দাঁতের যত্নে করণীয় 

দাঁতের যত্নে করণীয় 
ছবিঃ সংগৃহীত
কুলকুচা করার জন্য এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে এক চিমটি লবণ মিশিয়ে নিতে হবে। এটি জীবাণুরোধী দ্রবণ হিসেবে কাজ করবে। এর বিকল্প হিসেবে কাজ করে জীবাণুরোধী মাউথওয়াশ ব্যবহার করতে পারেন। যেকোনো খাবার খাওয়ার পরই ভালোভাবে কুলকুচা করা উচিত।

সুন্দর দাঁত মানেই সুন্দর হাসি। সৌন্দর্যের অনেক খানি দাঁতের ওপর নিভর করে। সঠিক নিয়ম মেনে দাঁতের যত্ন নিলে দাঁত সুন্দর ও মজবুত থাকবে দীর্ঘদিন। এই সৌন্দর্যের জন্য চাই দাঁতের সঠিক পরিচর্যা। দাঁতের সঠিক যত্ন না নিলে দাঁতে অনেক ধরনের সমস্যা দেখা যায়। তাই আজকে জেনে নিন দাঁতের সঠিক যত্ন নেওয়ার উপায়। 


সুস্থ দাঁতের জন্য নিয়মিত সকালে খাবারের পরে ও রাতে খাবারের পরে দুই বার সঠিক ভাবে দুই মিনিট ধরে দাঁত ব্রাশ করতে হবে। ব্রাশ করার সময় আলতো করে সার্কুলার মোশনে দাঁত ব্রাশ করতে হবে। ব্রাশটি ভালো মানের ও নরম হতে হবে। প্রতি তিন মাস পর পর ব্রাশ পরিবর্তন করতে হবে।


কুলকুচা করার জন্য এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে এক চিমটি লবণ মিশিয়ে নিতে হবে। এটি জীবাণুরোধী দ্রবণ হিসেবে কাজ করবে। এর বিকল্প হিসেবে কাজ করে জীবাণুরোধী মাউথওয়াশ ব্যবহার করতে পারেন। যেকোনো খাবার খাওয়ার পরই ভালোভাবে কুলকুচা করা উচিত।


অনেকের ধারণা যে,যত জোরে ব্রাশ করা যাবে দাঁত তত বেশি পরিষ্কার হবে বেশি। কিন্তু জেনে রাখুন এই ধারণা সঠিক নয়। দুই মিনিট সাধারণভাবে ব্রাশ করলেই হবে। বেশি জোর দিয়ে ব্রাশ করলে অনেক সময় দাঁত ও মাড়ির সংযোগস্থল ক্ষয় হয়ে যায়। অনেক জায়গা সংবেদনশীল হয়ে পড়ে ফলে আর ক্যাভিটি হয়।


এসিডিক ও মিষ্টিজাতীয় খাবার যতটা পারবেন এড়িয়ে চলবেন । এ ধরনের খাবারগুলো দাঁতের ক্ষতি করে। প্রচুর পানি পান করে মুখকে আর্দ্র রাখবেন। শুষ্ক মুখ দাঁতের ক্ষয় আরও বাড়িয়ে দেয়। দাঁত ভালো রাখার জন্য ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি জাতীয় খাবার খান। দুধে ক্যালসিয়াম আছে তাই দুধ পান করবেন। ক্যালসিয়াম হাড় ও দাঁত মজবুত করতে সাহায্য করে।


পান, তামাক, জর্দা খাওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে, যা দাঁতের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। অনেক সময় মুখে ঘা, ক্ষত বা ক্যান্সারের কারণ হতে পারে এগুলো। তাই এগুলো বাদ দিতে হবে। এছাড়া ধূমপান করা থেকে বিরত থাকুন। সিগারেটে থাকা নিকোটিনের প্রভাবে দাঁতের অ্যানামেল ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং দাতে কালো দাগ তৈরি করবে।


টুথপিক ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। টুথপিক ব্যবহারে মাড়িতে ইনফেকশন হতে পারে। এছাড়া কয়লা,ছাই,মাটি,গাছের ডাল ইত্যাদি কখনোই ব্যবহার করবেন না।


দাঁতে বা মুখের ভেতরে যেকোনো সমস্যা হলে অবহেলা করা উচিত নয়। মুখের ভেতর কোনো পরিবর্তন দেখা দিলে ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত। অন্তত প্রতি ছয় মাস পর পর আপনার ডেনটিস্ট এর কাছে যান এবং আপনার দাঁতের কোন সমস্যা হলে সাথে সাথে আপনার ডেনটিস্টকে জানান।