বিশ্বের সেরা পাঁচ নারী ব্যবসায়ী

বিশ্বের সেরা পাঁচ নারী ব্যবসায়ী
বিশ্বের সেরা পাঁচ নারী ব্যবসায়ী
তিনি মিডিয়া জগতের সুপরিচিত মূখ আমেরিকান টকশো হোস্ট, টেলিভিশন প্রযোজক, অভিনেত্রী, লেখক এবং সমাজসেবী। তার নামে “অপরাহ উইনফ্রে শো” প্রোগ্রামটি জন্য তিনি বেশী জনপ্রিয় এই প্রোগ্রামটি তিনি নিজেই হোস্ট করেন। অপরাহ উইনফ্রে নেটওয়ার্ক তার নিজেস্ব টিভি নেটওর্য়াক। নেটওর্য়াকিং ব্যবসায় সফল এই নারী ব্যবসায়ী। বিশ্বের সেরা নারী ব্যবসায়ীদের মধ্যে একজন। উত্তর আমেরিকার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ বিলিয়নার এবং বিশ্বের প্রভাবশালী নারীদের মধ্যে একজন। তার সম্পদের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

নারীর পিছিয়ে থাকার দিন তো সেই কবেই শেষ। সমাজের সকল অদৃশ্য শেকল ভেঙে নারী এগিয়েছেন আপন মনে। পৌঁছেছেন গন্তব্যে। প্রমাণ করেছেন শুধু বন্দী থেকে চারদেয়াল রঙিন করাই নয়, পুরো বিশ্বকে রাঙাতে ভূমিকা রাখতে পারে নারীরা। আমাদের সমাজের ধারণা ব্যবসার মতো এমন কঠিন বিষয়বস্তুতে নারীর বিচরন থাকা প্রায় অসম্ভব। কিন্তু সে চিন্তা ভূল প্রমাণ করে এ জগতেও সমানতালে এগিয়ে যাচ্ছে নারীরা। তেমনি পাঁচজন নারীকে নিয়ে আমাদের আজকের আয়োজন।  

 


ডেনিস কোটস

 

বিশ্বের সেরা নারী ব্যবসায়ীদের মধ্যে একজন। তিনি 'Bet365' নামক ডোমেইনের মালিক। এটি ইংরেজি ভিত্তিক অনলাইন জুয়ার সংস্থা। তিনি এটি ক্রয় করেন ২০০০ সালে। জনসাধারণের কাছে এটি চালু করার আগে এটি তৈরতে  পুরো এক বছর ব্যয় হয়েছে। সেসময় তিনি স্কটিল্যান্ডের রয়্যাল ব্যাংক থেকে ১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ নিয়েছিলেন। বর্তমানে ডোমেইনটি বিশ্বের বৃহত্তম অনলাইন জুয়া কোম্পানির মধ্যে একটি। 

ব্রিটিশ এই নাগরিক ১৯৬৭ সালের ২৬ শে সেপ্টেম্বর যুক্তরাজ্যের স্টোক-অন-ট্রেন্ট শহরে জন্ম গ্রহন করেন। কোটস শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইকোনোমেট্রিক্সে এ প্রথম শ্রেণির ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন। ছাত্র জীবনেই পারিবারিক ব্যবসায় কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তার আনুমানিক মোট  সম্পদের মূল্য ২.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

 


ওয়াং লইচুন

 

এই নারী লাক্সের নামক একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক। এই প্রতিষ্ঠানটি ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারক। তাদের যন্ত্রাংশের বেশীর ভাগ ‘অ্যাপল’ কে সরবরাহ করা হয়। তিনি লাক্সেরকে ক্রয় করেন ২০০৪ সালে। এর আগে তিনি তাইওয়ানের বিলিয়নেয়ার টেরি গুর হোন হাই প্রিসিশন ইন্ডাস্ট্রি(ফক্সকন)নামক প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১০ বছর কাজ করেছেন। এই চায়নিস নারী বিশ্বের সেরা নারী ব্যবসায়ী এবং বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ স্বনির্মিত মহিলা বিলিয়নেয়ারদের মধ্যে একজন। ওয়াং বেইজিংয়ের সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইএমবিএ করেছেন তিনি। তার সম্পদের আনুমানিক মূল্য  প্রায় ১.৫ বিলিয়ন ডলার। 


অপরাহ উইনফ্রে 

 

তিনি মিডিয়া জগতের সুপরিচিত মূখ আমেরিকান টকশো হোস্ট, টেলিভিশন প্রযোজক, অভিনেত্রী, লেখক এবং সমাজসেবী। তার নামে “অপরাহ উইনফ্রে শো” প্রোগ্রামটি জন্য তিনি বেশী জনপ্রিয় এই প্রোগ্রামটি তিনি নিজেই হোস্ট করেন। অপরাহ উইনফ্রে নেটওয়ার্ক তার নিজেস্ব টিভি নেটওর্য়াক। নেটওর্য়াকিং ব্যবসায় সফল এই নারী ব্যবসায়ী। বিশ্বের সেরা নারী ব্যবসায়ীদের মধ্যে একজন। উত্তর আমেরিকার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ বিলিয়নার এবং বিশ্বের প্রভাবশালী নারীদের মধ্যে একজন। তার সম্পদের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।


চের ওয়াং

 

তিনি বিখ্যাত মোবাইল প্রযুক্তি সংস্থা এইচটিসির সহ-প্রতিষ্ঠাতা। তিনি ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে ডিগ্রি অর্জন করে তার এক বছর পরে 'ফার্স্ট ইন্টারন্যাশনাল কম্পিউটার' কোম্পানিতে যোগদান করেন। ১৯৮৭ সালে 'ভিআইএ' এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং ১৯৯৭ সালে 'এইচটিসি' এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা হন। চের ওয়াং বিশ্বের সেরা নারী ব্যবসায়ীদের মধ্যে একজন এবং বিশ্বের শক্তিশালী মহিলাদের মধ্যে একজন। 

 

চের ওয়াং অবশ্যই সফলতম এবং বিখ্যাত মহিলা উদ্যোক্তাদের একজন এবং এইচটিসি এখন অ্যাপল, সনি এবং স্যামসাংয়ের মতো অন্যদের মধ্যে শীর্ষস্থানীয় প্রতিযোগী মোবাইল প্রযুক্তি সংস্থাগুলির মধ্যে একটি। তার সম্পদের মূল্য আনুমানিক  ১.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার 


ডেবি ফিল্ডস


তিনি মিসেস ফিল্ডস বেকারি প্রতিষ্ঠাতা তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তাজা কুকিজের অন্যতম বৃহত্তম খুচরা বিক্রেতা। ব্যবসায় প্রতিষ্ঠার পর থেকে ডেবি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৬৫০ বেকারি এবং বিশ্বের  ১১ টি দেশে ৮০ টি বেকারি বিস্তৃত করতে সক্ষম হয়েছে। রান্না বিষয়ক প্রোগ্রাম করেন তিনি এবং রান্না বিষয়ে অনেক গুলি ম্যাগাজিন লিখেছেন তিনি। শখ থেকে কিভাবে বিশ্বের সেরা হওয়া যাই তার উদাহরণ এই নারী ব্যবসায়ী। তার সম্পদের আনুমানিক মূল্য ৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।


‘যে রাঁধে, সে চুলও বাঁধে’- আলোচিত এই প্রবাদটি সত্যি করতে এইসব নারীদের অবদান সবথেকে বেশি। বর্তমানে কেউ নারীর সক্ষমতা প্রশ্নবিদ্ধ করার আগে দশবার করে ভাবতে হবে এই নারীদের কথা, দেখতে হবে তাদের সফলতার গল্প। শুধু ব্যবসায় নয় বিশ্বজুরে নারী প্রতিটি ক্ষেত্রে সফলতার ছোঁয়া রাখছে। প্রত্যাশা, এভাবেই এগিয়ে যাবেন নারীরা, ছুঁয়ে দেখবেন সফলতার প্রতিটি মাইলফলক।