সেকেন্ড রানার-আপ হলেন কিশোয়ার

সেকেন্ড রানার-আপ হলেন কিশোয়ার
কিশোয়ার চৌধুরী
দুই দিন ধরে চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হয় জাস্টিন, পিট ও কিশোয়ার এই তিন ফাইনালিস্টকে নিয়ে। প্রথম দিন ফাইনাল ডিশে কিশোয়ার রান্না করেন 'স্মোকড ওয়াটার রাইস, আলু ভর্তা ও সার্ডিন'। এটি বাংলার ঐতিহ্যবাহী খাবার পান্তা ইলিশ আর আলু ভর্তা। শুরু থেকেই তিনি বিভিন্ন বাঙালি খাবার পরিবেশন করে বিচারকদের মন জয় করে আসছিলেন।

বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় রান্না বিষয়ক রিয়্যালিটি শো মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ার ১৩ তম আসরের গ্র্যান্ড ফিনালের দিকেই ছিল সবার নজর। কারণ বিদেশি এই অনুষ্ঠানের ফাইনালে অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত কিশোয়ার চৌধুরী। অবশেষে অপেক্ষার প্রহর শেষ হল বিকেলে। ‘মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়া-২০২১’ এ কিশোয়ার হয়েছেন সেকেন্ড রানার- আপ।

 

চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন ২৭ বছর বয়সী ভারতীয় বংশোদ্ভূত অস্ট্রেলীয় জাস্টিন নারায়ণ; প্রথম রানার আপ হয়েছেন আরেক প্রতিযোগী পিট ক্যাম্পবেল।

 

দুই দিন ধরে চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হয় জাস্টিন, পিট ও কিশোয়ার এই তিন ফাইনালিস্টকে নিয়ে। প্রথম দিন ফাইনাল ডিশে কিশোয়ার রান্না করেন 'স্মোকড ওয়াটার রাইস, আলু ভর্তা ও সার্ডিন'। এটি বাংলার ঐতিহ্যবাহী খাবার পান্তা ইলিশ আর আলু ভর্তা। শুরু থেকেই তিনি বিভিন্ন বাঙালি খাবার পরিবেশন করে বিচারকদের মন জয় করে আসছিলেন। তার রান্না করা কালা ভুনায় মুগ্ধ হয়েছিলেন মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ার বিচারকরা। এরপর লাউ চিংড়ি, বেগুন ভর্তা, খিচুড়ি, আমের টক, খাসির রেজালা, ফুচকা, চটপটি, সমুচার রেসিপি দিয়ে রীতিমতো মাতোয়ারা করেন সবাইকে।

 

কিশোয়ার চৌধুরীর বাবা বাংলাদেশি বীর মুক্তিযোদ্ধা। বাড়ি ঢাকার বিক্রমপুরে। কিশোয়ারের মায়ের বাড়ি কলকাতার বর্ধমানে। ভিক্টোরিয়া রাজ্যের মেলবোর্নের বাসিন্দা কিশোয়ার চৌধুরীর জন্ম ও বেড়ে ওঠা অস্ট্রেলিয়াতেই। বিদেশে বসবাস করলেও নিজ দেশের ভাষা, সংস্কৃতি চর্চা সবই বজায় রেখেছেন কিশোয়ারের বাবা-মা, আর সেটি ধারণ করতে সন্তানদেরও উৎসাহিত করেছেন। জানা যায়, কিশোয়ার পেশায় একজন বিজনেস ডেভেলপার। দুই সন্তানের মা কিশোয়ার সন্তানদের জন্য বাংলাদেশি খাবার রান্না করতে গিয়েই পরিবারের কাছ থেকে শিখেছেন নানান রেসিপি। 

 

জনপ্রিয় টেলিভিশন রিয়েলিটি শো মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ার ১৩তম আসরের মূল পর্ব শুরু হয় ২০ এপ্রিল। ১১ জুলাই রবিবার সেমিফাইনাল রাউন্ডে দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে লড়াই করে টপ থ্রি-তে জায়গা করে নেন ৩৮ বছর বয়সী কিশোয়ার চৌধুরী । 

 

তাকে ‘মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়া’র ১৩ তম সিজনের তারকা হিসেবে দেখছে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমগুলো। অস্ট্রেলিয়ার পত্রপত্রিকাসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রশংসায় ভাসছেন কিশোয়ার। বিশ্বজুড়ে তিনি বাংলাদেশিদের ভালোবাসা এবং সমর্থনও অর্জন করেছেন।

 

শেফ কিশোয়ার চৌধুরী ভবিষ্যতে বাংলাদেশি খাবারের জন্য একটি রান্নার বই লেখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।