শিশুর স্মৃতিশক্তি বাড়ানোর উপায়

শিশুর স্মৃতিশক্তি বাড়ানোর উপায়
ছবি: সংগৃহীত
মস্তিষ্কের ৭৫ ভাগই পানি। শিশুদের নিরাপদ পানি নিশ্চিত করা জরুরি। পানির অভাবে মনোযোগ কমে, সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্ব হয় এবং স্বল্প সময়ের জন্য স্মৃতিশক্তির কমার লক্ষণ দেখা দেয়।

একজন শিক্ষার্থী কতোটা মেধাবী তার অনেকটাই নির্ভর করে তার স্মৃতিশক্তির ওপর। শিশুদের মেধাবী করে গড়ে তুলতে ছোটবেলা থেকেই মস্তিষ্কের চর্চা বাড়ানো প্রয়োজন। অলস মস্তিষ্ক জীবনের অগ্রগতিকে ব্যহত করে। অনেক বাবা-মায়েরই আক্ষেপ তাদের সন্তান পড়া মনে রাখতে পারে না। ছোটবেলা থেকে শিশুদের নানাভাবে মস্তিষ্কের চর্চা করানো হলে একদিকে তারা যেমন নতুন নতুন বিষয় শিখবে, জানবে, পাশাপাশি সঞ্চয় হবে জীবনের নানা অভিজ্ঞতা। 

 


কিছু বিষয়ের দিকে নজর দিলে শিশুর স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে। যেমন-

 


শিশুকে ছোট থেকেই প্রশ্ন করতে শেখান। শিশুদের মধ্যে অজানাকে জানার আগ্রহ থাকে প্রবল। অনেকেই শিশুদের প্রশ্নে বিরক্ত বোধ করে থাকে। একটা পর্যায়ে তারা প্রশ্ন করার সাহস হারিয়ে ফেলে। তাই আপনার শিশুকে যথাসম্ভব প্রশ্ন করতে দিন। তাকে প্রশ্ন করতে উৎসাহিত করুন। যত প্রশ্ন করবে, ততই বিষয়টি গভীরভাবে উপলব্ধি করবে সে। ফলে শিশুর স্মৃতিশক্তি শক্তিশালী হয়ে উঠবে।

 


শিশুরা ছোট ছোট ছড়া, গান খুব পছন্দ করে। নতুন কিছু শুনলেই তারা এসব আয়ত্ত করার চেষ্টা করে। এই ছড়া, কবিতা, গান ও গল্প স্মৃতিশক্তিকে উর্বর করবে। পরবর্তীতে তাড়াতাড়ি মনে করতে পারবে এবং তা প্রকাশও করতে পারবে। 


শিশুকে যথাসম্ভব পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ খাবার খাওয়াতে হবে। ডিম, ডার্ক চকলেট, বাদাম, সামুদ্রিক মাছ, ফলমূল ও শাক-সবজি এগুলো শিশুর স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। 


বিভিন্ন বিষয়ে শিশুর সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। তারা কি ভাবছে জানতে চান। প্রয়োজনে আপনিও কিছু প্রশ্ন করুন। এতে তাকে ভেবে উত্তর দিতে হবে।এভাবে তাদের চিন্তাধারার যেমন উন্নতি হবে, তেমন স্মৃতিশক্তিও বাড়বে।


মস্তিষ্কের ৭৫ ভাগই পানি। শিশুদের নিরাপদ পানি নিশ্চিত করা জরুরি। পানির অভাবে মনোযোগ কমে, সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্ব হয় এবং স্বল্প সময়ের জন্য স্মৃতিশক্তির কমার লক্ষণ দেখা দেয়।


মাঝে মধ্যে শিশুকে নিয়ে বাইরে যান। এক্ষেত্রে শিক্ষামূলক ও ঐতিহাসিক স্থান বাছাই করতে পারেন। সেটা হতে পারে গ্রন্থাগার, জাদুঘর, কোন দর্শনীয় স্থান, প্রাকৃতিক কোন পরিবেশ অথবা কোন পার্ক। এতে করে তার জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা উভয়ই বাড়বে। 


শিশুকে ছবি বা ভিডিওর মাধ্যমে কোন বিষয়ের বিস্তারিত দেখান। এতে করে শিশুর মনে রাখতে সুবিধা হবে।


শিশুর সাথে অধিক সময় কাটানোর চেষ্টা করুন। তাকে একা থাকতে দেয়া উচিত নয়। যথাসম্ভব বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে তুলুন। তাদের মনের কথাগুলো জানুন। তাদের সঙ্গে নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করুন। শিশুদের ভাবনাগুলোকে প্রাধান্য দিন। এতে করে তার চিন্তাভাবনা উন্নত হবে আবার স্মৃতিশক্তিও বৃদ্ধি পাবে।  


শিশুকে কোন কিছু বোঝানোর সময় তার আশেপাশের বিষয়গুলো দিয়ে উদাহরণ দিতে পারেন। এগুলো সে দেখা বা শোনা মাত্রই মনে রাখতে পারবে। এতে করে একটার সাথে আরেকটা মনে রাখার ক্ষমতা তৈরি হবে তার।


শিশুর শরীরচর্চা ও ব্যায়ামের অভ্যাস গড়ে তুলুন। এতে শিশুর শরীর ও মন ভালো রাখবে ও মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।