ঘরবন্দী সময়ে চাই সাশ্রয়ী খাদ্যাভ্যাস

প্রতীকী ছবি
যতটুকু প্রয়োজন ততটুকুই রান্না করুন। সবচেয়ে ভালো উপায় একদিন হাতে সময় নিয়ে পুরো সপ্তাহে কোন বেলায় কী খাবেন তার একটি তালিকা তৈরি করে ফেলুন। সে অনুযায়ী বাজার এবং রান্না করলে সময়,শ্রম, অর্থ সব কিছুই সাশ্রয় হবে।

করোনা নামক মহামারিতে সুস্থ  থাকাই যেন সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ বলে বিবেচিত হচ্ছে আমাদের কাছে। সেই সাথে ব্যবসা বাণিজ্যে  মন্দা, চাকরি হারানো কিংবা বেতন কমে যাওয়া  এমন নানা অর্থনৈতিক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি আমরা প্রতিনিয়ত।  তাই কম খরচে পুষ্টিকর খাবার খেয়ে বেঁচে থাকাই বর্তমানে সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং কাজ।  আসুন জেনে নেয়া যাক কিভাবে এই দুর্যোগে খরচ কমিয়ে আমরা স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে পারি।

 

তাজা সবজি যেমন কাঁচা পেঁপে, কাঁচা কলা,মিষ্টি কুমড়া ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে এন্টি অক্সিডেন্ট থাকে যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।  সহজপাচ্য বলে হজমের সমস্যা সৃষ্টি করে না। এসব সবজি অল্প তেলে ভাজি,  সিদ্ধ করে সবজি কিংবা সুপের মতো খেতে পারেন।

 

বাজার থেকে বেশ কয়েক ধরনের ডাল কিনে এনে একেক দিন একেক ধরনের ডাল রান্না করলে তা যেমন স্বাদে বৈচিত্র্য আনবে ঠিক তেমনি এসব ডাল উদ্ভিজ্জ প্রোটিন বলে দেহে প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করবে।

 

প্রাণীজ প্রোটিনের উৎস হিসেবে মুরগির জুড়ি মেলা ভার। অন্য যেকোনো মাংস যেমন গরু, খাসির চেয়ে এই মাংসের দাম কিছুটা কম। এছাড়া মুরগির বিভিন্ন অংশ যেমন গলা, গিলা, কলিজা, পা ইত্যাদি আলাদা করে ডালের বা সবজির সাথে মিশিয়ে রান্না করে আলাদা পদ তৈরি করা যায়। এছাড়া এসব অংশ জ্বাল দিয়ে চিকেন স্টক তৈরি করা যায়।

 

পুষ্টিকর খাবার হিসেবে ডিমের তুলনাই হয় না।বেশি তেলে ভাজার চেয়ে ডিম সিদ্ধ বা অল্প তেলে পোচ করে খেলে পুষ্টিগুণ বেশি ভালো থাকে। মাছের মাথা, লেজ ইত্যাদি আলাদা  করে ডাল দিয়ে রান্না করে ফেলা যায়।বড় মাছের কাটা ছাড়া অংশ দিয়ে ফিস কাটলেট কিংবা ফিস ফিংগার বানিয়ে খেতে পারেন। মাছের কাটাকুটো দিয়ে চচ্চড়ি রেঁধে খাওয়া যায়।

 

টক দই যেমন ওজন কমাতে সাহায্য করে,  ঠিক তেমনি রান্নার স্বাদ বৃদ্ধি করে। ঘরেই অল্প পরিশ্রমে বানিয়ে নেয়া যায় টক দই। পটল, লাউ, তরমুজ ইত্যাদির খোসা ফেলে দিতে নেই। কুচি,  কুচি করে কেটে ভাজি করে ফেলতে পারেন। কমলার খোসা কুচি করে জ্যাম, জেলিতে ব্যবহার করতে পারেন।

 

কোমল পানীয় একদিকে যেমন অর্থ নষ্ট  করে অন্যদিকে তৈরি করে নানা স্বাস্থ্য  ঝুঁকি। তাই প্যাকেটজাত ফ্রুটজুস এবং ঝাঁঝালো কোমল খাদ্যতালিকা থেকে পানীয় বাদ দিতে হবে।এ সময় প্রচুর মৌসুমি ফল পাওয়া যায়। এসব ফল দিয়ে জুস বানিয়ে পান করা যায়। এছাড়া আম কুচি করে কিংবা জাম ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে বাড়িতেই বানিয়ে ফেলতে পারেন মজাদার ফ্রুট জুস।

 

আমাদের মনে রাখা প্রয়োজন যে কোন  খাবার ভাজার পরে পরিমাণে কমে যায়।আর তেলে ভাজা খাবার হজমজনিত  নানা রোগ,আলসার, ত্বকের সমস্যা, ব্রণ ইত্যাদির কারণ।  তাই ঝোল ঝোল  করে রান্না করুন। এটি যেমন সাশ্রয়ী তেমনি স্বাস্থ্যসম্মত।

 

বাসি, বহুদিনের ফ্রিজে রাখা খাবার এ সময় না খাওয়াই ভালো। বার বার গরম করলে খাবারের স্বাদ আর পুষ্টিগুণ দুইটিই নষ্ট হয়। তাই যতটুকু প্রয়োজন ততটুকুই রান্না করুন। সবচেয়ে ভালো উপায় একদিন হাতে সময় নিয়ে পুরো সপ্তাহে কোন বেলায় কী খাবেন তার একটি তালিকা তৈরি করে ফেলুন। সে অনুযায়ী বাজার এবং রান্না করলে সময়,শ্রম, অর্থ সব কিছুই সাশ্রয় হবে।