ঈদ জামাতে স্বাস্থ্যবিধিকে গুরুত্ব দিন

ছবি: সংগৃহীত
বর্তমানে মহামারী কালীন পরিস্থিতিতে অবরুদ্ধতার রুদ্ধশ্বাসে কড়া নাড়ছে বিষণ্ণ ঈদ বার্তা। কোভিড-১৯ থাবা বসিয়েছে আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের খুঁটিনাটি আনন্দের উপসর্গে, তাই ঈদ আনন্দে যে বিষণ্ণতার ছোঁয়া থাকবে সে বলাই বাহুল্য।

পাড়ায় পাড়ায় গরু নিয়ে উচ্ছ্বাস, মেহেদির নকশায় ডুবে যাওয়া কিংবা প্রচুর কেনাকাটার কোনটাই এবার হবে না। আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে বাড়িতে প্রচুর মিষ্টি খাওয়ার মিষ্টি যন্ত্রণা থেকেও এবার রেহাই মিলবে, সেই সঙ্গে সালামির বিশাল অঙ্কটাতেও পরবে ভাঁটা। তবে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন ঘটবে ঈদের গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতায়।

 

করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদ জামাত আদায় করতে হবে। এক্ষেত্রে সামান্য অসাবধানতা ডেকে আনতে পারে বিপর্যয়। ঈদগাহ মাঠের খোলা ময়দানে রীতি রেওয়াজ মতো ঈদের নামাজ আদায় পরিহার করে চলমান করোনা সংকট মোকাবেলায় ঈদ গাহের পরিবর্তে মসজিদে ঈদের নামাজ মসজিদে আদায় করা যেতে পারে একাধিক জামাতের মধ্য দিয়ে।

 

ঈদ জামাতে অংশগ্রহণে অবলম্বন করতে হবে বাড়তি সতর্কতা। কোভিড-১৯ সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়িয়ে পরে, এক্ষেত্রে মসজিদে ঈদ জামাতে মিলিত মুসল্লিদের সংস্পর্শে এ ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পরতে পারে। তাই অবশ্যই শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে জামাতে সামিল হতে হবে। মাস্ক এবং  হ্যান্ড গ্লাভস পরিধান তো বর্তমান সময়ে যেকোনো স্থানেই আবশ্যক এক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম নয় এবং সেই সাথে পাঞ্জাবির পকেটে রাখতে পারেন ছোট একটি স্যানিটাইজার কিংবা জীবাণুনাশক। ঈদের আনন্দ যাতে বিষাদে পরিণত না হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখেই মেনে চলুন প্রতিটি স্বাস্থ্য বিষয়ক নির্দেশনা। আপনার একটু অসাবধানতা কিংবা একটি ছোট্ট অবহেলা, শুধু আপনারই নয় হতে পারে আপনার পরিবারের প্রতিটি সদস্যের জন্য বিপদের কারণ।

 

একাধিক বার খুব অল্প পরিসরে অনুষ্ঠিত ঈদ জামাতে অংশগ্রহণ করুন। নিজ নিজ বাসস্থান থেকেই অজু করে মসজিদে প্রবেশ করুন এবং অজুর সময় অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী জীবাণুনাশক সাবান দিয়ে হাত পা ধুয়ে নিন। জায়নামাজটি নিজ দায়িত্বে বাসস্থান থেকেই নিয়ে যাবেন, মসজিদে সংরক্ষিত জায়নামাজ ও টুপি-তসবির ব্যবহার এ সময় পরিহার করুন এবং খোলা জায়গা কিংবা কার্পেটে সরাসরি নামাজে দাঁড়ানো থেকে বিরত থাকুন। জায়নামাজ বিছানোর আগে জায়গাটিতে জীবাণুনাশক ছিটিয়ে নিতে পারেন। এতে করে আপনি দ্বিধাহীন ভাবে নিশ্চিন্ত মনে সামিল হতে পারবেন আনন্দঘন ঈদ জামাতে।

 

নামাজ আদায় শেষে প্রথা অনুযায়ী যুগ যুগ ধরে চলে আসা ভ্রাতৃত্বের বন্ধন প্রকাশে কোলাকুলি করা থেকে এবারে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত কারণে বিরত থাকা ব্যতীত উপায় নেই। কুশলাদি বিনিময়ে বাঁধা না থাকলেও অবশ্যই বজায় রাখতে হবে সামাজিক দূরত্ব।
নামাজ আদায় শেষে ঘরে ফিরেই প্রতি বছরের মতো পরিবারের সান্নিধ্যে আসবেন না। ফিরনি-পায়েসের রাজ্যে প্রবেশের পূর্বে অবশ্যই আপনার জায়নামাজ সহ পরিধেয় পোশাক ভিজিয়ে রাখবেন জীবাণুনাশক মিশ্রিত পানিতে এবং গোসল সেরে নিয়ে তবেই প্রিয়জন, পরিজনের সান্নিধ্যে আসবেন।

 

আপনি যদি অসুস্থ হয়ে থাকেন কিংবা অসুস্থ কারো সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন এমন হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই ঈদ জামাত পরিহার করুন যাতে মসজিদের সকল মুসুল্লি এবং তাদের পরিবার আপনার থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে না পরে যান।

 

এছাড়াও পরিবারের বয়স্ক এবং শিশু সদস্যদের এবারের ঈদ জামাতে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখুন। মহামারী কালীন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী অবরুদ্ধতার এই ঈদ সকল স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিধি নিষেধ মেনেই উদযাপন করুন।