এক প্রতিবন্ধী নারীর অদম্য গল্প

এক প্রতিবন্ধী নারীর অদম্য গল্প
শীলা খাতুন
তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী হয়েও নিজের ইচ্ছাশক্তিকে পুঁজি করে পড়াশোনা চালিয়ে গেছি। অনেক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও কখনো হাল ছাড়িনি। কিন্তু অভাবের কাছে আজ আমি অসহায়! আমি নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই। প্রধানমন্ত্রী আমাকে সরকারি বা বেসরকারি যে কোন একটি চাকরি দিয়ে সহযোগিতা করলে চিরকৃতজ্ঞ থাকতাম। 

গত দুই বছরে করোনার কারণে অনেকেই কর্মসংস্থান হারিয়েছে। এর ফলে আর্থিক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে অনেককেই। এমনই একজন হলেন পাবনার শীলা খাতুন। করোনা মহামারীর কারণে তাকে পড়তে হয়েছে আর্থিক বিপাকে। ২৭ বছর বয়সী এই অদম্য নারীর গল্প শুনলে চোখে জল এসে যায়।

 

পাবনার চাটমোহর উপজেলার ছাইকোলা ইউনিয়নের বোয়াইলমারী মধ্যপাড়া গ্রামের শীলা খাতুনের বাড়ি। মাত্র তিন বছর বয়সে পোলিও রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিবন্ধী হয়ে পড়েন তিনি। কিন্তু শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থামিয়ে রাখতে পারেনি শীলাকে। কিন্তু পঙ্গুত্ব তাকে শিক্ষার্জন থেকে ঠেকাতে পারেনি। পড়াশোনা করার প্রবল আগ্রহে  চাটমোহর মহিলা ডিগ্রি কলেজ থেকে  বিএ (পাশ কোর্স) ডিগ্রি লাভ করেছেন।

 

পঙ্গুত্বের সাথে যে কেবল পড়ালেখা চালিয়ে গেছেন তাই নয়, পড়ালেখার ও সংসারের খরচও তিনি চালিয়েছেন নিজেই। বাবা ওমর আলী মারা যাওয়ার পর স্ক্র্যাচে ভর করে প্রাইভেট পড়িয়ে সংসার চালিয়েছেন। ভাঙ্গাচোরা একটি টিনের ছাপড়া ঘরে বৃদ্ধ মা চামেলী খাতুনকে নিয়ে বসবাস করেন শীলা। মা চামেলী খাতুন ডায়াবেটিস ও উচ্চরক্তচাপে আক্রান্ত। আর শীলার শরীরেও দেখা দিয়েছে রক্তশূন্যতাসহ নানা রোগ। মা-মেয়ের প্রতিমাসে ওষুধ লাগে গড়ে প্রায় দেড় হাজার টাকার ওপরে। প্রতিমাসে তার তিন ভাই মিলে ১২শ’ টাকা ও ৩০ কেজি চাল ছাড়া আর কিছুই দেন না। বাকি টাকা সে প্রাইভেট পড়িয়ে আয় করে সংসার চালায়।

 

প্রতিবন্ধী ভাতা ও প্রাইভেট পড়ানোর টাকা দিয়ে কোন মতে চলতে পারলেও করোনা মহামারিতে পাল্টে গেছে প্রতিবন্ধী এই তরুণীর জীবনযাত্রার মান। গত দুই বছর ধরে করোনা মহামারিতে তার প্রাইভেট পড়ানো বন্ধ। এখন টাকার অভাবে ওষুধ কিনতে পারেন না নিয়মিত। মাসের বেশিরভাগ সময় শাক ভাজি দিয়ে ভাত খেয়ে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করেন শীলা ও তার মা চামেলী খাতুন।

 

একটি কর্মসংস্থানের আশায় ঘুরেছে অনেক জায়গাতেই। মেলেনি কর্মসংস্থান মেলেনি এই তরুণীর। যে কোন একটি চাকরির আশায় বেশ কয়েকটি নিয়োগ পরীক্ষায় আবেদন করলেও করোনা মহামারিতে সবকিছু থেমে থাকায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে শীলার আগামী ভবিষ্যৎ। চোখে মুখে হতাশার ছাপ দেখা দিলেও মনোবল হারাননি এই তরুণী। প্রধানমন্ত্রী সমীপে যোগ্যতা অনুযায়ী একটি চাকরির আকুল আবেদন জানিয়েছেন শীলা।

 

তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী হয়েও নিজের ইচ্ছাশক্তিকে পুঁজি করে পড়াশোনা চালিয়ে গেছি। অনেক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও কখনো হাল ছাড়িনি। কিন্তু অভাবের কাছে আজ আমি অসহায়! আমি নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই। প্রধানমন্ত্রী আমাকে সরকারি বা বেসরকারি যে কোন একটি চাকরি দিয়ে সহযোগিতা করলে চিরকৃতজ্ঞ থাকতাম। 

 

বর্তমানে একটি স্থায়ী চাকরিই যেন শীলার কাছে সব থেকে বড় চাওয়া হয়ে দাঁড়িয়েছে। চাকরি না পাওয়া পর্যন্ত তার সংসারের অভাব কাটবেনা। যোগ্যতা অনুযায়ী যেন শীলা একটি চাকরি পেয়ে নিজের ও তার মায়ের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করতে পারে এই আমাদের আশা।