শীতে ত্বকের যত্ন

শীতে ত্বকের যত্ন
শীতে ত্বকের যত্ন
তৈলাক্ত হোক বা শুষ্ক ত্বক হোক সব ধরনের ত্বকের জন্যই অলিভ অয়েল খুব কার্যকর। এর মধ্যে উপস্থিত ফ্যাটি অ্যাসিড ও অ্যান্টিঅক্সিডান্ট শুধু আপনার ত্বকের জন্য অত্যন্ত উপকারী।


বাংলাদেশে এখন শীতের আগমন ঘটছে। শীত শীত ভাব ইতোমধ্যে চলে এসেছে প্রকৃতিতে। শীতকালে কিন্তু ত্বকের বিশেষ যত্ন নিতে হয়। শীতের সময় ধুলাবালি, প্রকৃতির শুষ্কতা, অতিরিক্ত ঠান্ডা ত্বকের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। তাই শীতকালে ত্বক রুক্ষ, শুষ্ক, টানটান হয়ে আসে। ত্বক উজ্জ্বলতা হারায় ও নিস্তেজ হয়ে পড়ে। অনেক সময় সঠিক পরিচর্যার অভাবে ত্বক ফেটেও যেতে পারে। এতে সৌন্দর্যতা ব্যাঘাতের সাথে সাথে ত্বকের ক্ষতিও হয়। সুতরাং শীতে ত্বক সুন্দর ও সুস্থ রাখতে হলে নিয়মিত ও সঠিক পরিচর্যা করতে হবে। 

 


ময়েশ্চারাইজার: শীতকালে ঠান্ডর কারণে ত্বক আদ্রতা হারাতে থাকে। এতে ত্বক শুষ্ক হয়ে আসে। তাই দিনে সময়মতো ত্বকে ময়েশ্চারাইজার লাগাতে হয়। ময়েশ্চারাইজার ঠিকমতো ব্যবহার না করলে ত্বক রুক্ষ হয়ে আসে। ফলে ত্বক সৌন্দর্যতা হারিয়ে ফেলে। এছাড়াও বেশি রুক্ষ হয়ে আসলে ত্বক ফেটেও যেতে পারে। তাই শীতে ত্বক সুস্থ রাখতে দিনে দুবার অবশ্যই ময়েশ্চারাইজার ক্রিম বা লোশন ব্যবহার করতে হবে।

 


অলিভ অয়েল: তৈলাক্ত হোক বা শুষ্ক ত্বক হোক সব ধরনের ত্বকের জন্যই অলিভ অয়েল খুব কার্যকর। এর মধ্যে উপস্থিত ফ্যাটি অ্যাসিড ও অ্যান্টিঅক্সিডান্ট শুধু আপনার মুখ নত্বকের জন্য অত্যন্ত উপকারী। তাই শীতে ত্বক ভালো রাখতে অবশই অলিভ অয়েল প্রতিদিন ব্যবহার করতে হবে।

 


ঘৃতকুমারী: ঘৃতকুমারী বা অ্যালোভেরা ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। বাজারে অ্যালোভেরা জেল কিনতে পাওয়া যায়। এটি ছাড়াও ঘরোয়া পদ্ধতিতেও অ্যালোভেরা জেল বানানো যায়। একটি গোটা অ্যালেভেরা পাতা দুভাগ করে কেটে দুপাশের পাতা ফেলে দিয়ে মাঝখানের জেলির মতো অংশ কচলে নিয়ে মুখমন্ডলে লাগানো যায়। এতে উপকার পাওয়া যাবে।

 


মধু ও টকদই: টকদইয়ে আছে ল্যাকটিক এসিড যা ত্বকের উজ্জ্বল্যতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। আর মধু ত্বকের শুষ্কভাব রোধ করে। মধু আর টকদই একসাথে মিশিয়ে ফেসপ্যাক তৈরী করে নিতে পারেন। মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিট পর নরমাল পানি দিয়ে এটি ধুয়ে নিন। পুরো শীতে এই প্যাক ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যাবে।

 


সানস্ক্রিন: অনেকে মনে করতে পারেন শীতকালে তো সূর্যের তাপ তেমন নেই সুতরাং সানস্ত্রিন ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই। কিন্তু এই ধারণাটা আসলে একেবারে ভুল। শীতকালেও সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। তাই শীতে সূর্যের তাপ না থাকলেও সানস্ক্রিন ক্রিম ব্যবহার করতে হবে।
ঠোঁটের যত্ন: শীতে বারবার ঠোঁট শুষ্ক হয়ে আসে। শীতে ঠোঁট ফাটা খুবই সাধারণ বিষয়। তাই ত্বকের পাশাপাশি ঠোঁটেরও যত্ন নিতে হবে। ঠোঁট শুকনা অনুভব করলেও  জিহ্বা দিয়ে ভেজানো উচিত না। এতে ঠোঁটের ক্ষতি হয়। তাই ঠোঁটে সবসময় ভ্যাসলিন বা লিপজেল ব্যবহার করতে হবে। ভ্যাসলিন সবসময় সাথে রাখাই ভালো। এছাড়াও রাতে গ্লিসারিন ব্যবহার করাও ভালো। এত ঠোঁট সবসময় ভেজা থাকবে ও ঠোঁট  ফাটবেনা।
শীতকালে ত্বকের বিশেষ যতেœ এই পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করতে পারেন। এতে শীতেও ত্বক উজ্জ্বল ও সুস্থ থাকবে।