রঙিন মেহেদীতে যখন উপঘাত!

রঙিন মেহেদীতে যখন উপঘাত!
রঙিন মেহেদীতে যখন উপঘাত!
মেহেদী পাতায় কমলা রং এর এক ধরণের রঞ্জক পদার্থ থাকে যাকে লসোন (Lawsone/Hennotannic acid)  বলে। একমাত্র ল্যাব টেস্টেই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব মেহেদীতে কোন কোন কেমিক্যাল মেশানো হয়েছে। 

ঈদ কিংবা বিয়ে বিভিন্ন উৎসবে আমাদের দেশের নারীদের মেহেদী ছাড়া যেন চলেই না। এসব অনুষ্ঠানের মূল অংশ এই মেহেদী। মেহেদী ব্যবহারের ক্ষেত্রে নেটিজেনদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক লেগেই আছে। এমতাবস্থায় মেহেদিকে নিয়ে একটি সমাধানে আসা অত্যাবশ্যকীয়। 

 

মেহেদী পাতায় কমলা রং এর এক ধরণের রঞ্জক পদার্থ থাকে যাকে লসোন(Lawsone/Hennotannic acid)  বলে। একমাত্র ল্যাব টেস্টেই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব মেহেদীতে কোন কোন কেমিক্যাল মেশানো হয়েছে। 

 

খাঁটি মেহেদী কখনোই কালো রং এর হয়না। সকল কালো মেহেদীই ভেজাল বা কেমিক্যাল মিশ্রিত। প্রাকৃতিক মেহেদী কখনোই ৫ মিনিটে গাঢ় টুকটুকে রং দেয়না।মেহেদীর রং হাতে ঢুকতে কয়েকঘন্টা সময় লাগে এবং পরবর্তী ২৪- ৪৮ঘন্টায় তা অক্সিডাইজড (বাতাসের অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে) হয়ে গাঢ় রং হয়।

 

মেহেদীর রসের স্বাভাবিক রং ন্যাচারাল কমলা(CI-75480)।মেহেদী হাত দিয়ে ধরা মাত্রই যদি হাত লাল বা খয়েরী লাল হয়ে যায় না। 

 

মেহেদীতে বিভিন্ন ভেজাল উপাদান মেশানো হয় যা শরীরের জন্য অত্যধিক ক্ষতিকর। কার্বোলিক এসিড  ফেনল বা সাপ তাড়ানোর ঔষধ হিসাবে বেশী পরিচিত। এটা ত্বকের কোষগুলোকে মেরে ফেলে এবং এর প্রতিরোধক ক্ষমতাকে ধ্বংস করে; ফলে মেহেদীর রং সহজেই ত্বকে প্রবেশ করে ও দ্রুত রং দেয়।

 

Para-Phenylene-Diamine এটা কালির রং। সকল কালো রং এর মেহেদীতে পিপিডি আছে। ন্যাচারাল মেহেদী কখনোই কালো রং এর হয়না। পিপিডি মারাত্মক অ্যালার্জি তৈরি করতে পারে। রেড অক্সাইড ফার্নিচারের রং করার কাজে ব্যবহৃত লালচে খয়েরী রং এর পাউডার কেরোসিন, গ্যাসোলিন, তার্পিন তেল, কর্পূর ইত্যাদি। এসব দ্রাবক মেহেদীর রঞ্জক লসোনের ঘনত্ব বাড়ায়,ফলে মেহেদীর রং গাঢ় হয়।

 

কেমিক্যাল ডাই মেহেদীর রং গাঢ় ও দ্রুত করার জন্য কাল, লাল বা খয়েরী লাল রং এর ডাই ব্যবহার করা হয়।

 

কেমিক্যালের ক্ষতিকর দিকগুলো কেড়ে নিতে পারে আপনার ঘুম। ত্বকের অ্যালার্জি জাতীয় ক্ষতিটা সবচেয়ে বেশী দেখা যায়। এতে ত্বক চুলকায়, লাল হয়, ফুলে উঠে, চামড়া উঠে যায় বা ফোস্কা পড়ে(contact dermatitis)। পরবর্তীতে ত্বকে কালো দাগ(post inflammatory hyperpigmentation) ও scarring হতে পারে। অনেক সময় তাৎক্ষণিক কোন সমস্যা না হলেও ১-৬ সপ্তাহ পরও সমস্যা হতে পারে(delayed hypersensitivity reaction)। এমনকি প্রথমবার লাগিয়ে কিছু না হলেও দ্বিতীয়বার লাগানোর পরে প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে (sensitization)।

 

ত্বক পুড়ে যাওয়া ফেনল ত্বক পুড়িয়ে দিতে পারে। কম ঘনত্বের ফেনল ত্বক না পুড়ালেও ত্বকের কোষকে মেরে ফেলতে পারে। ফেনল, কেরোসিন, তারপিন, পিপিডি ইত্যাদি ত্বক থেকে দ্রুত শোষিত হয়ে সারা দেহে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষত  কিডনি ও লিভারের জন্য এরা মারাত্মক ক্ষতিকর।

 

কর্পুরের ঘ্রাণ তাৎক্ষণিকভাবে শ্বাসতন্ত্রের ক্ষতি করে। বমিও হতে পারে। টেক্সটাইল ডাই ক্যান্সারসহ নানারকম অসুখ তৈরি করে বলে খাদ্য ও প্রসাধনীতে এর ব্যবহার নিষিদ্ধ। Anaphylactic reaction বা তীব্র মাত্রার অ্যালার্জি হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মানুষ মারা যেতে পারে। পিপিডির কারণে এভাবে রোগী মারা যাওয়ার ইতিহাস রয়েছে।

 

হাতে মেহেদী লাগানো একটা শৈল্পিকচর্চা। ধৈর্যধারণ ও নির্ভেজাল হওয়া শিল্পচর্চার পূর্ব শর্ত।আসুন আমরা তাজা মেহেদী হাতে লাগাই আর কেমিক্যালযুক্ত মেহেদী বর্জন করি। সতর্কতার সাথে সৌন্দর্য বৃদ্ধির উপায় অবলম্বন করাই শ্রেয়।