গর্ভাবস্থায় নারীদের বিশেষ পরিবর্তন ও করনীয়

গর্ভাবস্থায় নারীদের বিশেষ পরিবর্তন ও করনীয়
ছবি: সংগৃহীত
গর্ভাবস্থায় বেশিরভাগ সময়ে পায়ে পানি আসে। পায়ে অল্প পানি জমাটা স্বাভাবিক। বেশিক্ষণ পা ঝুলিয়ে বসে থাকলে পায়ে পানি জমে, এক্ষেত্রে পায়ের নিচে টুল বা মোড়া ব্যবহার করা উচিত। এছাড়াও খাবারে অতিরিক্ত লবণ খেলে পায়ে পানি জমা হয়। পায়ে পানি আসার কারণে পা ফুলে যায়। এমতাবস্থায় দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যায়, মাথা ব্যথা অনুভূত হয়ে থাকে। অনেক সময় রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার ও সম্ভাবনা থাকে। এসবের জন্য আতংকিত না হয়ে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত এবং বেশি বেশি পানি পান করা উচিত।

মা শব্দটি এক সুখের অনুভূতির নাম হলেও মা হওয়ার সময় একটা মেয়ের শরীর ও মনে নানা স্বাভাবিক পরিবর্তন ও প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। গর্ভকালীন সময়ে এমন কিছু সাধারণ সমস্যা প্রায় প্রতিটি মেয়েরই হয়ে থাকে।

 

গর্ভাবস্থায় অনেক নারীই সকাল বেলা বিছানা ছাড়ার পরপরই প্রচণ্ড বমি ভাব, বমি, মাথা ঘোরার মত সমস্যায় ভুগে থাকেন। এই উপসর্গের নাম 'মর্নিং সিকনেস'। গর্ভাবস্থার একটি প্রধান সমস্যা এই মর্নিং সিকনেস'। প্রথম সন্তান ধারণের সময় এটি বেশি হয়ে থাকে। এই উপসর্গটি দেখা দেয় গর্ভধারণের প্রথম ও দ্বিতীয় মাসে। সাধারণত তিন মাস এটি থাকে। তিন মাসের পর সাধারণত এটি স্বাভাবিক হয়ে যায়। ২৫ শতাংশ নারীর এই সমস্যা একেবারে নাও থাকতে পারে। গর্ভাবস্থায় রক্তে কিছু প্রকার হরমোনের মাত্রা বেড়ে যাওয়াই এর কারণ। অনেক সময় অতিরিক্ত বমি হওয়ার ফলে পানি শূন্যতা দেখা দেয়। এমনটি হলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। যেসব খাবার খেলে বমি হয় তা এড়িয়ে চলা উচিত। একসাথে বেশি খাবার না খেয়ে অল্প অল্প করে করে খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। আমিষ সমৃদ্ধ খাবার বেশি করে খেতে হবে। 

 

গর্ভাবস্থায় বেশিরভাগ সময়ে পায়ে পানি আসে। পায়ে অল্প পানি জমাটা স্বাভাবিক। বেশিক্ষণ পা ঝুলিয়ে বসে থাকলে পায়ে পানি জমে, এক্ষেত্রে পায়ের নিচে টুল বা মোড়া ব্যবহার করা উচিত। এছাড়াও খাবারে অতিরিক্ত লবণ খেলে পায়ে পানি জমা হয়। পায়ে পানি আসার কারণে পা ফুলে যায়। এমতাবস্থায় দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যায়, মাথা ব্যথা অনুভূত হয়ে থাকে। অনেক সময় রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার ও সম্ভাবনা থাকে। এসবের জন্য আতংকিত না হয়ে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত এবং বেশি বেশি পানি পান করা উচিত।

 

গর্ভাবস্থায় অধিকাংশ নারীর মাঝেমধ্যে পেশির সংকোচনের জন্য পেট শক্ত হয়ে আসে। এই সমস্যাটি সাময়িক একটা সমস্যা। সাধারণত পেটে ব্যথা থাকে এবং একটু পর চলে যায়। তবে কারো ক্ষেত্রে ব্যথা থাকতে পারে এবং এর তীব্রতা বাড়তে থাকে। ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য হয়ে যায়। এই ধরনের সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন  হওয়া উচিত।

 

সাধারণত গর্ভকালীন সময়ে প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া দেখা দেয়। মূলত ৮ থেকে ১২ সপ্তাহে এই সমস্যা দেখা দেয়। ঘন ঘন প্রস্রাব হতে থাকে এসময়। বিশেষজ্ঞদের মতে, গর্ভাবস্থায় জরায়ুর আকার পরিবর্তনের কারণে এমনটি ঘটে। জরায়ুর আকার বড় হওয়াতে মূত্রথলিতে চাপ দেয় যার ফলে ঘন ঘন প্রস্রাব হয়ে থাকে। প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া বা তলপেটে ব্যথা না থাকলে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। এটি সন্তান ধারণের ১২ সপ্তাহ পর আবার স্বাভাবিক হয়ে যায়। তবে শেষ দিকে শিশুর মাথা নিচে নামতে থাকলে মূত্রথলি তে চাপ পড়লে আবার উপসর্গটি দেখা যায়।

 

মাতৃত্বের সময় কোমর ব্যথা একটি জটিল সমস্যা। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৫০ শতাংশ নারী এই সমস্যাটিতে ভোগেন। কোমর ব্যথায় আক্রান্ত হয় মূলত ওজন বৃদ্ধি ও অস্থিসন্ধির শিথিলতার জন্য। তবে উঁচু হিল জুতা ব্যবহারের কারণেও কোষ্ঠকাঠিন্য ও হতে পারে। এসব সমস্যা থেকে নিস্তার পাওয়ার জন্য শাক-সবজি এবং তাজা ফল-মূল বেশি করে খেতে হবে। ইসবগুলের ভূষি খাওয়া যেতে পারে। অনেক সময় বেশি নরম বিছানা ব্যবহারের ফলে কোমর ব্যথা সৃষ্টি হতে পারে। এজন্য সঠিকভাবে শোয়া, শক্ত বিছানা ব্যবহার করলে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে। এই সময়টাতে একটানা অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে বা বসে থাকা একদমই উচিত নয়।

 

এছাড়াও গর্ভাবস্থায় সাদা স্রাব যাওয়ার মত খুব স্বাভাবিক একটা সমস্যা দেখা যায়। তাই নরম সূতি আন্ডারগার্মেন্টস ব্যবহার করতে হবে। যতটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। কেননা ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাই এর প্রধান চিকিৎসা। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ক্যালসিয়াম সেবন করা যেতে পারে, পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে। যেহেতু একটি দেহে দুটি প্রাণ রয়েছে তাই সর্তক থাকতে হবে। প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার বেশি খেতে হবে।

 

গর্ভবতী মায়েদের জন্য প্রয়োজন হয় অতিরিক্ত যত্নের। নারীর গর্ভকালীন সময়ে প্রথম দু-তিন মাস ও শেষের তিন মাস অতিরিক্ত পরিশ্রম না করে হালকা হাঁটাচলা করা উচিত। ভারী জিনিস বহন করা বা তোলা যাবে না। অতিরিক্ত আবেগ, মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা, ভয়, রোগ-শোক ইত্যাদি গর্ভবতী মায়ের স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর বলে এসব এড়িয়ে মনকে সতেজ রাখতে হবে। কোনরকম মানসিক চাপ নেওয়া যাবে না। এসময় প্রতি মাসে চিকিৎসকের কাছে গিয়ে পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক।