বেতরাঙ্গি: ভালোবাসায় জীবন বাঁধে ভিন্নধর্মী মাছ জুটি!

বেতরাঙ্গি: ভালোবাসায় জীবন বাঁধে ভিন্নধর্মী মাছ জুটি!
ছবি: সংগৃহীত
পরিণত বয়সে পুরুষ মাছটি নানা ভঙ্গিমায় স্ত্রী মাছটিকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করে। তারপর তারা জোড়া বাঁধে এবং পরবর্তী প্রজন্মের জন্ম দেয়। স্ত্রী মাছ তাদের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত যতবার বাচ্চা দেয়, প্রত্যেক বার একই মাছের সাথেই জোড়া বাঁধে (প্রথমে যার সাথে বেঁধে ছিল)। কোনো কারণে পুরুষ বা স্ত্রী কোনো একটি মাছ মারা যায় তাহলে অপর মাছটি কখনই আর জোড়া বাঁধে না। 

বেঙ্গল লোচ , বাংলাদেশে রানী /বউ/ বেতরাঙ্গি নামে পরিচিত হলুদ কালো ডোরাকাটা অদ্ভুত সুন্দর মাছটি স্বাদু পানির অধিবাসী। আজকাল মানুষ মাছটিকে আদর করে তাদের ঘরেই পুষে, তাই অরনামেন্টাল ফিশ হিসেবে বেশ জনপ্রিয়। আমরা মনুষ্যজাতি আমাদের ভালবাসা নিয়ে প্রায়ই অহংকার করি। 

 

সম্রাট শাহজাহানের নেতৃত্বে তাঁর ১৪তম স্ত্রীর জন্য নির্মাণ করা তাজমহল কে আমরা ভালবাসার প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত  করি। কিন্তু বেতরাঙ্গি মাছের ভালবাসার গল্প , আমাদের একটু হলেও লজ্জিত করবে। মাছের মধ্যেও যে এত ভালবাসা, ভালবাসায় যে এত বিশুদ্ধতা, বিশ্বস্ততা থাকতে পারে , তা আমাদের কল্পনার জগতেও অবিশ্বাস্য।

 

পরিণত বয়সে পুরুষ মাছটি নানা ভঙ্গিমায় স্ত্রী মাছটিকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করে। তারপর তারা জোড়া বাঁধে এবং পরবর্তী প্রজন্মের জন্ম দেয়। স্ত্রী মাছ তাদের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত যতবার বাচ্চা দেয়, প্রত্যেক বার একই মাছের সাথেই জোড়া বাঁধে (প্রথমে যার সাথে বেঁধে ছিল)। কোনো কারণে পুরুষ বা স্ত্রী কোনো একটি মাছ মারা যায় তাহলে অপর মাছটি কখনই আর জোড়া বাঁধে না। 

 

তারা তাদের ভালোবাসার বিশ্বস্ততার প্রমাণ দেয় এমনকি তাদের প্রজাতির অস্তিত্ব হুমকির সম্মুখীন হলেও।

 মাছটির এই বৈশিষ্ট্য এবং অনিয়ন্ত্রিত মাছ ধরার কারণে সুন্দর এবং মজাদার এই মাছটি আজ বিপন্ন প্রায়। আসুন আমরা সচেতন হই ,  অনিয়ন্ত্রিত মাছ আহরণ বন্ধ করি ,  বিপন্ন প্রায় প্রজাতির জন্য অভয়াশ্রম গড়ে তুলি। পরিশেষে আমাদের ভালবাসা যেন ছোট্ট এই মাছের কাছে হার না মানে।

 

 

আতিয়া আঞ্জুম দীনা
মাৎস্য বিজ্ঞান অনুষদ
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ