করোনাকালে মানসিক স্বাস্থ্য

মানবসম্পদ কর্মী তানিয়া জাহিদ।
ডিপ্রেশন মানুষকে ক্রিয়েটিভ করে। সুতরাং যারা ডিপ্রেশন এ ইতিমধ্যে চলে গিয়েছেন ,আপনার একাকী অবসরে নতুন কিছু আইডিয়া নিয়ে কাজ শুরু করে দিন । দেখবেন আপনার কাজটি ১০০ শতাংশ সফলভাবে করতে পারছেন।

ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন এর মতে ,বিশ্বব্যাপী, আনুমানিক ২৪৮ মিলিয়ন মানুষ হতাশায় ভুগছেন । বর্তমান পরিস্থিতিতে ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমে আমরা দেখতে পাচ্ছি , আমাদের চারপাশের ডিপ্রেশন এ ভোগা অনেক মুখ । তাদের জন্যেই আমার আজকের এই লেখা।

 

ব্রিটিশ সাইকোলজিক্যাল সোসাইটি র একটা খুব ইন্টারেষ্টিং রিসার্চ দেখলাম সেটা হচ্ছে , ডিপ্রেশন মানুষকে ক্রিয়েটিভ করে।   সুতরাং যারা ডিপ্রেশন এ ইতিমধ্যে চলে গিয়েছেন ,আপনার একাকী অবসরে নতুন কিছু আইডিয়া নিয়ে কাজ শুরু করে দিন । দেখবেন আপনার কাজটি ১০০ শতাংশ সফলভাবে করতে পারছেন।  এতে আপনি একটা সময় নতুন কাজের জন্যে ,কাজটা করার জন্যে একটা মানসিক স্বস্তি পাবেন। আরো কাজ এর ইন্টারেস্ট তৈরি হবে।  ধীরে ধীরে ডিপ্রেশন কাটিয়ে প্রোডাকটিভ কাজে নিজেকে নিয়োজিত করতে পারবেন

 

মানছি বলা যত সহজ করা ততটা সহজ নাও হতে পারে। তবে আমাদের এই একটা মাত্র জীবনকে হেলায় নষ্ট করা কি ঠিক ? আমি কোনো মনোবিজ্ঞানীনই, তবে আমার শিক্ষা অভিজ্ঞতা , আর যেহেতু মানুষ নিয়ে কাজ - সেখান থেকেই বলছি , আপনি যদি মনে করেন আপনি আস্তে আস্তে ডিপ্রেশন এ চলে যাচ্ছেন।  প্লিজ একটু থামেন।  জীবনটা অনেক সুন্দর যদি তা আমর তাকে সাজাতে পারি. নিজেকে ভালোবাসুন আর নিচের লেখা গুলো মনোযোগ দিয়ে পড়ুন
 

১.     আপনি বিষাদগ্রস্ত, প্রথমেই যা করবেন চারদিকের নেগেটিভ জিনিস গুলোকে সরিয়ে ফেলুন । প্রতিদিন এক খুব বেশি হলে দুই বার নিউজ ফিড দেখুন।  কেননা মিডিয়াতে এখন নেগেটিভ নিউজ দিয়ে ভরা।  আপনি একবার নিউজ দেখে নিবেন নিজের সাবধানতার জন্যে কেবল। চাইলে সেটাও বাদ দিয়ে আপনার কাছের কারো কাছ থেকে জেনে নিতে পারেন , শুধু আপনি যে নিউজটা জানতে চান সেটা । দিনের শুরুতে নেগেটিভ নিউজ সুন্দর সকাল টা নষ্ট করে দেয়। ফেসবুক এ যারা পজিটিভ স্ট্যাটাস কিংবা পোস্ট দেন তাদেরকে আপনার লিস্ট এ রাখুন।  যেসব ব্যক্তি সর্বদা নেতিবাচক পোস্ট কিংবা স্ট্যাটাস দেয় তাদেরকে সযত্নে দূরে সরিয়ে রাখুন  বর্তমানে আমরা আইসোলেটেড জীবন কাটাচ্ছি সেটাতে সোশ্যাল মিডিয়া আমাদের একাকীত্ব দূর করতে সহায়তা করছে এটা সত্য।  তাই বলে স্যোশাল মিডিয়ার বদৌলতে নিজের মন কষ্টের সাগরে যেন ডুবে না যায় সেটা নিজেকেই খেয়াল করতে হবে ।

 

ফ্রেন্ড- কলিগ -আত্মীয় যারা পজিটিভ মন-মানসিকতার তাদের সাথে সবসময় যোগাযোগ রাখুন। যে রিলেশনগুলো আমাদের বিরক্তি /ইরিটেট করে তাদের কে টেকনিক্যালি এড়িয়ে যান । কেননা আপনার ভালো থাকা নিজের জন্য যেমন দরকার, তেমনি আপনার প্রিয়জনদের আপনাকে দরকার ।

 

২.      আপনার বাজেটটা পরিকল্পনা করে করুন । পকেট শূন্য ? যত ভালো কিছুই ঘটুক না, মনের অবসাদ দূর হবে না । উপার্জনের জন্য ছোট হোক যদি কোন চাকরীর সুযোগ পান , কাজে যোগ দিন । সব কিছু ঠিক হলে মনের মতো আবার কাজ পাওয়া যাবে। নিজের প্রতি আস্থা হারাবেন না।  প্রয়োজন হলে ব্যবসায় নেমে যান স্বল্প পুঁজি দিয়ে । অনলাইন এ অনেকেই কেনাবেচা করছে কিছু যদি নাই খুঁজে পান এই অনলাইন ব্যবসায় যোগ দিন । পরিচিত দের আপনার ব্যবসার কথা জানাতে থাকুন । বাজেটে এন্টারটেইনমেন্টের জন্যে কোনো খাত করা সম্ভব হলে সেটা দিয়ে নিজের জন্যে কিছু অনলাইন থেকে অর্ডার করতে পারেন। নতুন কিছু পেতে যে বয়সেরই হউক না কেন সবাই পছন্দ করে ।
 

৩.    পেনডামিক শুরুর প্রথমদিকে বেশ অনেক দিন বিভিন্ন রকমের ট্রেনিং করেছি , অনেক স্টাডি করলাম, নতুন নতুন রেসিপি নিয়ে কাজ করলাম কিন্তু একটা সময় দেখলাম আর ভালো লাগছে না কিংবা মনোযোগ দিতে পারছি না আগের মতো । কিছুদিন এলোমেলো দিন কাটিয়ে ভিডিও, টিক টক, পুরানো দিনের জমজমাট কিংবারোমান্টিক গান শুনতে লাগলাম। কখন যে একঘেয়েমি কেটে গিয়েছে !!! বুঝতেই পারি নাই, এখন আবার শুরু স্টাডি ,পার্সোনাল ডেভেলপমেন্ট ।মোদ্দা কথা হলো যখনি কোনো কাজে একঘেয়েমি আসে- একটা ব্ৰেক দিন, আপনি  ইন্টারেস্ট ফিল করেন এমন কিছু করেন ।  

 

৪.       ইনসোমনিয়া/নিদ্রাহীনতায় অনেকে ভুগছে এই সময়টাতে । যা কিনা শরীরকে সাথে মনকে  দুর্বল করে দিচ্ছে। দয়া করে রুটিনের মধ্যে চলে আসুন। ব্যায়াম করুন বাসায়, বোরিং লাগলে ইউটিউব  ছেড়ে মিউজিক এর সাথে এরোবিক্স কিংবা ভালো লাগলে নাচুন। ব্যায়াম করলে মন এমনি ভালো হয়ে যায় যখন মিউজিকএর সাথে করবেন মন অন্য রকম ভালো লাগায় ভরে উঠবে। সাথে পুষ্টিকর  খাবার খেতে ভুলবেন না।  
 

৫.    ক্ষমা করে দেবার অভ্যাস মানুষকে সুখী করে।  কারো প্রতি রাগ থাকলে তাকে ক্ষমা করে দিন। নিজেকে নিয়ে ভাবুন। যে আপনার ক্ষতি করেছে কিংবা ঠকিয়েছে  তাকে প্রাধান্য দিয়ে নিজের ক্ষতি করার মতো বোকা অবশ্যই আপনি নন । তাকে ক্ষমা করে দিন। যার যার ধর্মের প্রতি অনুগত হউন।
 

৬. ডিপ্রেশন এ ভুগছেন যখনি বুঝতে পারবেন , কিংবা কিছুই ভালো লাগে না এমনটা হলে দেরি করবেন না আপনার শুভাকাঙ্ক্ষী যারা আছেন , যারা পজিটিভ মাইন্ড এর তাদের সঙ্গে কথা বলুন।  হোক কোন ছোট ব্যাপার যেটা আপনার ভাল লাগছে না সেটাও শেয়ার করুন । তাদের সাহায্য নিন ডিপ্রেশন কাটিয়ে উঠতে।

 

আত্মীয় বন্ধু কলিগ সবার খোঁজ খবর রাখুন।  সব সময় আর্থিক সাহায্যই যে করতে হবে তা না। মানসিক সাহায্য অনভিপ্রেত ঘটনার অবসান ঘটায় । আপনার আমার একটা হাত বাড়ানো অনেক জীবনকে রক্ষা করতে পারে । আসুন আমরা চেষ্টা করি সবাইকে সুখী সুন্দর রাখতে।