সহিংসতার শিকার নারীকে দোষারোপ বন্ধ করতে নারীপক্ষের আহ্বান

সহিংসতার শিকার নারীকে দোষারোপ বন্ধ করতে নারীপক্ষের আহ্বান
সহিংসতার শিকার নারীকে দোষারোপ বন্ধ করতে নারীপক্ষের আহ্বান
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, নারীপক্ষর দাবি অপরাধের বিচারকে প্রাধান্য না দিয়ে নারীকে দোষারোপের এই অপসংস্কৃতি বন্ধ করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রচার মাধ্যমের মালিকপক্ষ ও সাংবাদিকদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার জন্য দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক। 

আমাদের দেশে কোন নারী নির্যাতনের বা সহিংসতার শিকার হলে এর জন্য ওই নারীকেই দায়ী করা হয়। এটি যেন প্রথা হয়ে দাঁড়িয়েছে যে যাই করুক না কেন দোষ সব নারীরই। তা উত্যক্তকরণই হোক বা নারীকে নির্যাতনই হোক বা ঘর্ষণই হোক। সবক্ষেত্রে নারীকেই যেন দেখা হয় আসামি হিসেবে। আর এক্ষেত্রে সমাজই পালন করে সবচেয়ে বড় ভূমিকা। তাই নারীপক্ষ নির্যাতন, নিপীড়ন বা সহিংসতার শিকার নারীকে দোষারোপের সংস্কৃতি অবসানের আহ্বান জানিয়েছে সমাজকে। এক লিখিত বিবৃতিতে এ আহ্বান করে তারা। 

 

বিবৃতিতে বলা হয়, সম্প্রতি ঢাকার গুলশান এলাকার একটি বাসা থেকে কলেজ ছাত্রী মোসারাত জাহান মুনিয়ার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মুনিয়ার বড় বোন বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীরকে আসামি করে ‘আত্মহত্যার প্ররোচনার’ অভিযোগ এনে মামলা করেন। কিন্তু গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই মেয়েটির চরিত্র বিশ্লেষণ করে অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে।  নারীপক্ষ এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে। দেশের প্রচলিত আইনেও বিচার চাইতে গেলে নারীকেই বিব্রতকর পরিস্থিতির শিকার হতে হয়। সেখানেও চরিত্র বিশ্লেষণ করে তাকে দোষারোপ করা বা তার ওপরই দায় চাপানোর চেষ্টা করা হয়। এটি প্রকৃত অপরাধীকে রেহাই দেওয়ার একটি হীনচেষ্টা। নারীপক্ষ এই সংস্কৃতি ও চর্চার অবসান দাবি করছে।

 

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, নারীপক্ষর দাবি অপরাধের বিচারকে প্রাধান্য না দিয়ে নারীকে দোষারোপের এই অপসংস্কৃতি বন্ধ করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রচার মাধ্যমের মালিকপক্ষ ও সাংবাদিকদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার জন্য দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক। 

 

ভুক্তভোগী নারীর প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে সকলকেই এগিয়ে আসতে হবে একসাথে। আমাদের মনে রাখতে হবে ভুক্তভোগী কখনো একাই আসামী হতে পারেনা। তাই তার প্রতি কটু দৃষ্টি না রেখে সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে দেয়া আমাদের কর্তব্য।