সামনের শান্ত নদী আর সারি সারি নৌকাগুলোর দিকে তাঁকিয়ে প্রাণ ভরে নিশ্বাস নেয় সুরঞ্জনা।
সামনের শান্ত নদী আর সারি সারি নৌকাগুলোর দিকে তাঁকিয়ে প্রাণ ভরে নিশ্বাস নেয় সুরঞ্জনা।
আজ কতদিন পর যে সুরঞ্জনা একটু নিশ্বাস নিচ্ছে। শেষ পর্যন্ত সমস্ত ধরাবাঁধা, নিষেধাজ্ঞার বেড়াজাল উপেক্ষা করে বাড়ির বাইরে।
আজ কতদিন পর যে সুরঞ্জনা একটু নিশ্বাস নিচ্ছে। শেষ পর্যন্ত সমস্ত ধরাবাঁধা, নিষেধাজ্ঞার বেড়াজাল উপেক্ষা করে বাড়ির বাইরে।
সুরঞ্জনার গন্তব্য আজ গোলাপগ্রাম। দিয়াবাড়ির ঘাটে দাঁড়িয়ে নৌকায় ওঠার প্রস্তুতি নেয় সে।
সুরঞ্জনার গন্তব্য আজ গোলাপগ্রাম। দিয়াবাড়ির ঘাটে দাঁড়িয়ে নৌকায় ওঠার প্রস্তুতি নেয় সে।
নদীর ঠান্ডা পানি ছুঁয়ে সুরঞ্জনার মনে পড়ে যায় যেই সখীর কথা যার সাথে প্রান খুলে মেশা যায়। যে মনের সমস্ত কথা বিনা বাক্যব্যয়ে এমনি বুঝে নেয়। যে মনে একটা আস্থার হাওয়া বইয়ে দেয়।
নদীর ঠান্ডা পানি ছুঁয়ে সুরঞ্জনার মনে পড়ে যায় যেই সখীর কথা যার সাথে প্রান খুলে মেশা যায়। যে মনের সমস্ত কথা বিনা বাক্যব্যয়ে এমনি বুঝে নেয়। যে মনে একটা আস্থার হাওয়া বইয়ে দেয়।
ঐতো দূরে নির্মল হরিয়ানা সীমান্ত। পাখিদের সমারোহের আন্তরিকতা সেখানে।
ঐতো দূরে নির্মল হরিয়ানা সীমান্ত। পাখিদের সমারোহের আন্তরিকতা সেখানে।
নিজের মনের অপূর্ণ ইচ্ছের কথা মনে পড়ে সুরঞ্জনার। সে নিজেও তো একদিন ওদের মত স্বাধীন হতে চাইতো। কিন্তু সে আর হলো কই? আজ সে প্রাচুর্যে সমৃদ্ধ, সোনার খাঁচায় বন্দী কোন বিদেশী পাখি।
নিজের মনের অপূর্ণ ইচ্ছের কথা মনে পড়ে সুরঞ্জনার। সে নিজেও তো একদিন ওদের মত স্বাধীন হতে চাইতো। কিন্তু সে আর হলো কই? আজ সে প্রাচুর্যে সমৃদ্ধ, সোনার খাঁচায় বন্দী কোন বিদেশী পাখি।
ভাবতে ভাবতে নৌকোর চলতি পথের হলুদ দ্বীপে খানিক দাড়িয়ে নেয় সে। বাতাসের সাথে একটু আলিঙ্গন, একটু বাক্য বিনিময়।
ভাবতে ভাবতে নৌকোর চলতি পথের হলুদ দ্বীপে খানিক দাড়িয়ে নেয় সে। বাতাসের সাথে একটু আলিঙ্গন, একটু বাক্য বিনিময়।
এরপর আবার গন্তব্য গোলাপগ্রাম। আর প্রায় আধঘন্টার পথ তারপরই বিরুলিয়া ঘাট।
এরপর আবার গন্তব্য গোলাপগ্রাম। আর প্রায় আধঘন্টার পথ তারপরই বিরুলিয়া ঘাট।
মাঝিকে ডেকে নৌকায় ওঠার প্রস্তুতি নেয় সুরঞ্জনা।
মাঝিকে ডেকে নৌকায় ওঠার প্রস্তুতি নেয় সুরঞ্জনা।
দূরের সবুজ গাছ আর এতটা খোলা আকাশের দিকে তাঁকিয়ে কেমন উদাস হয়ে যায় সুরঞ্জনা।
দূরের সবুজ গাছ আর এতটা খোলা আকাশের দিকে তাঁকিয়ে কেমন উদাস হয়ে যায় সুরঞ্জনা।
বিরুলিয়া ঘাট থেকে একটা অটোরিকশা করে অবশেষে সুরঞ্জনা পৌঁছে যায় গোলাপগ্রাম।
বিরুলিয়া ঘাট থেকে একটা অটোরিকশা করে অবশেষে সুরঞ্জনা পৌঁছে যায় গোলাপগ্রাম।
হাঁটতে হাঁটতে ভাবে গ্রামের এই বিস্তীর্ণ মাঠ, এই খোলা আকাশ এসবের দেখা পাওয়া বিলাসিতা নয় কি?
হাঁটতে হাঁটতে ভাবে গ্রামের এই বিস্তীর্ণ মাঠ, এই খোলা আকাশ এসবের দেখা পাওয়া বিলাসিতা নয় কি?
বাড়ির ধরাবাধা নিয়মে এই খোলামেলা আঁকাবাঁকা রাস্তায় স্বস্তির নিঃশ্বাস নেবার তালিকাটা যেন কাটা পড়েছে।
বাড়ির ধরাবাধা নিয়মে এই খোলামেলা আঁকাবাঁকা রাস্তায় স্বস্তির নিঃশ্বাস নেবার তালিকাটা যেন কাটা পড়েছে।
তবে আজ খুব খুশি লাগছে ওর। ছোটোছোটো গোলাপের সাথে মিলিয়ে নিজেও একটা লাল শাড়ি পরে এসেছে।
তবে আজ খুব খুশি লাগছে ওর। ছোটোছোটো গোলাপের সাথে মিলিয়ে নিজেও একটা লাল শাড়ি পরে এসেছে।
মাঠ ধরে হেঁটে হেঁটে ক্লান্ত হয়ে পড়লে বসে খানিকটা জিরিয়ে নেয় সুরঞ্জনা।
মাঠ ধরে হেঁটে হেঁটে ক্লান্ত হয়ে পড়লে বসে খানিকটা জিরিয়ে নেয় সুরঞ্জনা।
সামনে দিয়ে ঝাঁকেঝাঁকে গোলাপ নিয়ে যাচ্ছেন গোলাপ চাষীরা। মুগ্ধ চোখে তাঁকিয়ে থাকে সুরঞ্জনা।
সামনে দিয়ে ঝাঁকেঝাঁকে গোলাপ নিয়ে যাচ্ছেন গোলাপ চাষীরা। মুগ্ধ চোখে তাঁকিয়ে থাকে সুরঞ্জনা।
সামনেই একটা গোলাপের দোকানও দেখতে পায় সুরঞ্জনা। বাগান থেকে তুলে আনা একদম তাজা গোলাপগুলো যেন সুগন্ধ ছড়িয়ে কাছে ডাকে তাকে।
সামনেই একটা গোলাপের দোকানও দেখতে পায় সুরঞ্জনা। বাগান থেকে তুলে আনা একদম তাজা গোলাপগুলো যেন সুগন্ধ ছড়িয়ে কাছে ডাকে তাকে।
দোকানি তাকে একটা গোলাপের মুকুট বানিয়ে দেয়। কি সুন্দর লাগছে নিজেকে দেখতে! একটা শিশুসুলভ আনন্দ আছে যেন এই মুকুট মাথায় পরায়।
দোকানি তাকে একটা গোলাপের মুকুট বানিয়ে দেয়। কি সুন্দর লাগছে নিজেকে দেখতে! একটা শিশুসুলভ আনন্দ আছে যেন এই মুকুট মাথায় পরায়।
বেলা ফুরিয়ে আসে, বাড়ি ফেরার সময় হয়ে যাচ্ছে। সন্ধ্যে নামার আগে বাড়ি ফিরতেই হবে তাকে। ফিরতি নৌকায় উঠে পড়ে সুরঞ্জনা।
বেলা ফুরিয়ে আসে, বাড়ি ফেরার সময় হয়ে যাচ্ছে। সন্ধ্যে নামার আগে বাড়ি ফিরতেই হবে তাকে। ফিরতি নৌকায় উঠে পড়ে সুরঞ্জনা।
শেষ বিকেলের আকাশের দিকে তাঁকিয়ে সুরঞ্জনা আবারও উদাস হয়, ভাবে কারুকার্য শোভিত খাঁচা ছেড়ে যদি মেঘের উপরে ঘুরে বেড়ানো যেত!
শেষ বিকেলের আকাশের দিকে তাঁকিয়ে সুরঞ্জনা আবারও উদাস হয়, ভাবে কারুকার্য শোভিত খাঁচা ছেড়ে যদি মেঘের উপরে ঘুরে বেড়ানো যেত!
পথ প্রায় ফুরিয়ে আসে। এর মাঝেই যতটুকু অনুভব করে নেয়া যায় তাতেই সে খুশি। সুরঞ্জনারা অল্পতেই সুখী হতে শেখে এ জীবনে।
পথ প্রায় ফুরিয়ে আসে। এর মাঝেই যতটুকু অনুভব করে নেয়া যায় তাতেই সে খুশি। সুরঞ্জনারা অল্পতেই সুখী হতে শেখে এ জীবনে।
নদীকে বিদায়, পাখিদের বিদায়। জীবনে কখনো না কখনো হয়তো আবার দেখা হবে।
নদীকে বিদায়, পাখিদের বিদায়। জীবনে কখনো না কখনো হয়তো আবার দেখা হবে।
নৌকা ঘাটে ভিড়ছে। আবার সেই শহর। পথের সমাপ্তিহীন ক্লান্তি আর নগর জীবনের ব্যস্ততার শুরু।
নৌকা ঘাটে ভিড়ছে। আবার সেই শহর। পথের সমাপ্তিহীন ক্লান্তি আর নগর জীবনের ব্যস্ততার শুরু।