বিশেষ আয়োজন

বিশেষ  আয়োজন
বিশেষ আয়োজন
প্রযুক্তির ঘনঘটায় নিঃসন্তান দম্পতি নির্দ্বিধায় টেস্টটিউব বেবি জন্মদানের মাধ্যমে জীবনের পূর্ণতা অর্জনে সক্ষম। সমাজের কুসংস্কারাচ্ছন্ন মনোভাবের অভিশাপের হাত থেকে মুক্তি পেতে পারে। নিঃসন্তান দম্পতি জীবনের ভয়াল অধ্যায় থেকে বেরিয়ে টেস্টটিউব বেবি ধারণের মাধ্যমে সাদাকালো এই জীবনকে রাঙিয়ে নিতে পারে রংধনুর সাত রঙে। না পাওয়ার গ্লানি পিছনে ফেলে টেস্টটিউব বেবি জীবনকে পূর্ণতায় পরিপূর্ণ করে।

নিঃসন্তান দম্পতির বিবাহিত জীবনের পূর্ণতাই যেন সন্তান জন্মদান করা। তাই প্রতিটি দম্পতি তাদের জীবনের পূর্ণতা চায়। কিন্তু অনেক সময় শারীরিক নানাপ্রতিবন্ধকতার কারণে এই পূর্ণতা সম্ভব হয় না। আর তা থেকেই শুরু হয় পারিবারিক কলহ। যা এক পর্যায় ডিভোর্সে রূপ লাভ করে। যা বর্তমানে অনেকাংশই বেড়েই চলেছে। আর এর অধিকাংশ ভুক্তভোগী হচ্ছেন মেয়েরা। সকল মেয়েই চায় মাতৃত্বের স্বাদে নিজেকে পরিপূর্ণ করতে। জীবনকে পরিপূর্ণভাবে উপভোগ করতে।


বিজ্ঞানের সুদূরপ্রসারি চিন্তা দম্পতি জীবনকে করেছে পরিপূর্ণ। এমন একটি আবিষ্কার হচ্ছে টেস্টটিউব বেবি। যার মাধ্যমে যে সমস্ত দম্পতির স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সন্তান ধারণ করতে অক্ষম তারা এই পদ্ধতিতে সন্তান ধারণ করে নিজেদের জীবনের অপরিপূর্ণতাকে রূপ দিতে পারে পূর্ণতায়। বাংলাদেশে টেস্টটিউব বেবি এখন আর কোনো কল্পনার বিষয় নয়। জন্মদানের প্রযুক্তি আমাদের আয়ত্তে এসেছে। ক্রমান্বয়ে এ প্রযুক্তির পদ্ধতিগত উন্নয়নের সঙ্গেও আমরা সম্পৃক্ত হচ্ছি।
বাংলাদেশের প্রথম টেস্টটিউব বেবির জন্ম হয় ২০০১ সালের ২৯ মে ঢাকার একটি ক্লিনিকে। প্রথম টেস্টটিউব বেবির মা ফিরোজা বেগম ও বাবা আবু হানিফ বিবাহিত জীবনের ১৬ বছর পর এই পদ্ধতিতে একসঙ্গে তিনকন্যা সন্তানের জনক-জননী হন।
টেস্টটিউব বেবি নিয়ে অনেকের মনেই রয়েছে নানাধরনের কুসংস্কার ও ভুল ধারণা। অনেকেই মনে করেন টেস্টটিউব বেবির জন্ম হয় টেস্টটিউবের মধ্যে। আবার কেউ কেউ মনে করেন কৃত্রিম উপায় জন্ম দেওয়া শিশু। এভাবে সন্তান লাভে ধর্মীয় বাধা থাকতে পারে। বিভিন্ন রোগের যেমন চিকিৎসা রয়েছে তেমনি এটিও একটি চিকিৎসা পদ্ধতি। বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসায় সর্বজনস্বীকৃত একটি পদ্ধতি।


স্বাভাবিক জন্ম নেওয়া প্রক্রিয়ায় জন্ম নেওয়া শিশুর পুরোটাই সম্পূর্ণ হয় মায়ের ডিম্বনালি ও জারায়ুতে। আর টেস্টটিউব বেবির ক্ষেত্রে স্ত্রীর ডিম্বাণু ও স্বামির শুক্রাণু সংগ্রহ করে একটি বিশেষ পাত্রে রেখে বিশেষ যন্ত্রের মধ্যে সংরক্ষণ করা হয় নিষিক্তের জন্য। নিষিক্তকরণের পর সৃষ্ট ভ্রƒণ স্ত্রীর জরায়ুতে সংস্থাপন করা হয়। পুরো প্রক্রিয়ায় সময় লাগে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা। সূচনাকাল সময়টুকু ছাড়া বাকি সময় শিশু একদম স্বাভাবিক গর্ভাবস্থার মতোই মার্তৃগর্ভে বেড়ে ওঠে। একজন স্বাভাবিক গর্ভধারিণীর জরায়ুতে বেড়ে ওঠা শিশুর জীবন প্রণালির সঙ্গে টেস্টটিউব বেবির জীবন প্রণালির কোনো পার্থক্য নেই। রোগী রোগের চিকিৎসা করাবেন এটাই স্বাভাবিক।
প্রযুক্তির ঘনঘটায় নিঃসন্তান দম্পতি নির্দ্বিধায় টেস্টটিউব বেবি জন্মদানের মাধ্যমে জীবনের পূর্ণতা অর্জনে সক্ষম। সমাজের কুসংস্কারাচ্ছন্ন মনোভাবের অভিশাপের হাত থেকে মুক্তি পেতে পারে। নিঃসন্তান দম্পতি জীবনের ভয়াল অধ্যায় থেকে বেরিয়ে টেস্টটিউব বেবি ধারণের মাধ্যমে সাদাকালো এই জীবনকে রাঙিয়ে নিতে পারে রংধনুর সাত রঙে। না পাওয়ার গ্লানি পিছনে ফেলে টেস্টটিউব বেবি জীবনকে পূর্ণতায় পরিপূর্ণ করে।