কুড়ির অনন্যা

কুড়ির অনন্যা
ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ ২৭ বছর পরে নোবেল পুরস্কারের ইতিহাসে সাহিত্যে 'নারী ও কবিতা' এই দুইয়ের সংযোগ ঘটেছে। আর সেটা সম্ভব করেছেন আমেরিকান নারী লুইস গ্লিক।

দু হাজার বিশ, নানান চড়াই উৎরাই এর মধ্য দিয়ে কেটে গেলেও অনন্যারা তাদের অবদান রাখতে, নিজেকে অনন্যা হিসেবে প্রমাণ করতে এতটুকুও পিছিয়ে নেই৷ এবছরই নোবেল জিতছেন চার নারী– লুইস গ্লিক, ইমানুয়েল শারপেনটিয়ের, জেনিফার এ ডাউডনা ও আন্দ্রিয়া ঘেজ। জাতিসংঘের বিশেষ দূতের দায়িত্ব পেয়েছেন সিলেটের মেয়ে আইরিন খান। কৃষ্ণগহ্বর নিয়ে গবেষণায় বিশ্বের সেরা দশে জায়গা করে নেন বাংলাদেশি তরুণী তনিমা তাসনিম অনন্যা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় নিয়োগ পেয়েছেন বাংলাদেশি অণুজীব বিজ্ঞানী ডা. সেঁজুতি সাহা। চলুন তবে জেনে নি এই অসামান্য কৃতিত্বের অধিকারী অনন্যাদের সম্পর্কে :

 

 


লুইস গ্লিক

 

 

দীর্ঘ ২৭ বছর পরে নোবেল পুরস্কারের ইতিহাসে সাহিত্যে 'নারী ও কবিতা' এই দুইয়ের সংযোগ ঘটেছে। আর সেটা সম্ভব করেছেন আমেরিকান নারী লুইস গ্লিক। হৃদয়ের স্পর্শকাতরতা, একাকীত্ব, পারিবারিক বন্ধন, বিবাহবিচ্ছেদ, মৃত্যু, কাম, ক্রোধ, বেদনা, হতাশা ইত্যাদি বিষয়গুলোর প্রতিফলন ফুটে উঠে। 
বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী গণমাধ্যম ‘নিউইয়র্ক টাইমস’–এর সাহিত্য সমালোচক উইলিয়াম লগান বলেছেন, গ্লুক তাঁর কবিতায় স্বগতোক্তির মতো করে শ্লোক বলে যান। তিনি তাঁর কবিতায় মানবাত্মার অন্ধকার দিকগুলো তুলে ধরেন। মানুষের চোখ যা এড়িয়ে যায়, তাতেই আলো ফেলেন গ্লুক। বর্তমান সময়ে তো বটেই, আমেরিকান সাহিত্যের ইতিহাসেই তিনি একজন গুরুত্বপূর্ণ কবি হিসেবে বেঁচে থাকবেন।

 

 


আন্দ্রিয়া ঘেজ

 

 

২০২০ সালের নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্তিতে তিন ক্যাটাগরিতে নারীদের নাম এসেছে। সাহিত্য, রসায়ন এবং পদার্থবিজ্ঞান। এদের মধ্যে পদার্থবিজ্ঞানে স্থান করে নিয়েছেন আন্দ্রিয়া ঘেজ। এই ক্যাটাগরিতে আরো দুজন পুরস্কার পেয়েছেন। রানহার্ড গেঞ্জেল ও রজার পেনরোজ। রজার পুরস্কার পাচ্ছেন আপেক্ষিকতার সাধারণ তত্ত্ব যে ব্ল্যাকহোলের অস্তিত্বকে সমর্থন করে। ঘেজ ও গেঞ্জেল পাচ্ছেন ছায়াপথ বা গ্যালাক্সির কেন্দ্রে যে একটা দৃঢ় বস্তু আছে সেটার জন্য। এই তিন জনই নোবেল পুরস্কার পাচ্ছেন ব্ল্যাকহোল নিয়ে কাজ করার জন্য।

 

 

ইমানুয়েল শারপেনটিয়ের ও জেনিফার এ ডাউডনা

 

 

এবারে ইমানুয়েল ও জেনিফার যৌথভাবে রসায়নে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন জিনোমের একটি পদ্ধতির উন্নতি নিয়ে কাজ করায় এই পুরস্কার জিতে নেন এই দুই নারী। জিন টেকনোলজির অন্যতম কঠিন একটি বিষয় উন্মোচন করেছেন ইমানুয়েল ও জেনিফার। এই পদ্ধতি ব্যবহারের মাধ্যমে গবেষকরা একদম নির্ভুলভাবে প্রাণী, গাছ ও অণুজীবের ডিএনএ পরিবর্তন করতে পারবেন। শারপেনটিয়ার একজন ফ্রেঞ্চ মাইক্রোবায়োলজিস্ট ও ডাউডনা একজন আমেরিকান বায়োকেমিস্ট। নোবেল পুরস্কারের ইতিহাসে রসায়নে তারাই প্রথম একত্রে এবং ষষ্ঠ ও সপ্তম নারী হিসেবে পুরস্কার জিতলেন।

 

 

আইরিন খান

 

 

এ বছরই জাতিসংঘে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বিষয়ক বিশেষ দূতের দায়িত্ব পেলেন আইরিন জুবাইদা খান। আগস্ট থেকে আগামী তিন বছরের জন্য এই দায়িত্ব পালন করবেন স আইরিন খান।এর আগেও আইরিন জিতে নেন কয়েকটি পুরস্কার। ২০০২ সালে ফোর্ড ফাউন্ডেশন ফেলো-শিপ, পিলকিংটন ওম্যান অব দি ইয়ার পুরস্কার, ২০০৬ সালে সিডনি শান্তি পুরস্কার লাভ করেছেন। ২০০৭ সালে গেন্ট বিশ্ববিদ্যালয় তাকে প্রাতিষ্ঠানিক সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করে। এমনকি ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন চ্যান্সেলর নির্বাচনের জন্য তিনি মনোনীত হন। সিলেটের মেয়ে আইরিন খান অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব থাকাকালীন সময়ে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার মানবাধিকার পরিস্থিতি ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বেশ সরব ছিলেন। 

 

 

তনিমা তাসনিম অনন্যা

 

 

মহাকাশবিজ্ঞানী তনিমমা তাসনিম অনন্যা সায়েন্স নিউজ নামের একটি গণমাধ্যমের বিচারে বাছাই করা ১০ বিজ্ঞানীর মধ্যে স্থান করে নিয়েছেন। 
কৃষ্ণগহ্বর নিয়ে গবেষণার জন্য তিনি এই স্বীকৃতি পেয়েছেন। এ নিয়ে ষষ্ঠবারের মতো এমন বিজ্ঞানীর তালিকা প্রকাশ করল সায়েন্স নিউজ। ‘এসএন টেন :সায়েন্টিস্ট টু ওয়াচ’ নামের এই তালিকায় শুরুতেই স্থান পেয়েছেন বাংলাদেশি এই মেয়ে। কৃষ্ণগহ্বরের নিখুঁত ছবি তৈরি করেছেন তিনি। গবেষণার এ কাজকেই বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেছে সায়েন্স নিউজ। যা একটি ‘অসাধারণ গবেষণা’ হিসেবে আখ্যায়িত হয়েছে। 

বর্তমানে ডার্টমাউথ কলেজের সঙ্গে তিনি যুক্ত আছেন। একসময় ঢাকার বাসিন্দা তনিমা কৃষ্ণগহ্বরের পূর্ণাঙ্গ চিত্র এঁকেছেন। তাতে তিনি দেখিয়েছেন, কীভাবে কৃষ্ণগহ্বরগুলো বেড়ে ওঠে এবং পরিবেশে কি প্রভাব রাখে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ব্যবহার করে তিনি এ কাজ করেছেন। তনিমা তাসনিম এর আগে নাসা ও সার্নে ইন্টার্নশিপ করেছেন। এ ছাড়া কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়েও কিছুদিন পড়াশোনা করেছেন তিনি। ২০১৯ সালে পিএইচডি সম্পন্ন করেন তনিমা।

 

 

সেঁজুতি সাহা

 

 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পোলিও ট্রানজিশন ইনডিপেনডেন্ট মনিটরিং বোর্ডে (টিআইএমবি) সদস্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বাংলাদেশের অণুজীব বিজ্ঞানী ডা. সেঁজুতি সাহা। ডা. উচ্চ শিশুমৃত্যুতে ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে যে ব্যবধান ছিল, তা হ্রাস করার লক্ষে কাজ করে চলেছেন সেঁজুতি সাহা। যুক্তরাষ্ট্রের আরো দুজনের সঙ্গে মিলে সংক্রামক রোগের ভ্যাকসিনের পাশাপাশি তথ্য-উপাত্ত ও রোগ নির্ণয়ের অত্যাধুনিক ব্যবস্থাপনা প্রয়োগ করছেন। ভ্যাকসিন নিয়ে তাদের গবেষণার সুফল পাচ্ছে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশও।