আজ দশমী। শশীর মন আজ অনেক ভালো। দুপুর থেকেই অনেকটা সময় নিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে লাল শাড়ি, লাল টিপ আর মোটা সিঁদুরে নিজেকে সাজায় সে।
আজ দশমী। শশীর মন আজ অনেক ভালো। দুপুর থেকেই অনেকটা সময় নিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে লাল শাড়ি, লাল টিপ আর মোটা সিঁদুরে নিজেকে সাজায় সে।
অমিত বলেছে আজ ৫টার আগেই বাসায় ফিরবে তারপর সন্ধ্যায় শশীকে নিয়ে বের হবে। কোথায় কোথায় ঘুরবে, কখন মন্দীরে যাবে, রাতে কোন রেস্টুরেন্টে খাবে সব ভেবে রেখেছে শশী। দুপুরের পর থেকেই যেন সময় আর কাটেনা শশীর। দরজার পাশের দেয়ালে হেলান দিয়ে বসে বারবার তাঁকায় দরজার দিকে।
অমিত বলেছে আজ ৫টার আগেই বাসায় ফিরবে তারপর সন্ধ্যায় শশীকে নিয়ে বের হবে। কোথায় কোথায় ঘুরবে, কখন মন্দীরে যাবে, রাতে কোন রেস্টুরেন্টে খাবে সব ভেবে রেখেছে শশী। দুপুরের পর থেকেই যেন সময় আর কাটেনা শশীর। দরজার পাশের দেয়ালে হেলান দিয়ে বসে বারবার তাঁকায় দরজার দিকে।
তাঁকিয়ে থাকতে থাকতেই কলিংবেলটা বেজে ওঠে।
তাঁকিয়ে থাকতে থাকতেই কলিংবেলটা বেজে ওঠে।
অমিত সত্যিই এত জলদি চলে আসবে ভাবেনি শশী। খুশিমনে দরজা খোলে। কলেজের বান্ধবী অনিতাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে কিছুটা হতাশ হলেও আনন্দও হয় শশীর। অনেকদিন পর বান্ধবীর সঙ্গে দেখা।
অমিত সত্যিই এত জলদি চলে আসবে ভাবেনি শশী। খুশিমনে দরজা খোলে। কলেজের বান্ধবী অনিতাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে কিছুটা হতাশ হলেও আনন্দও হয় শশীর। অনেকদিন পর বান্ধবীর সঙ্গে দেখা।
অনিতাকে পেয়ে রাজ্যের গল্প শুরু হয়ে যায় দুজনের। পুরোনো দিনের নানান ঘটনা মনে করে হাসিতে আড্ডায় লুটোপুটি খায় দুজন।
অনিতাকে পেয়ে রাজ্যের গল্প শুরু হয়ে যায় দুজনের। পুরোনো দিনের নানান ঘটনা মনে করে হাসিতে আড্ডায় লুটোপুটি খায় দুজন।
আমসত্ত্ব খেতে খেতে অনিতা তার স্বামীকে নিয়ে নানান গল্প করে। একমাত্র বান্ধবী বেশ সুখে আছে জেনে ভালো লাগে শশীর।
আমসত্ত্ব খেতে খেতে অনিতা তার স্বামীকে নিয়ে নানান গল্প করে। একমাত্র বান্ধবী বেশ সুখে আছে জেনে ভালো লাগে শশীর।
গল্পের মাঝে বারবার কেমন উদাস হয়ে যায় শশী। কানদুটো তার কলিং বেলের দিকে। বিকেল হয়ে আসলো, এখনো এলো না অমিত।
গল্পের মাঝে বারবার কেমন উদাস হয়ে যায় শশী। কানদুটো তার কলিং বেলের দিকে। বিকেল হয়ে আসলো, এখনো এলো না অমিত।
অনেকদিন আলতা পরা হয়না। ছোটবেলায় দুই বান্ধবী ছাদে বসে প্রায়ই আলতা দিতো। আজ মনে করে এক শিশি আলতা নিয়ে এসেছে অনিতা। তাই নিয়ে মেঝেতে বসে পড়ে দুজন।
অনেকদিন আলতা পরা হয়না। ছোটবেলায় দুই বান্ধবী ছাদে বসে প্রায়ই আলতা দিতো। আজ মনে করে এক শিশি আলতা নিয়ে এসেছে অনিতা। তাই নিয়ে মেঝেতে বসে পড়ে দুজন।
আলতা নিয়ে আরো কিছুটা সময় চলে যায় শশীর। মনের ভিতর থেকে অন্ধকার মেঘের মত বারবার একটা ভাবনা উঁকি দেয়,
আলতা নিয়ে আরো কিছুটা সময় চলে যায় শশীর। মনের ভিতর থেকে অন্ধকার মেঘের মত বারবার একটা ভাবনা উঁকি দেয়, "অমিত যদি আজও অনেক রাত করে বাসায় ফেরে!"।
অনিতা হাত ধুতে ভেতরের ঘরে গেলে আবার দরজার দিকে তাঁকিয়ে থাকে শশী।
অনিতা হাত ধুতে ভেতরের ঘরে গেলে আবার দরজার দিকে তাঁকিয়ে থাকে শশী।
প্রায় সন্ধ্যা হয়ে আসে। দরজার সেই কাঙ্খিত কলিং বেল এখনো বাজেনা। দেয়ালে হেলান দিয়ে চাপা দীর্ঘশ্বাস ফেলে শশী।
প্রায় সন্ধ্যা হয়ে আসে। দরজার সেই কাঙ্খিত কলিং বেল এখনো বাজেনা। দেয়ালে হেলান দিয়ে চাপা দীর্ঘশ্বাস ফেলে শশী।
শত গল্পেও যখন সময় কাটেনা তখন বাগান দেখাতে অনিতাকে নিয়ে ছাদে যায় শশী।
শত গল্পেও যখন সময় কাটেনা তখন বাগান দেখাতে অনিতাকে নিয়ে ছাদে যায় শশী।
কিছুক্ষন ছাঁদে হাঁটাহাঁটি করে আঁচল ভরে পূজোর জন্য ফুল তোলে দুজন।
কিছুক্ষন ছাঁদে হাঁটাহাঁটি করে আঁচল ভরে পূজোর জন্য ফুল তোলে দুজন।
আঁচলের ফুলগুলোর দিকে তাঁকিয়ে ভাবে এই সময়টাতে তো অমিতকে নিয়ে মন্দীরে থাকার কথা ছিল শশীর। মন খারাপ করতে গিয়েও ভাবে এখনো তো সময় আছে, হয়তো অমিত একটু পরই চলে আসবে।
আঁচলের ফুলগুলোর দিকে তাঁকিয়ে ভাবে এই সময়টাতে তো অমিতকে নিয়ে মন্দীরে থাকার কথা ছিল শশীর। মন খারাপ করতে গিয়েও ভাবে এখনো তো সময় আছে, হয়তো অমিত একটু পরই চলে আসবে।
সন্ধ্যাপ্রদীপ জ্বালিয়ে অনিতাকে নিয়ে পূজোর প্রস্তুতি নেয় শশী। মনটা এখনো পড়ে আছে কলিং বেলের দিকেই।
সন্ধ্যাপ্রদীপ জ্বালিয়ে অনিতাকে নিয়ে পূজোর প্রস্তুতি নেয় শশী। মনটা এখনো পড়ে আছে কলিং বেলের দিকেই।
সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসে। প্রদীপ হতে আরতি করতে করতে আশায় বুক বাঁধে শশী। অমিত হয়তো যে কোন সময়ই চলে আসবে।
সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসে। প্রদীপ হতে আরতি করতে করতে আশায় বুক বাঁধে শশী। অমিত হয়তো যে কোন সময়ই চলে আসবে।
পূজো শেষ করে চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয় অনিতা। দরজায় দাঁড়িয়ে বান্ধবীকে জড়িয়ে ধরে বিদায় দেয় শশী।
পূজো শেষ করে চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয় অনিতা। দরজায় দাঁড়িয়ে বান্ধবীকে জড়িয়ে ধরে বিদায় দেয় শশী।
ঘরে ঢুকে ঠাকুরকে আরও একবার প্রণাম করে সেখানেই বসে থাকে শশী। অপেক্ষার প্রহর দুপুর গড়িয়ে, বিকেল ছাড়িয়ে, সন্ধ্যা পেরিয়ে, রাত হয়।
ঘরে ঢুকে ঠাকুরকে আরও একবার প্রণাম করে সেখানেই বসে থাকে শশী। অপেক্ষার প্রহর দুপুর গড়িয়ে, বিকেল ছাড়িয়ে, সন্ধ্যা পেরিয়ে, রাত হয়।
রাত দশটা বেজে দশ মিনিট। বিছানায় বসে শেষবার সময় দেখে শশী।
রাত দশটা বেজে দশ মিনিট। বিছানায় বসে শেষবার সময় দেখে শশী।
অবশেষে যেন অপক্ষার প্রহর শেষ হলো শশীর। প্রচন্ড রাগে টেনেটুনে গলার মালা, হাতের মালা সব খুলতে শুরু করে সে।
অবশেষে যেন অপক্ষার প্রহর শেষ হলো শশীর। প্রচন্ড রাগে টেনেটুনে গলার মালা, হাতের মালা সব খুলতে শুরু করে সে।
এই প্রথমবার না। কতকত দিন এমন অপেক্ষায় পার করেছে শশী তার কোন হিসেব নেই এখন আর। তারপরও এভাবে পথের দিকে চেয়ে কেন সারাদিন বসে থাকলো সে! ভেবে রাগে-জিদে সবকিছু ছিড়েছুড়ে ফেলতে ইচ্ছে করে শশীর।
এই প্রথমবার না। কতকত দিন এমন অপেক্ষায় পার করেছে শশী তার কোন হিসেব নেই এখন আর। তারপরও এভাবে পথের দিকে চেয়ে কেন সারাদিন বসে থাকলো সে! ভেবে রাগে-জিদে সবকিছু ছিড়েছুড়ে ফেলতে ইচ্ছে করে শশীর।
রাত ১১টা বেজে যায়। শশী বুঝতে পারে অমিত আজ আর বাসায়ই ফিরবেই না। প্রচন্ড অভিমানে বুক ফেটে কান্না পায় শশীর।
রাত ১১টা বেজে যায়। শশী বুঝতে পারে অমিত আজ আর বাসায়ই ফিরবেই না। প্রচন্ড অভিমানে বুক ফেটে কান্না পায় শশীর।
বালিশে মাথা রেখে ফুপিয়ে ওঠে শশী। দিনের পর দিনের জমানো সমস্ত অপ্রাপ্তি আর একাকিত্ব যেন ছায়ার মত ঘিরে ধরে তাকে।
বালিশে মাথা রেখে ফুপিয়ে ওঠে শশী। দিনের পর দিনের জমানো সমস্ত অপ্রাপ্তি আর একাকিত্ব যেন ছায়ার মত ঘিরে ধরে তাকে।
হঠাৎই অনেক ক্লান্ত লাগে শশীর। বিছানায় শুয়ে ভাবতে থাকে পুরো জীবনটা কি এভাবেই যাবে তার! প্রতিদিন এই একটা ঘরের ভিতর, একই জীবন, একই রুটিন। কোন একটা যাওয়ার জায়গা থাকতো তার! নিজেকে খুব অসহায় লাগে শশীর। রাত বাড়ে, চোখের কোণের একফোটা শুকনো জল আর বুক ভরা চাপা অভিমান নিয়েই একসময় ঘুমিয়ে পড়ে শশী। আর অপেক্ষাতেই শেষ হয় শশীর আরো একটি দশমী।
হঠাৎই অনেক ক্লান্ত লাগে শশীর। বিছানায় শুয়ে ভাবতে থাকে পুরো জীবনটা কি এভাবেই যাবে তার! প্রতিদিন এই একটা ঘরের ভিতর, একই জীবন, একই রুটিন। কোন একটা যাওয়ার জায়গা থাকতো তার! নিজেকে খুব অসহায় লাগে শশীর। রাত বাড়ে, চোখের কোণের একফোটা শুকনো জল আর বুক ভরা চাপা অভিমান নিয়েই একসময় ঘুমিয়ে পড়ে শশী। আর অপেক্ষাতেই শেষ হয় শশীর আরো একটি দশমী।