সম্পর্কে ফেসবুকের প্রভাব

প্রতীকী ছবি
বাস্তব দুনিয়ায় বাবা-মায়ের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক যেমন সন্তানের জন্য উত্তম, তেমনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও। সবচেয়ে বড় কথা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ নিজের বাবা-মাকে নিয়ে কোনো পোস্ট দিলে তা দারুণ ইতিবাচক সাড়া ফেলে। সন্তানকে নিয়ে দেওয়া পোস্টেও তা-ই হয়। ফলে সেই ইতিবাচক পরিবেশটা আছেই। এখন সেটি কাজে লাগানো দুই পক্ষেরই দায়িত্ব।

ইন্টারনেট ছাড়া এখন জীবন প্রায় অচল। ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিণত হয়েছে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের একটি অংশে। প্রচুর বন্ধু, অনুসারী, শত শত পোস্ট আর ছবি। এ যেন একটা আলাদা বিশ্ব। উঠতি বয়সে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্করা, কে নেই এখানে। তবে চিন্তার ব্যাপার হলো ভার্চুয়াল এই বিশ্বের নানা রকম সম্পর্কের ছড়াছড়ির প্রভাব পড়ছে পারিবারিক সম্পর্কগুলোর উপর।

 

কৃত্রিম এই জগতের ইতিবাচক ও নেতিবাচক দুই ধরনের প্রভাবই রয়েছে বাস্তব জীবনের সম্পর্কের উপর। একদিকে যদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সন্তান বাবা-মায়ের বন্ধু তালিকায় থাকে তবে পাল্টে যাবে দুই পক্ষের মধ্যকার সম্পর্কটাই। আবার অন্যদিকে সন্তান ফেসবুকে কী করছে, কী দেখছে, কী পোস্ট করছে, তা জানতে বাবা-মায়ের উঠেপড়ে লাগাই স্বাভাবিক। কেননা সন্তান বাজে সংস্পর্শে পড়ুক, তা চাইবেন না কোনো বাবা-মা। এ কারণে ফেসবুকে ব্যবহার নিয়ে হয়তো প্রতিদিনই বাবা-মায়ের জেরার সম্মুখীন হতে হয় সন্তানদের। এতে বাবা-মায়ের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক কোনোভাবেই ঠিক আগের মতো থাকে না। একটা গুমোট পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেতে হয় দুই পক্ষকেই।

 

আবার সন্তান হয়তো বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে মাস্তি করছে, ঘুরছে কিংবা কাজে বা পড়াশোনায় ফাঁকি দিচ্ছে। সে ক্ষেত্রে তার ফেসবুকের স্ট্যাস্টাস, ছবি বা চেক-ইনই পরিবারের কাছে ধরিয়ে দেবে তাকে। কিংবা সন্তানের বাল্যকালের কোনো ছবি, কারও সঙ্গে অন্তরঙ্গ কোনো মুহূর্তের ছবি প্রকাশ করতে চায় না সে। কিন্তু পরিবারের কেউ বা কাছের কোনো বন্ধু সেই ছবিটিই ফেসবুকে আপলোড করলো। ছবি প্রকাশের পর কমেন্ট, লাইক আর ইমোজির বন্যায় ভাসতে ভাসতে অনেকের মুখে কালি মাখার মতো অবস্থা হয়। সর্বদা সন্তান কী করছেন, না করছে, তার প্রত্যেক কর্মকাণ্ডের ওপর নজর রাখছেন বাবা-মা, ভাই-বোন কিংবা দাদা-দাদি ও চাচা-চাচিরা। হয়তো মনের অজান্তেই সন্তানের সম্পর্কে একটা অন্যরকম ধারণা তৈরি হচ্ছে তাদের মধ্যে।

 

বাবা-মা অথবা পরিবারের এমন নজরদারি আবার সন্তানদের বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায় অনেক ক্ষেত্রেই। তাদের মতে, এটা তো ব্যক্তিগত জীবনে সরাসরি হস্তক্ষেপ। আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাবা-মায়ের বন্ধুত্বের আমন্ত্রণকে তো এক ধরনের ফাঁদ হিসেবেই দেখে অনেক সন্তানরা। কেননা, বন্ধু-তালিকায় তাদের জড়ানো মানেই সন্তানদের বিভিন্ন পোস্টে তাদের নানান রকম মন্তব্য বা পরামর্শের ভয়। আবার কোনো বিষয়ে সন্দেহ হলে কিংবা গোপন কোনো বিষয়ে ধরা পড়ে যাওয়ার ভয় তো আছেই। ফলে এখন অভিভাবক ও সন্তানের সম্পর্কে একটা নতুন চ্যালেঞ্জ এসে দাঁড়িয়েছে, আগে যেটা ছিল না।

 

তাই এখানে ভারসাম্য রক্ষাটা ভীষণ জরুরি। বাস্তব দুনিয়ায় বাবা-মায়ের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক যেমন সন্তানের জন্য উত্তম, তেমনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও। সবচেয়ে বড় কথা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ নিজের বাবা-মাকে নিয়ে কোনো পোস্ট দিলে তা দারুণ ইতিবাচক সাড়া ফেলে। সন্তানকে নিয়ে দেওয়া পোস্টেও তা-ই হয়। ফলে সেই ইতিবাচক পরিবেশটা আছেই। এখন সেটি কাজে লাগানো দুই পক্ষেরই দায়িত্ব।