গাছের যত্নে চায়ের গুণ

প্রতীকী ছবি
চা-পাতা বা টি-ব্যাগ কোনোটাই আসলে ফেলে দেওয়ার জিনিস নয়। যারা বাসায় গাছ লাগাতে ভালোবাসেন, তারা নিশ্চিন্তে চা পাতা ব্যবহার করতে পারেন জৈবসার হিসেবে।

বাসায় সকালে, বিকালে বা সন্ধ্যায়, প্রায়ই চা খেতে ভালোবাসি আমরা। আর চা বানানোর পর ব্যবহৃত টি-ব্যাগ বা চা পাতা সাধারণত ফেলেই দেই ডাস্টবিনে। কারণ একবার চা বানানোর পর এর পুনঃব্যবহার সম্পর্কে আমরা অনেকেই জানিনা। শরীরের ক্লান্তি দূর করে চা। কিন্তু সেখানেই ব্যবহার শেষ হয় না এর। ব্যবহার করা চা পাতা কিন্তু গাছের জন্য খুবই উপকারী। মাটির সঙ্গে মিশে চা পাতা থেকে তৈরি হয় জৈবসার।

 

কাজেই বাসায় ব্যবহৃত চা-পাতা বা টি-ব্যাগ ব্যবহারের পর আলাদা করে রাখুন। পরে বারান্দা অথবা ছাদে রাখা গাছের গোঁড়ায় চা-পাতা সরাসরি দিতে পারেন। তবে টি-ব্যাগের ক্ষেত্রে এর মাথা কেটে ভেতরের চা-পাতাটুকু গাছের গোঁড়ায় দিয়ে দিন। উৎকৃষ্ট মানের জৈব সার পাবে আপনার গাছটি। এবার আসুন জেনে নেই, গাছের জন্য চা পাতা কতটা উপকারী,

 

উর্বরতা বৃদ্ধি

 

চা-পাতা মাটির উর্বরতা বাড়াতে সাহায্য করে। বাসায় আলো বাতাস কম থাকলেও চা-পাতা মাটির উর্বরতা বাড়াতে সাহায্য করে।
 

গাছের পুষ্টি যোগায়

 

চা-পাতায় বেশকিছু উপাদান আছে যা ভেতর থেকে গাছের পুষ্টি যোগায়।

 

আগাছা নষ্ট করে ও আবর্জনা দূর করে

 

কেবল গাছের পুষ্টি বা মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি ছাড়াও প্রাকৃতিকভাবে আগাছা দূর করতেও চা পাতা বেশ কার্যকর। পাশাপাশি ভেতর থেকে গাছের সুরক্ষা যোগাতে সাহায্য করে চা-পাতা। গাছের আবর্জনা, পচন এবং পোকামাকড় দূর করতে সাহায্য করে।

 

পরিবেশের ক্ষতি হয় না

 

চা-পাতা দিয়ে গাছের পরিচর্যা একেবারেই প্রাকৃতিক ব্যাপার। এর ফলে মাটিতে যে সার উৎপাদন হয় তা পরিবেশের কোন ক্ষতি হয় না।

 

পানি ধরে রাখে

 

মাটির শুষ্কতা রোধ করে পানি ধরে রাখতে সাহায্য করে চা-পাতা। ফলে গাছে থাকে তরতাজা ভাব। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে গাছের পানি ধরে রাখা অত্যন্ত জরুরী।

 

চা-পাতা বা টি-ব্যাগ কোনোটাই আসলে ফেলে দেওয়ার জিনিস নয়। যারা বাসায় গাছ লাগাতে ভালোবাসেন, তারা নিশ্চিন্তে চা পাতা ব্যবহার করতে পারেন জৈবসার হিসেবে।