নদীরক্ষা লড়াইয়ের জন্য সম্মাননা পেলেন বসনিয়ান নারী

নদীরক্ষা লড়াইয়ের জন্য সম্মাননা পেলেন বসনিয়ান নারী
ছবি: সংগৃহীত
এ লড়াইয়ে তাকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। এমনকি পুলিশের পিটুনি খেয়েও নিজের জায়গায় অবিচল ছিলেন তিনি। হাল না ছেড়ে বরং গ্রামবাসীদের একত্রিত করে প্রতিবাদ আরো জোরালো করেছেন। এবার তার এই লড়াইয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি পেয়েছেন 'গ্রিন নোবেল’ নামে পরিচিত একটি পুরস্কার। 

বসনিয়ার ছোট্ট একটি নদী ক্রুসিকা। যার উপর বাঁধ দিয়ে একটি ছোট জলবিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি করতে চলেছিল বসনিয়া সরকার। কিন্তু এ কাজে পরিবেশ পরতে পারে বড়সড় ঝুঁকিতে। তাই সরকারের বিপক্ষে গিয়ে নদীরক্ষার লড়াইয়ে নেমে পরেছিলেন মায়িদা বিলাল নামে এক নারী।


নানা বাঁধার সম্মুখীন হয়েও ছিলেন অবিচল।  তার দৃঢ়তায় শেষ পর্যন্ত বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা বাতিল করতে বাধ্য হয় সরকার। ২০১৭ সালে তারা এ লড়াই শুরু করেন। প্রায় দেড় বছর লড়াইয়ের পর ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে গ্রামবাসীকে নিয়ে ঐ নারীর  করা প্রতিবাদে পরিকল্পনা বাতিল করেন কর্তৃপক্ষ।  তবে এ প্রতিবাদও নেহাত কম কষ্টের ছিলোনা। 


এ লড়াইয়ে তাকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। এমনকি পুলিশের পিটুনি খেয়েও নিজের জায়গায় অবিচল ছিলেন তিনি। হাল না ছেড়ে বরং গ্রামবাসীদের একত্রিত করে প্রতিবাদ আরো জোরালো করেছেন। এবার তার এই লড়াইয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি পেয়েছেন 'গ্রিন নোবেল’ নামে পরিচিত একটি পুরস্কার। 


৪০ বছর বয়সী এ নারী বলেন, আমরা দিনরাত ২৪ ঘণ্টা সশরীরে টানা ৫০৩ দিন নদীকে রক্ষা করেছি। আমি চাকরি হারিয়েছি, বন্ধুবান্ধব হারিয়েছি, আমার মেয়েকে স্কুলে হয়রানি করা হয়েছে। যদি বলি কাজটা সহজ ছিল, তাহলে মিথ্যা বলা হবে। এত কিছু সত্ত্বেও আমি তা করেছি। 


রয়টার্সের খবর অনুসারে, মায়িদা বিলালকে ২০২১ সালের গোল্ডম্যান এনভায়রনমেন্টাল প্রাইজের ইউরোপীয় বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে ছয়টি অঞ্চলের পরিবেশবাদীদের এই সম্মাননা দেয়া হয়ে থাকে।