ডিজিটাল ক্লাসের মৌসুম

শ্রেয়া’স লার্নিং ক্লাসরুম

শ্রেয়া’স লার্নিং ক্লাসরুম
তুমি যখন নতুন কিছু শুরু করবে, তখন মানুষ কিছু বলবেই। যখন মানুষ কিছু বলবে তখনই বুঝবে তুমি ভালো কিছু করছো। আমি বিশ্বাস করি, আমার প্রতিনিধিরা এই মন্ত্র বিশ্বাস করে এবং এই মন্ত্র নিয়েই তারা কাজ করছে।

অতিরিক্ত সহ-পাঠ্যক্রমিক ক্রিয়াকলাপ! খুব বড় একটি শব্দ। সেই সাথে গুরুত্বপূর্ণ। ‘শিক্ষা’ শুধুমাত্র পড়ালেখায় সীমাবদ্ধ থাকবে, এমন কোনো বিষয় যেমন আইনে লিপিবদ্ধ নেই, তেমনি জীবনের সাথেও যায় না। কোনো বিষয়ে জ্ঞান থাকা জরুরি তবে হাতে কলমে ও কাজে শিখলে তার গুরুত্ব ও দক্ষতা বৃদ্ধি পায়। সেই সাথে পড়ালেখা যখন গান, কবিতা আবৃত্তি, গল্প ইত্যাদির ছলে আনন্দের সাথে তাল মিলিয়ে যায় তখন তা আর জটিল লাগে না।


করোনায় যখন বিশ্ব ধীর পায়ে এগিয়ে যাচ্ছে, ধীর হয়ে যাচ্ছে প্রায় ব্যাপক তরুণ। ফেসবুক মাধ্যমটি, বিনোদন ও বন্ধু-বান্ধবের সাথে আড্ডা ছাড়া খুব একটা ব্যবহার করা হচ্ছে না। তখন একটি স্ট্যাটাস দিয়ে মাত্র এক মাসে শিক্ষাক্ষেত্রের অভিন্ন রূপ দিয়ে বড় স্বপ্ন দেখছে শ্রেয়া ঘোষ। ন্যাশনাল চিলড্রেন টাস্ক ফোর্স ও হ্যালোতে সাবেক এবং বর্তমানে ইউনিসেফের সাথে জড়িত, শহীদ বীর উত্তম আনোয়ার গার্লস কলেজের একাদশ শ্রেণির এই শিক্ষার্থীর লক্ষ্য ‘প্রান্তিক পর্যায়ের সুবিধাবঞ্চিত মেধাবী শিশুরা।


বিভিন্ন অঞ্চলের শিশুরা যারা বর্তমানে নেটওয়ার্কের সুবিধা পাচ্ছে তাদের জন্য প্রতিনিধিদের সাহায্যে অনলাইনে বিনামূল্যে শুদ্ধ উচ্চারণ উপস্থাপনা, যোগ্য নেতৃত্ব, ইংরেজি ভাষায় কথা বলা, যোগাযোগ দক্ষতা, গ্রাফিক ডিজাইন, প্রোগ্রামিংসহ বিভিন্ন বিষয়ে কর্মশালা পরিচালনা করার পরিকল্পনা করেন শ্রেয়া।


তার ফেসবুকে তিনি “আমি একটি সংগঠন চালু করতে ইচ্ছুক। যেখানে অবহেলিত ও প্রান্তিক পর্যায়ের মেধাবীদের নিয়ে কাজ করা হবে” লিখে স্ট্যাটাস দেন এবং ব্যাপক তরুণের সাড়া পায় এবং তাদেরকে নিয়েই কাজ শুরু করে। সংগঠনের নাম দেন “আলোর সন্ধানী”। এই সংগঠন থেকেই শিশুদের পাঠ্যক্রমিক পড়ালেখার কথা বিবেচনা করে শুরু হয় “শ্রেয়া’স লার্নিং ক্লাসরুম”।


প্রথম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইনে বিনামূল্যে পড়ালেখার সুবিধা এবং পাঠ্য বইয়ের বিভিন্ন কবিতা, আবৃত্তির মাধ্যমে পড়ানো হচ্ছে। একই সাথে কেউ যদি গান গেতে পছন্দ করে সে গান গেয়ে একটি ভিডিও দিলো, কবিতা আবৃত্তি করে পাঠালো, ছবি আঁকতে পছন্দ করে সে ছবি এঁকে পাঠালো, কেউ কিছু শিখতে পারলে তার ছোট্ট একটি ভিডিও করে দিলো এবং সেই ছবি বা ভিডিও ফেসবুকের প্লাটফর্মে প্রকাশ করে অন্যদের দেখার সুযোগ করে দেয়া হচ্ছে। শ্রেয়ার মতে “লার্নিং মানে আমি সব কিছু শিখবো। শুধু যে পড়ালেখাই করবো তা না। এইজন্য ‘লার্নিং ক্লাসরুম’ দিয়েছি।”

 

 

সেই সাথে তিনি আরও বলেন “কাজ করছি আমি প্রায় প্রতিদিনই, টানা কর্মশালা পরিচালনা করা হচ্ছে এই সংগঠন থেকে। ডিসকোর্ড অ্যাপ বা গুগল মিট অ্যাপের মাধ্যমে বিতর্ক বিষয়ে একটি ওয়ার্কশপ হয়েছে, উপস্থাপনা ও শুদ্ধ উচ্চারণের উপর এবং সেই সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন আবৃত্তিকার ‘আবৃত্তির’ উপর একটি ওয়ার্কশপ দিয়েছেন।”


১৮ই জুন পথচলা শুরু হয় শ্রেয়ার এই কার্যক্রমের। স্ট্যাটাসের উত্তরে ৬৬ জন সাড়া দেয়। তাদেরকে নিয়ে ফেসবুকের ম্যাসেঞ্জারে একটি গ্রুপ খোলা হয় এবং পরের দিন থেকেই শুরু হয় কর্মশালা দেয়ার প্রচেষ্টা। প্রথম কর্মশালা হয় ‘পাবলিক স্পিকিং’ বিষয়ে, যার পরিচালনা করে শ্রেয়া নিজে। এছাড়াও মাত্র একমাসের ব্যবধানে আমেরিকা, ফিলিপাইন ও ইন্ডিয়া চৌকাঠে কর্মশালা প্রতিষ্ঠার সফলতা অর্জন করে।


প্রত্যেক বিভাগের ও অঞ্চলের প্রতিনিধিরা যারা সংগঠনটির সাথে যুক্ত, তাদের খুঁজে বের করে কোথায়, কোন বিষয় নিয়ে কর্মশালা করা যায় এবং পরবর্তীতে সেই অঞ্চলে অনলাইনে প্রয়োজনীয় বিষয় নিয়ে কর্মশালাগুলো পরিচালনা করে আসছেন এবং জেলা প্রতিনিধিদের কাছ থেকে ফিডব্যাক নিয়ে পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যাচ্ছেন শ্রেয়া।


পরিবর্তন আসবে কিন্তু পরিবর্তনের গল্প সহজ হবে না বটেই। শ্রেয়া বিশ্বাস করেন “তুমি যখন নতুন কিছু শুরু করবে, তখন মানুষ কিছু বলবেই। যখন মানুষ কিছু বলবে তখনই বুঝবে তুমি ভালো কিছু করছো। আমি বিশ্বাস করি, আমার প্রতিনিধিরা এই মন্ত্র বিশ্বাস করে এবং এই মন্ত্র নিয়েই তারা কাজ করছে।”


ভবিষ্যতে লকডাউন কেটে যাওয়ার পরে মাঠ পর্যায়ে কাজ করার আশা ব্যক্ত করেন এবং প্রত্যেক জেলায় শিশুদের লাইভে পড়ানো ও শেখানোর স্বপ্ন দেখেন পরিবর্তনে বিশ্বাসী এই স্বপ্নবাজ তরুণী।