শিখতে হবে ' না ' বলা! 

শিখতে হবে ' না ' বলা! 
শিখতে হবে ' না ' বলা! 
সবার আগে নিজেকেই নিজের মূল্য বুঝতে হবে। সবসময় নিজের ক্ষতি করে অন্যের কাজে ঝাঁপিয়ে পরলে চলবে না। আর এক্ষেত্রে আপনাকে মাথায় রাখতে হবে আপনি যে প্রস্তাব পাচ্ছেন তা যৌক্তিক নাকি অযৌক্তিক।  অন্যের চোখে নিজেকে ভালো প্রমাণ করতে নিজের ক্ষতি করা যাবেনা। 

বাংলা ব্যঞ্জনবর্ণের ২০তম বর্ণ 'দন্ত্য ন' আর তার সাথে যুক্ত একটি আ কার(া)। ব্যাস হয়ে গেলো ক্ষুদ্র একটি শব্দ।  এর থেকে সহজ শব্দ বোধহয় আর হয় না। কিন্তু আপাতদৃষ্টিতে দেখতে শব্দটি যতটাই সহজ,  আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এর প্রয়োগ বেশ কঠিন।  'না' বলায় আমরা একদমই   অপারগ। মস্তিষ্কে 'না' শব্দটি ঘুরপাক খেলেও বেশিরভাগ সময়ই মুখনিঃসৃত শব্দটি হয় 'হ্যাঁ'। আর যার জন্য আমাদের ব্যক্তিগত জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপেই ভুগতে হয়। 


একটি প্রচলিত বাক্য আছে, “সফল হতে গেলে ‘না’ বলা শিখতে হয়"।  কিন্তু আমাদের মধ্যে এসব চিন্তাধারার বালাই টুকুও নেই। সন্ধ্যায় আপনার গুরুত্বপূর্ণ কাজ আছে অথচ আপনি চললেন এক বন্ধুর বার্থডে পার্টিতে, কারণ আপনি 'না' বলতে পারেন নি।  এই ছোট্ট একটি শব্দ ব্যবহারে আপনার এতো দ্বিধা দ্বন্দ্ব বলেই আপনি হেরে যেতে পারেন জীবনের বহুক্ষেত্রে, সফলতা নামের সোনার হরিণ আপনার পাশে দিয়ে ছুটে চলবে কিন্তু আপনি তাকে ছুতেও পারবেন না, আবার অনেক সময় আপনি ডেকে আনতে পারেন  নিজের বিপদ। 

 

কিন্তু এই শব্দটি ব্যবহারে কেন আমাদের এতো দ্বিধাদ্বন্দ্ব? কারণ, আমাদের সমাজ। সেই শিশুকাল থেকে আমাদের  মাথায় ঢোকানো হয় 'না' বলা মানে বেয়াদবি।  'না' বলা মানে কাপুরুষতা। আর এর থেকেই ধীরে ধীরে আমাদের মধ্যে জন্ম হয় একধরনের একগুঁয়েমির। যাই হয়ে যাক 'না' বলতে আমরা একদমই রাজি নই। যদি সাহস করে কোথাও না বলেও ফেলি, পরক্ষণেই আবার তৈরি হয় অপরাধবোধ।   


আর এই না বলার অনভ্যাসের কারণে আমাদের জীবন ক্রমশ জটিল থেকে জটিলতর হতে থাকে।  কাজ, সম্পর্ক, দায়িত্ব, পছন্দ -অপছন্দ সব কিছুর এক যাতাকলে পরে যাই আমরা। নিজের ক্ষতি করে হ্যাঁ বলা আমাদের কাছে গর্বের। আর এক্ষেত্রে  যেকোনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দিতেও আমরা দ্বিধাবোধ করিনা।  কিন্তু আর কত? এখন থেকে প্রথমেই আমাদের 'না' বলতে শেখা উচিৎ। করা উচিৎ 'না' বলার অভ্যাস। তাই আপনার জেনে রাখা দরকার এমন কিছু টিপস যাতে করে কোন অপরাধবোধ ছাড়াই আপনি না বলতে পারবেন।  

 

 

নিজেকে প্রাধান্য দেয়া শিখুন

সবার আগে নিজেকেই নিজের মূল্য বুঝতে হবে। সবসময় নিজের ক্ষতি করে অন্যের কাজে ঝাঁপিয়ে পরলে চলবে না। আর এক্ষেত্রে আপনাকে মাথায় রাখতে হবে আপনি যে প্রস্তাব পাচ্ছেন তা যৌক্তিক নাকি অযৌক্তিক।  অন্যের চোখে নিজেকে ভালো প্রমাণ করতে নিজের ক্ষতি করা যাবেনা। 

 


না বলার জন্য অপরাধবোধে ভুগবেন না

কারো প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে কখনো অপরাধবোধে ভোগা যাবে না। সবসময় মনে রাখতে হবে, যেকোনো পর্যায়ে না বলার অধিকার আপনার আছে।  কিছুদিন অভ্যাস করলেই ব্যাপারটা অনেক সহজ হয়ে যাবে। আপনাকে মনে রাখতে হবে আপনি না বলেছেন, কোন অপরাধ করেননি।  

 


আপনার দুর্বলতা খুঁজে বের করুন

আপনি কেন না বলতে পারছেন না, কখন না বলতে পারছেন না, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করুন।  ঠিক কোন কারণে আপনি ‘না’ বলতে পারেন না, তা খুব মন দিয়ে ভাবুন। আপনি যদি ভালভাবে বুঝতে পারেন যে কেন আপনার না বলতে এত সমস্যা হচ্ছে, তবে ব্যাপারটা সামলানো আপনার জন্য আরও সহজ হয়ে যাবে।

 


আগে থেকেই উত্তর ভেবে রাখুন 

আপনার যদি আগে থেকেই জানা থাকে যে আপনাকে কেউ এমন কিছু করতে বলতে পারে, যা করা আপনার জন্য কষ্টকর হয়ে যাবে – তবে কি উত্তর দেবেন, তা আগেই ঠিক করে রাখুন। হঠাৎ করে কিছু বলতে গেলে অনেক সময়ে আমরা ঠিকমত বুঝিয়ে বলতে পারি না। তখন 'না বলতেও ইতস্তত বোধ হয়। তাই এসব ক্ষেত্রে আগে থেকেই উত্তর ভেবে রাখতে পারেন। 

 


প্রস্তাবকারীকে বিকল্প সমাধান অফার করুন

আপনাকে যে কেউ যে কোন প্রস্তাব দিতেই পারে, যদি তার প্রস্তাবে যৌক্তিকতা থাকে আপনি তাকে বিকল্প কোন রাস্তা বের করে দেখাতে পারেন।  এক্ষেত্রে এক ঢিলে দুই পাখি মারার উপকারিতা পাচ্ছেন আপনি। সরাসরি না বলে কারো মনে আঘাতও দিচ্ছেন না।  আবার আপনার নিজের উপরও চাপ আসছে না। 

 

এসমস্ত পন্থা কাজে লাগিয়ে আপনি আপনার 'না' বলার অধিকারকে জাগ্রত করতে পারেন।  জীবনের অনেকটা সময়ই হয়তোবা আপনি শুধুমাত্র 'না' বলার অনভ্যাসের কারণে হারিয়ে ফেলেছেন।   কিন্তু আর না। জীবনের আরো অনেক সম্ভাবনা নষ্ট হয়ে যাওয়ার আগে উচিত 'না' বলার অভ্যাস গড়ে তোলা।