিয়াল মিস্ট: সমপরিমাণে গোলাপজল এবং রাইস ওয়াটার মিশিয়ে স্প্রে বোতলে ভরে ফ্রিজে রেখে দিতে পারেন। রোদ থেকে ফিরে পরিষ্কার মুখে এই মিশ্রণ স্প্রে করুন। ত্বক উজ্জ্বল হবে এবং ট্যানও পড়বে না।

 

হেয়ার রিন্স: সাধারণ পানির পরিবর্তে চুল ধুতে পারেন রাইস ওয়াটার দিয়ে। সরাসরিও ব্যবহার করতে পারেন, আবার সঙ্গে ভিনিগার বা পাতিলেবুর রসও মিশিয়ে নিতে পারেন। অল্প রাইস ওয়াটার ব্যবহার করতে চাইলে প্রথমে সাধারণ পানি দিয়ে চুল ধুয়ে শেষবার রাইস ওয়াটার ব্যবহার করুন। চুল মসৃণ, কালো এবং চকচকে থাকবে দীর্ঘদিন।