বেশি ভাত খেলে বাড়ে হৃদরোগের আশঙ্কা

ভাত
কথায় আছে, মাছে-ভাতে বাঙ্গালী। আর থাকবে নাই বা কেন, সবুজে ভরা শষ্য-শ্যামলা এই নদীমাতৃক দেশের মানুষের প্রধান খাদ্যই ভাত আর মাছ। ভাত ছাড়া যেন বেশিরভাগ বাঙ্গালীর দিনটাই অসম্পূর্ণ থেকে যায়। অনেকের হয়তো তৃপ্তি করে খাওয়াটাই হয় না ভাত ছাড়া। এমনকি বাঙ্গালী বাড়িতে দুপুরের খাবার মানেই এক কথায় ‘ভাত খাওয়া’। দুপুরের খাবার হিসেবে ভাত ছাড়া আর কিছু ভাবতে পারে না বেশির ভাগ বাঙ্গালী।

সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে বাড়ির চার দেওয়ালের মধ্যে বেশির ভাগ সময়টা বসে কাটাতে গিয়ে বাইরে খাওয়ার প্রবণতায় খানিকটা হলেও যেমন রাশ টানা গিয়েছে, ঠিক তেমনিভাবে বেড়েছে ভাত খাওয়ার পরিমাণ। কিন্তু প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসের মূল উপকরণ, সেই ভাত খাওয়া নিয়েই এবার প্রশ্ন তুলেছেন একদল গবেষক। ম্যানচেস্টার ও স্যালফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষকদের মতে, ভাতে আর্সেনিক থাকে। এর ফলে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানসহ ভারতীয় উপমহাদেশ এবং এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোর বাসিন্দারাও ভাত খান। কিন্তু গবেষকদের মতে, বেশি পরিমাণে ভাত খাওয়া শরীরের পক্ষে মোটেই ভাল নয়। গবেষকরা বলছেন, চাষ করার সময়ই মাটি ও পানি থেকে ধানের মধ্যে আর্সেনিক প্রবেশ করে। পরবর্তীকালে ধান থেকে চাল এবং ভাত হওয়ার সময়ও থেকে যায় আর্সেনিক।

 

ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডেভিড পলিয়া জানিয়েছেন, আমরা ইংল্যান্ড, ওয়েলসে আর্সেনিকের ফলে হৃদরোগ নিয়ে গবেষণা করেছি। এছাড়া স্থুলতা, ধূমপানের প্রভাবও খতিয়ে দেখার চেষ্টা করেছি। এই গবেষণার ফলে আমাদের মনে হয়েছে, ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে যারা ভাত খান, আর্সেনিকের ফলে তাদের মধ্যে ২৫ শতাংশ ব্যক্তির হৃদরোগের ফলে মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে। যারা নিয়মিত ভাত খান, তাঁদের জীবনযাত্রা, আচরণের ওপরে অবশ্য হৃদরোগের আশঙ্কার বিষয়টি অনেকাংশে নির্ভর করছে।

 

তাই হৃদরোগের ঝুঁকি থেকে বাঁচতে ভাতের পাশাপাশি সম্পৃক্ত চর্বি খাওয়া একেবারেই কমিয়ে দিন। সম্পৃক্ত চর্বি হচ্ছে ঘি, মাখন, ক্রিমযুক্ত খাবার, খাসি ও গরুর মাংসের চর্বি, নারকেল তেল বা পাম তেলে রান্না করা খাবার। ফাস্টফুড ও বেকারির খাবারও বর্জন করুন। অতিরিক্ত চিনি ও শর্করা দেহে চর্বি হিসেবেই জমা হয়। তাই মিষ্টি দ্রব্য বেশি না খাওয়াই ভালো। কার্বোনেটেড পানীয়, কৃত্রিম জুস, এনার্জি ড্রিংকস ইত্যাদি চলবে না। রান্নায় দৈনিক পাঁচ গ্রামের বেশি লবণ নয়। আলাদা বা পাতে লবণ নিষেধ। মাত্রাতিরিক্ত ক্যাফেইন না খাওয়াই ভালো। এটি হৃৎস্পন্দন বাড়িয়ে দেয়। এ ছাড়া চিরদিনের জন্য ত্যাগ করুন ধূমপান ও মদ্যপান।

 

আঁশযুক্ত খাবার বেশি করে খান। যেমন তাজা ফলমূল, শাকসবজি, গোটা শস্যের তৈরি খাবার। মাছ খাবেন আমিষের উৎস হিসেবে। ননিহীন দুধ খাওয়া ভালো। ভিটামিন সি যুক্ত ফলমূল বেশি করে তালিকায় রাখুন। যেমন পেয়ারা, আমড়া, জাম্বুরা, আমলকী, লেবু, জলপাই, পাকা পেঁপে ইত্যাদি। প্রতিদিন অন্তত পাঁচ রকমের ফলমূল, শাকসবজি খাওয়ার অভ্যাস করুন।