শীতকালে চুলে যত্ন 

শীতকালে চুলে যত্ন 
ছবিঃ সংগৃহীত
শীতকালে সব থেকে বেশি উপকারে আসে হট অয়েলের ম্যাসাজ। নারিকেল তেল, অলিভ অয়েল, বাদাম তেল বা যে কোনো চুলে লাগানোর তেল হালকা গরম করে নিয়ে চুলের গোড়ায় ম্যাসাজ করে লাগান। এক ঘণ্টা রেখে চুল ধুয়ে ফেলুন।

শীতের সঙ্গে চুল আর ত্বকের একধরনের শত্রুতা আছে বলেই মনে হয়। শীতকালে বাতাসে আর্দ্রতা কমে যায়, বেড়ে যায় ধুলাবালির প্রকোপ। সে কারণে চুল রুক্ষ ও নিষ্প্রাণ হয়ে পড়ে। শীতকালে চুলের আগা ফেটে যাওয়া, চুলের গোড়া নরম হওয়া, চুল ঝড়ে পড়া, খুশকি সমস্যা, মাথার ত্বকের ফাংগালস সমস্যা ইত্যাদি সমস্যাগুলো বেশি বেড়ে যায়। তাই সারা বছরের তুলনায় শীতকালে একটু বেশি যত্নশীল হতে হয়। তবে ঠিকমতো যত্ন নিলে এই শীতেও চুল থাকবে সুন্দর, ঝরঝরে আর সতেজ। তাহলে আজকে জেনে নিন শীতকালে চুল সুন্দর রাখার উপায়।


শীতকালে সব থেকে বেশি উপকারে আসে হট অয়েলের ম্যাসাজ। নারিকেল তেল, অলিভ অয়েল, বাদাম তেল বা যে কোনো চুলে লাগানোর তেল হালকা গরম করে নিয়ে চুলের গোড়ায় ম্যাসাজ করে লাগান। এক ঘণ্টা রেখে চুল ধুয়ে ফেলুন। 


ভিটামিন-ই চুলের জন্য খুবই ভালো। দুই দিন পরপর নারিকেল তেল অথবা যে কোনো তেলের সাথে ভিটামিন-ই ক্যাপসুল ভেঙে এর তেলটি মিশিয়ে মাথায় ভালোভাবে লাগিয়ে রাখুন। সারারাত রেখে সকালে ধুয়ে ফেলুন। তবে বেশি গরম পানি দিয়ে কখনও চুল ধোয়া যাবে না।


শীতের দিনে আর্দ্রতা কমে যায় এর ফলে মাথার ত্বকও ময়েশ্চার হারিয়ে ফেলে তাই এসময় কম-বেশি সবাই খুশকির সমস্যায় ভোগেন। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে হাফ কাপ অলিভ অয়েল হালকা গরম করে সাথে লেবুর রস মিশিয়ে চুলের গোড়ায় লাগান। চল্লিশ মিনিট রেখে হালকা মৃদু শ্যাম্পু ব্যবহার করে ধুয়ে ফেলুন।


শীতকালে অনেকের মধ্যে গোসল করার এক ধরনের ভীতি দেখা যায়। গোসলের জন্য শরীরে গরম পানি ব্যবহার করা হলেও মাথায় গরম পানি ব্যবহার করা উচিত নয়। এ জন্য অনেকে গোসলের সময় চুল ভেজান না, ফলে নিয়মিত শ্যাম্পুও করা হয় না। কিন্তু এটি একদমই উচিত নয় বরং এ সময় বাইরে অনেক বেশি ধুলাবালি উড়ে বেড়ায় তাই চুল রাখা উচিত।


গোসল করে এসেই চুল একদম ভেজা থাকা অবস্থাতেই আমরা অনেকে চুল আঁচড়ে ফেলি। এই ভেজা অবস্থায় চুলের গোড়া অনেক বেশি নরম থাকে। চুলের গোড়া নরম থাকার ফলে চুল খুব দ্রুত পড়ে যায়। তাই আগে আমাদের চুল শুকিয়ে নিতে হবে, তারপর চুল আঁচড়াতে হবে।


ভেজা চুলে তোয়ালে দিয়ে জোরে জোরে মুছলে চুল পড়ে ও রুক্ষ হয়ে যায়। ভেজা চুল তোয়ালে দিয়ে ঘষে ঘষে মুছবেন না। আলতো করে চুলে তোয়ালে জড়িয়ে রাখুন। ১০-১৫ মিনিট এভাবে রাখার পর জোরে চুল না মুছে হালকা হাতে চুল মোছার চেষ্টা করুন।


শীতকালে চুলের পানি সহজে শুকাতে চায় না তাই আমাদের শীত লাগে। আমরা তাই তাপ দিয়ে তাড়াতাড়ি চুল শুকিয়ে নিতে চাই। কিন্তু চুলে অতিরিক্ত তাপের প্রভাব চুলকে আরও রুক্ষ করে তোলে। তাই যতটা সম্ভব চুলকে তাপ থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করতে হবে। হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহারে সতর্ক হোন। যতটা সম্ভব কম ব্যবহার করুন।