অনুকম্পপ্রবণ পরিধেয়

অনুকম্পপ্রবণ পরিধেয়
অনুকম্পপ্রবণ পরিধেয়
ক্ষমা করো; ক্ষমা করো; ক্ষমা করো বনলতা...

অগোছালো প্রাপ্তি আর অপ্রাপ্তির মাঝে
তোমাকে মিলিয়ে নিতে পারিনি এখনো,
শতবছর পর পৃথিবীর বয়স বেড়ে যাবে
আমি অনীহার প্রকট মাখা
কোন দুর্নিবারের আচ্ছাদনে তোমাকে ঢাকব না কখনো। 


পিছিয়ে আসা বালুচর সমুদ্রের কাছে ঋণী থাকে আজীবন
ঋণী থাকে আকাশ মেঘের কাছে প্রাণপণ;
পরিশ্রান্ত পৃথিবীর আমি এক ক্লান্ত পথিক
দুটি মাপকাঠির সমরেখার প্রান্ত হতে
ভিন্ন সমরেখার পাইনি নাগাল; তাই তোমায় পারিনি ছুঁতে 


পরিপাটি বলে কিছু নেই আমাতে এখন
এখন নেহাৎ জীবন যাপন সঙ্গ হয় নিত্য
গহীন জলের তলানিতে গিয়েও তৃষ্ণা গ্রহণ অসহ্য 


এই অব্যক্ত ভাষার ব্যাপ্তি যদি হয় সমাপ্তি
আমি শিহরণ জাগানো পৃথিবী রেখে যাবো
তলদেশের তলায় চির অপরিণত ভাষায়
মাপব নিরবধি তোমার মুক্ত বাসনার তৃপ্তি 


ক্ষমা করো; ক্ষমা করো; ক্ষমা করো বনলতা,
প্রকাশের পাহাড় এসেও ঠোঁটে
তবু তুমি রয়েছ যতনে হৃদয় কোণে
পৃথিবীর মানুষ বোঝেনি; জানতে চায়নি মোটে, 


কলহের সমারোহে কাল হতে কালান্তরে
অস্পৃশ্য দেবতার মতো করে তোমার স্মরণ হয় বারেবারে
আমি কৌতূহল ভেঙে দিলেও প্রশ্নরা ছুটে আসে ঝাঁকে ঝাঁকে
প্রকৃতির সাথে যেন প্রকৃতির মায়া-লতা চলমান জীবনের ঘূর্ণি পথের বাঁকে 


দেখি সেই বনলতা নামক দেবতার অনুভূতিটাকে
এভাবেই হয়ে সুপ্ত থেকো লিপ্ত
আত্মবিলিন পথের সাথী আমিই সেই অভিন্ন প্রদীপ্ত।