ওয়ার্কআউট

ভুল ব্যায়ামে হিতে বিপরীত!

ভুল ব্যায়ামে হিতে বিপরীত!
সাধারণত শারীরিক সুস্থতার জন্যই ব্যায়াম করা হয়। এবং এতে শারীরিক দুর্বলতা ধীরে ধীরে হ্রাস পেতে থাকে এবং শারীরিক প্রশান্তি অনুভব হয়। কিন্তু ব্যায়ামপরবর্তী সময়ে যদি শরীরের ক্লান্তি বেড়ে যায় অথবা শরীরে অতিরিক্ত ক্লান্তি অনুভব হয়, তবে বুঝতে হবে ব্যায়ামের পরিমাণ অতিরিক্ত হচ্ছে। অতএব অতিরিক্ত ব্যায়াম থেকে নিজেকে আড়ালে রাখতে হবে। ব্যায়ামের মাধ্যমে শারীরিক ক্লান্তি দূর হয়, সুস্থতা ফিরে আসে,এবং অনুভূতি সতেজ হয়। এবং মানসিক নানাসমস্যার সমাধানও হয়। কিন্তু ব্যায়ামপরবর্তী সময়ে যদি নিজের মাঝে একগুয়েমি মনোভাব চলে আসে, কিংবা বিরক্তিকর অনুভূতি হয় তাহলে বুঝে নিতে হবে, বেশি পরিমাণে ব্যায়াম করা হচ্ছে। এবং এরফলেই এমন সমস্যার উৎপত্তি।

শারীরিক সুস্থতা এবং দৈহিক সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য অনেকেই নানা পন্থা অবলম্বন করেন। কেউ ডাক্তারের পরামর্শ, কেউ আবার নানা ঔষধ সেবন করেন। কিন্তু সিংহভাগ মানুষ এসবের জন্য ব্যায়ামকেই প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। কেননা,শারীরিক সুস্থতা কিংবা দৈহিক সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে ব্যায়াম বেশ উপকারী। তবে মাত্রাতিরিক্ত ব্যায়াম শরীরের জন্য ক্ষতিকর। মাত্রাতিরিক্ত ব্যায়াম শরীরকে সুস্থতার চেয়ে অসুস্থতার দিকে ধাবিত করে। অতিরিক্ত ব্যায়ামের ফলে শরীরে নানাপ্রকার রোগের ও সংক্রমন ঘটে। অতিরিক্ত ব্যায়ামের ফলে শরীর থেকে কিছু লবণ বের হয় সে সম্পর্কে জানা যাক।

ঘুম না হওয়া


দৈনন্দিন জীবনে প্রতিটি মানুষের ঘুমের প্রয়োজন পড়ে। তবে ব্যায়াম করার পর শরীরে ঘুমের চাহিদা অনেকটা বেড়ে যায়। এই সতেজ ঘুমের ফলে শরীরের যাবতীয় অবসন্নতা দূর হয়। যদি লক্ষ করা যায় যে, ব্যায়ামের পর পরিমাণমতো ঘুম হচ্ছে না কিংবা একদমই হচ্ছে না। তবে বুঝতে হবে, ব্যায়াম পরিমাণের চেয়ে বেশি হয়ে যাচ্ছে।  এবং এর কারণেই ঘুমজনিত সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। 


অতিরিক্ত ক্লান্তি অনুভব হওয়া 


সাধারণত শারীরিক সুস্থতার জন্যই ব্যায়াম করা হয়। এবং এতে শারীরিক দুর্বলতা ধীরে ধীরে হ্রাস পেতে থাকে এবং শারীরিক প্রশান্তি অনুভব হয়। কিন্তু ব্যায়ামপরবর্তী সময়ে যদি শরীরের ক্লান্তি বেড়ে যায় অথবা  শরীরে অতিরিক্ত ক্লান্তি অনুভব হয়, তবে বুঝতে হবে ব্যায়ামের পরিমাণ অতিরিক্ত হচ্ছে। অতএব অতিরিক্ত ব্যায়াম থেকে নিজেকে আড়ালে রাখতে হবে। ব্যায়ামের মাধ্যমে শারীরিক ক্লান্তি দূর হয়, সুস্থতা ফিরে আসে,এবং অনুভূতি সতেজ হয়। এবং মানসিক নানাসমস্যার সমাধানও হয়। কিন্তু ব্যায়ামপরবর্তী সময়ে যদি নিজের মাঝে একগুয়েমি মনোভাব চলে আসে, কিংবা বিরক্তিকর অনুভূতি হয় তাহলে বুঝে নিতে হবে, বেশি পরিমাণে ব্যায়াম করা হচ্ছে। এবং এরফলেই এমন সমস্যার উৎপত্তি। 


হরমোনজনিত সমস্যা


অতিরিক্ত ব্যায়ামের অন্যতম ক্ষতিকর দিক হচ্ছে হরমোনজনিত সমস্যা। এতে করে শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। নারীর পিরিয়ডগত সমস্যার সৃষ্টি হয়। হাত-পা ব্যাথাসহ মানসিক অস্তিরতায় ভুগতে হয়। স্বাস্থ্য অনেকসময় ভেঙে পড়ে।  নতুবা শরীর অতিরিক্তভাবে বেড়ে যায়।  এসব লবণ শরীরে কম বোধ হলে নিশ্চিত বুঝতে হবে অতিরিক্ত ব্যায়ামের কারণে এতসব সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। 


ধীরগতির উন্নতি


স্বাভাবিকভাবে ব্যায়ামের ফলে বেশ দ্রুত শারীরিক উন্নতি হতে শুরু করে। কিন্তু ব্যায়ামপরবর্তী সময়ে ও যদি শারীরিক উন্নতির ধীরগতি লক্ষ্য করা যায়, কিংবা উন্নতির চেয়ে অবনতির দিকে ধাবিত হয়, তবে বুঝতে হবে অতিরিক্ত ব্যায়ামের কারণেই শারীরিক উন্নতির এমন চিত্র।  


অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের অবক্ষয়


সঠিক ব্যায়ামের মাধ্যমে শরীরের নানা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলি সতেজ এবং স্বাস্থ্যকর হয়ে ওঠে। এতে জীবন চলাচলে অনেক স্বাচ্ছন্দ্যবোধ অনুভব হয়। কিন্তু ব্যায়াম করতে গিয়ে অজানা বা ভুলবশত পরিমাণের তুলনায় অধিক ব্যায়াম করতে থাকে। এতে করে শরীরের নানাঅঙ্গে সমস্যা দেখা দেয়। যেমন হাত-পা ব্যথা করা, বিভিন্ন পয়েন্টে অস্বস্তি বা ব্যথা অনুভব হওয়া, ভারি চলাচলে কষ্ট অনুভব হওয়া ইত্যাদি। এসব লবণ দেখা দিলেই বুঝতে হবে অতিরিক্ত ব্যায়ামের ফলেই শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে সমস্যা হচ্ছে। এবং যতদ্রুত সম্ভব অতিরিক্ত ব্যায়াম থেকে নিজেকে বিরত রাখতে হবে। 
ব্যায়ামের উপকারিতা বেশ প্রশংসনীয়। এতে করে ব্যক্তিজীবনের শারীরিক বা মানসিক  নানাসমস্যা ও সমাধান হয়। অতএব, ব্যায়ামের মাধ্যমে শারীরিক সুস্থতা এবং আশানুরূপ সাফল্য পেতে হলে উপযুক্ত পন্থায় এবং নির্দিষ্ট নিয়মের ভিত্তিতে ব্যায়ামের প্রতি যথাসম্ভব সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। এবং মাত্রাতিরিক্ত ব্যায়াম অবশ্যই পরিহার করতে হবে।