সন্তানদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফেরা নিয়ে অভিভাবকদের প্রতিক্রিয়া!

সন্তানদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফেরা নিয়ে অভিভাবকদের প্রতিক্রিয়া!
সন্তানদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফেরা নিয়ে অভিভাবকদের প্রতিক্রিয়া!
 ‘স্কুল খুলে দিলে আমি সন্তানকে স্কুলে পাঠাবো। কারণ বাসায় থাকতে থাকতে একগুঁয়েমি হয়ে গেছে। কর্তৃপক্ষের একটা বিষয় গুরুত্ব দিতে হবে তা হল-স্কুলে গিয়ে বাচ্চারা যেন অসুস্থ না হয়। ওখানে তাদের স্বাস্থ্যবিধি কার্যকর করতে হবে।’

বিশ্বজুড়ে যখন করোনার দাপট।  তখন ছোট্ট এই ভাইরাসটিকে রুখতে নেয়া হয় একের পর এক পদক্ষেপ।  তারই ধারাবাহিকতায় গত বছরের ১৭ মার্চ দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। দীর্ঘ এক বছর বন্ধের অবশেষে আগামী ৩০ মার্চ থেকে স্কুল-কলেজ খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।  দীর্ঘদিন বন্ধের পর পুনরায় স্কুল কলেজ খোলার পর কি ভাবছে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা তা নিয়েই আমাদের আজকের আয়োজন। 

 


আছমা বেগম।  রাজধানীর হলি মডেল স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মা। স্কুল-কলেজ খুলে দেয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন , ‘দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকায় আমার ছেলে-মেয়েদের পড়ালেখা থেকে মন উঠে গেছে। সারাদিন দৌড়াদৌড়ি করে আর বাইরে খেলাধুলা করতে চায়। দীর্ঘদিনের পড়ালেখার এ গ্যাপ পূর্ণ করতে অনেক সমস্যা হবে। তাই আমি মনি করি বাচ্চাদের স্বাস্থ্যবিধিটা খেয়াল রেখে ক্লাসের সংখ্যা বাড়ানো হোক। আর স্কুল-কলেজ খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি ।’

 


লালবাগ সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র শান্ত হোসেনে। তার  অভিভাবক আব্দুল আজিজ বলেন, ‘সরকারের সিদ্ধান্তকে আমরা সাধুবাদ জানাই। স্কুল-কলেজ খুলে দেওয়ার খবর শুনে বাচ্চারা খুশি হয়েছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উচিত শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি খেয়াল রাখা।’

 


একই প্রসঙ্গে মহাখালী বিএফ শাহীন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একজন শিক্ষার্থীর বাবা মো. মানিক কথা বলেন। তিনিও সাধুবাদ জানান সরকারের সিদ্ধান্তকে। তিনি বলেন  ‘স্কুল খুলে দিলে আমি সন্তানকে স্কুলে পাঠাবো। কারণ বাসায় থাকতে থাকতে একগুঁয়েমি হয়ে গেছে। কর্তৃপক্ষের একটা বিষয় গুরুত্ব দিতে হবে তা হল-স্কুলে গিয়ে বাচ্চারা যেন অসুস্থ না হয়। ওখানে তাদের স্বাস্থ্যবিধি কার্যকর করতে হবে।’

 


বেসরকারি চাকরিজীবী কামরুল হাসান বলেন, ‘আমার ছেলে রায়হান হাসান পাবনার একটি স্কুলে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ালেখা করে। এক বছর স্কুল বন্ধ থাকায় আমার ছেলে যা শিখেছিল সব ভুলে গেছে। আমি প্রেশার দিলেও পড়তে বসে না৷ আমি সরকারের যেকোনো সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাবো, সরকার যদি মনে ৩০ মার্চ স্কুলে দিলে ভালো আমরা সেটা মেনে নিয়েই আমার সন্তানকে স্কুলে পাঠাবো।’

 


শুধু অভিভাবকরাই নয়, এ প্রসঙ্গে কথা বলেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী প্রমিত চন্দ্র। তিনি বলেন  ‘আর অপেক্ষা না করে দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়া উচিত। দীর্ঘদিন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় পড়াশোনা হচ্ছে না। তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু করা হোক।’