লকডাউন প্রেমে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন?

লকডাউন প্রেমে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন?
লকডাউন প্রেমে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন?
অনলাইনে আপনার কাছে যত যোগ্যতাসম্পন্নই হোক না কেন; তার সাথে সরাসরি সাক্ষাতের আগে কোন সিদ্ধান্তে যাওয়াটা আপনার ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। একইভাবে, শুধু অনলাইনের পরিচয়ে খুব বেশি বিশ্বাস করে ফেলাটাও অনুচিত।

প্রেম, ভালোবাসার মতো গভীরতম আবেগকে হয়তো এক বাক্যে কিংবা অল্প কথায় প্রকাশ করা অসম্ভব। এজন্যই হয়তো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ঘিরে গড়ে উঠা অসংখ্য সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন চলে আসে। প্রেম কি এমন হয়, কিংবা এভাবে কি সত্যিকারেই ভালোবাসা যায়! এই আবেগ কতটুকু স্থায়ী, এইসব কিছু নিয়েই অসংখ্য বিতর্ক দেখতে পাবেন আজকের প্রজন্মের মাঝে। 

 

তাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে গড়ে উঠা সম্পর্ক নিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত হতে দেখা যায় অনেককে। বিশেষ করে এই লকডাউন সময়ে। গত বছর থেকে অধিকাংশ সময় পার হয়ে গেছে ঘরে বসে থাকে। তাই মানুষ আগের চাইতেও বেশি পরিমাণে নির্ভরশীল হয়ে উঠেছে ফেসবুক, টুইটার আর ইন্সটাগ্রামের প্রতি। আর এখানেই ঘটেছে বিপত্তি। একজনের পোস্ট দেখে ভালো লেগে কমেন্ট থেকে শুরু কিংবা স্টোরির রিপ্লাই দিতে গিয়ে দীর্ঘ সময়ের আলাপচারিতায় হঠাৎ করেই ভালো লাগা শুরু হয়। দিন-ভর চ্যাটিং, কথা-বার্তা অসংখ্য টুইট, হাস্যকর ট্রোল বা পোস্টে ট্যাগ, রোমান্টিক পোস্টে মেনশন; এভাবেই চলতে থাকে ভার্চুয়াল প্রেম। 

 

আবারো ৭ দিনের কঠোর বিধিনিষেধ বা লকডাউন শুরু হয়ে গেছে। যেখানে আবারো এমন অনেক অনলাইন সম্পর্কের সূচনা ঘটে যাবে। কিন্তু আপনি যা করছেন, তা ভেবে করছেন তো? যাকে কখনো চেনেন না, জানেন না, শুধু অনলাইন থেকে পরিচয়কে ঘিরে জীবনকে জটিলতায় ফেলছেন নাতো? তাই এই সম্পর্কে জড়ানোর আগে অবশ্যই বেশ কিছু ব্যাপার মাথায় রাখা উচিত।

 

 

জীবনসঙ্গী হিসেবে আপনার সাথে মানানসই?

মানুষের শুধুমাত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের রূপকে দেখে বাস্তবিক আচার ব্যবহার ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়ে ধারণা করা কঠিন। এমনও হতে পরে যে ছেলে বা মেয়ে অনলাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলে, চ্যাটিং করে, বাস্তবে সে চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলতেও লজ্জা পায়। কিংবা সে ততটা রোমান্টিক নয়। তাই আপনার আশায় গুড়ে-বালি হয়ে যাওয়ার আগে সিদ্ধান্ত নিবেন ভেবে-চিন্তে। আপনার পছন্দ-অপছন্দ, কিংবা রুচির সাথে মানানসই মানুষটিকে খুঁজে বেড়ালে অবশ্যই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচয় হওয়া নতুন কার উপর খুব বেশি জড়িয়ে পড়াটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না।

 

হতাশা থেকে সিদ্ধান্ত নয়

লকডাউনে একা একা বিরক্ত হয়ে উঠছেন। অন্য স্বাভাবিক সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা অফিসের ফাঁকে বন্ধু-বান্ধব, কলিগদের আড্ডায় কেটে যায় আর মাস শেষে ট্যুর তো আছেই। কিন্তু এই কঠিনতম সময়ে একান্ত কাছের মানুষ খুঁজতে গিয়ে জড়িয়ে পড়েছেন অনলাইন প্রেমে। প্রেম ভালোবাসাটা লকডাউন অবধি ঠিকই ছিল; ভেজাল হয়ে যায় যখন আপনি আবার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন তখন আপনার আবেগ, কিংবা আপনার সঙ্গীর জীবনে নতুন মোড় আসে। এমতাবস্থায়, যে কেউ মানসিকভাবে ভেঙে পড়তে পারেন। তাই, হতাশা থেকে নতুন সম্পর্কে জড়িয়ে যাচ্ছেন কিনা ভেবে দেখুন। লকডাউনের বিরক্তিকর সময়কে কাটানোর জন্য আরো অনেক উপায় আছে, সেগুলোকে অবলম্বন করুন।

 

পারিবারিক বিষয়গুলো ভেবে দেখুন

আপনার পারিবারিক বিষয়কে আগে অগ্রাধিকার দিন। আপনি নিজস্ব পছন্দে অনলাইনে প্রেম করলেন ঠিকই কিন্তু আপনার পরিবারের সাথে সেই মানুষটি খাপ খাওয়াতে পারছে না, এই ঘটনা খুবই স্বাভাবিক। আপনার পরিবার কি চায়, কিংবা সঙ্গী মানুষটির পারিবারিক বিষয়াদি আলাপচারিতায় জেনে নিন। এই বিষয়টি মাথায় না রাখলে, পরবর্তীতে আফসোস করা ছাড়া হয়তো উপায় থাকবে না। কারণ, আপনারা হয়তো সুন্দর স্বপ্ন বুনে যাচ্ছেন, কিন্তু সঙ্গীর পরিবার থেকে প্রেমের বিবাহে মত দিবে না বলে আগে থেকেই মনস্থির করে রেখেছে।

 

সরাসরি সাক্ষাতের আগেই কোন সিদ্ধান্ত নয়

অনলাইনে আপনার কাছে যত যোগ্যতাসম্পন্নই হোক না কেন; তার সাথে সরাসরি সাক্ষাতের আগে কোন সিদ্ধান্তে যাওয়াটা আপনার ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। একইভাবে, শুধু অনলাইনের পরিচয়ে খুব বেশি বিশ্বাস করে ফেলাটাও অনুচিত। তাই ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য দেয়া-নেয়া থেকে বিরত থাকাটাই শ্রেয়।