পরিচ্ছন্নতাই মূল কথা

প্রতীকী ছবি
দীর্ঘদিনের লকডাউন শেষে অফিস আদালত খুলে গেছে, নানা প্রয়োজনে বাড়ি থেকে বের হতে হচ্ছে আমাদের। কিন্তু যেকোনো মুহূর্তে আমাদের পাশের মানুষ থেকেও আমাদের দেহে প্রবেশ করতে পারে ভাইরাস, তাই দরকার বাড়তি সতর্কতা।

সারা পৃথিবীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা থমকে দিয়েছে যে নভেল করোনা ভাইরাস, তার কোনো কার্যকরী প্রতিষেধক এখনো আবিষ্কৃত হয়নি। তাই এই ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধই মানুষের সুস্থ থাকার একমাত্র অবলম্বন হয়ে উঠেছে। আর পরিচ্ছন্নতাই হয়ে উঠেছে এই সংক্রমণ থেকে বাঁচার প্রধান রক্ষা কবচ।

 

বাড়ির পরিচ্ছন্নতার উপর পরিবারের সদস্যদের সংক্রমণ ঝুঁকি অনেকাংশেই নির্ভর করে। মার্কিন জাতীয় স্বাস্থ্য সংস্থার সাম্প্রতিক গবেষণায় প্রকাশিত তথ্যমতে, করোনা ভাইরাস কাঠের উপর ২৪ ঘণ্টা, প্লাস্টিক আর স্টিলের উপর ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হয়। তাই ফিনাইল বা জীবাণুনাশক তরল পানিতে মিশিয়ে ঘরের মেঝে, দরজা, জানালার গ্রিলসহ প্রতিটি কোনা মুছে নিন। বালিশ, তোষক প্রতি সপ্তাহে রোদে দিন।

 

টিভি, এসির রিমোট, রেফ্রিজারেটর এর দরজা, মোবাইল, ল্যাপটপের কিবোর্ড, চাবি,পানির কল, দরজার হাতল, কলিংবেল, সুইচ ইত্যাদি বার বার ব্যবহার করতে হয় এমন বস্তুগুলো জীবাণুনাশক তরল দিয়ে মুছে জীবাণুমুক্ত করা প্রয়োজন। বাজারের ব্যাগ, পরিধেয় কাপড়, ঘরবাড়ি, ফার্নিচার মোছার কাপড় প্রতিবার ব্যবহারের পরে ভালোভাবে সাবান বা ডিটারজেন্ট দিয়ে ধুয়ে রোদে শুকিয়ে নিতে হবে। এছাড়া ঘরবাড়ি পরিষ্কারের সময় মাস্ক এবং গ্লাভস ব্যবহার করা উচিত।প্রতিদিন সাবান দিয়ে গোসল করুন। হাঁচি বা কাশি দেবার সময় টিস্যুতে নাক মুখ ঢেকে নিন। ব্যবহৃত টিস্যু মুখবন্ধ ডাস্টবিনে ফেলুন এবং এরপর হাত সাবান পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

 

 

দীর্ঘদিনের লকডাউন শেষে অফিস আদালত খুলে গেছে, নানা প্রয়োজনে বাড়ি থেকে বের হতে হচ্ছে আমাদের। কিন্তু যেকোনো মুহূর্তে আমাদের পাশের মানুষ  থেকেও আমাদের দেহে প্রবেশ করতে পারে ভাইরাস, তাই দরকার বাড়তি সতর্কতা।

 

ব্যাগে হ্যান্ড স্যানিটাইজার আর পরিষ্কার খাবার পানি বহন করুন। অফিসে প্রবেশের পর দুইহাত সাবান পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। নিজের কাজের জায়গা জীবাণুনাশক আর পানির মিশ্রণ দিয়ে মুছে ফেলুন। প্রতিবার টাকা ধরার পর হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন।ব্যক্তিগত গাড়ি বা মোটরবাইক ব্যবহার করে থাকলে তার স্টিয়ারিং হুইল, সিট, গিয়ার শিফট, দরজার হাতলসহ অভ্যন্তরীণতল সুতিকাপড়ে লিকুইড সাবান এবং জীবাণুনাশক দ্রবণ এর মিশ্রণে ভিজিয়ে মুছে নিন। এক্ষেত্রে এলকোহল জাতীয় স্যানিটাইজার ব্যবহার করা যাবেনা কারণ তা সিটের লেদারকে বিবর্ণ করে দিতে পারে।

 

জুতো দরজার বাইরে রেখে ঘরে প্রবেশ করুন। বাইরে থেকে ফিরে দুইহাত সাবান পানি দিয়ে ২০ সেকেন্ডের বেশি সময় নিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন। এরপর সোজা বাথরুমে গিয়ে পোশাক পরিবর্তন করে মুখ, হাত সাবান পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। এরপর ইথাইল অ্যালকোহল আছে এমন কোনো স্যানিটাইজার কিংবা জীবাণুনাশক তরল পরিষ্কার কাপড়ে লাগিয়ে তা দিয়ে ব্যাগ, চশমা, পার্স, মানিব্যাগ, মোবাইল মুছে ফেলতে হবে।

 

 

বাজার থেকে আনা ফল,সবজি পানির কলের নিচে রেখে হাত কিংবা বাসন মাজার স্পঞ্জ দিয়ে ঘষে ঘষে ধুয়ে ফেলুন এবং ¯পঞ্জটি গরম পানি দিয়ে ধুয়ে আলাদা রেখে দিন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা মতো কাঁচা আর রান্না করা খাবার আলাদা সংরক্ষণ করুন।

 

আমরা এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে অদৃশ্য এক শত্রুর মোকাবেলা করে চলেছি প্রতিনিয়ত। আর এই যুদ্ধে পরিচ্ছন্নতাই আমাদের সংক্রমণের ঝুঁকিকে বহুলাংশে কমিয়ে দেবে। আমাদের মনে রাখতে হবে যে আমাদের একটু অসাবধানতা আর অসতর্কতার কারণে আমাদের নিজের আর প্রিয়জনদের জীবন ঝুঁকিতে পড়তে পারে।