পেঁপের বীজ নানা রোগের প্রতিষেধক

পেঁপের বীজ নানা রোগের প্রতিষেধক
ছবি: সংগৃহীত
আমাদের শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হচ্ছে কিডনি। এটি শরীর থেকে বর্জ্য ও অতিরিক্ত তরল অপসারণ করে, যা অনেকটা ফিল্টারের ন্যায় কাজ করে থাকে। পেঁপের বীজে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কিডনির কোষ গুলোকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে এবং কিডনির স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে।

পেঁপে অনেক রসালো, সুস্বাদু ও পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি ফল। পেঁপের কাঁচা ও পাকা দুই অবস্থাতেই খাওয়া যায়। এ ফলটির স্বাদের পাশাপাশি অনেক গুণাগুণ থাকার কারণে এর কদর সারা বিশ্ব জুড়েই। আপনি জেনে অবাক হবেন, পেঁপের বীজও আপনি খেতে পারবেন আর এই বীজে রয়েছে অনেক গুণাগুণ।    

 

স্বাস্থ্যের জন্য বেশ উপকারী পেঁপের বীজ। এতে বিভিন্ন ধরনের প্রয়োজনীয় মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট পাশাপাশি, পলিফেনল এবং ফ্ল্যাভোনয়েড থাকে। আর এ যৌগগুলো আমাদের শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসাবে কাজ করে। এ ছাড়া পেঁপের বীজে অলিক অ্যাসিড এবং আরও কিছু উপকারী মনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড মেলে, যা শরীরের জন্য অনেক প্রয়োজনীয়।

 

পেঁপের বীজ আমাদের শরীরে ফাইবার সরবরাহ করার মাধ্যমে রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সহায়তা করে। আর উচ্চ ফাইবার হার্টের সমস্যা, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস এবং স্থূলতার ঝুঁকি কমাতেও অনেক উপকারী। টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীদের পেঁপের বীজের মনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিডের কারণে উচ্চমাত্রায় ট্রাইগ্লিসারাইড এবং খুব কম ঘনত্বের লাইপোপ্রোটিন যথাক্রমে ১৯ শতাংশ ও ২২ শতাংশ পর্যন্ত কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে পারে।

 

পেঁপের বীজের বিভিন্ন উপকারী দিক


হৃদরোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে


পেঁপের বীজ হৃৎপিণ্ডকে ভালো রেখে হৃদরোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে। এ ছাড়া এতে ভিটামিন এ, সি, ই এবং শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকার কারণে এটি শরীরের বাজে কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমাতেও সাহায্য করে।

 

ক্যান্সার প্রতিরোধ করে


পেঁপের বীজের বিভিন্ন পুষ্টিগুণ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুলো ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে। পেঁপের বীজের নির্যাস শরীরের প্রদাহ কমাতে এবং ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে। এ ছাড়া পেঁপের কালো বীজ প্রোস্টেট ক্যান্সারের কোষের বৃদ্ধি হ্রাস করতে পারে।

 

কিডনি কার্যকারিতা রক্ষা করে


আমাদের শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হচ্ছে কিডনি। এটি শরীর থেকে বর্জ্য ও অতিরিক্ত তরল অপসারণ করে, যা অনেকটা ফিল্টারের ন্যায় কাজ করে থাকে। পেঁপের বীজে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কিডনির কোষ গুলোকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে এবং কিডনির স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে।

 

সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সহায়তা করে


পেঁপের বীজ শরীরের নির্দিষ্ট ধরনের কিছু ছত্রাক এবং পরজীবী ধ্বংস করতে পারে। আর এই কারণে শরীরে বিভিন্ন সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সহায়তা করে। পেঁপের শুকনো বীজ ও মধু দিয়ে তৈরি পানীয় অন্ত্রের পরজীবী উল্লেখযোগ্য ভাবে বিনাশ করতে পারে।

 

হজম শক্তিতে উপকারী


পেঁপের বীজ ফাইবারের অনেক ভালো উৎস। এ কারণে হজম শক্তিতে উপকারী হিসেবে কাজ করে। পেঁপের বীজে থাকা ডায়েটরি ফাইবার প্রদাহজনক পেটের রোগ থেকে রক্ষা করে এবং হেমোরয়েডের লক্ষণ উপশম করতে পারে। এ ছাড়া অন্ত্রের আলসার গঠনে বাধা দিতেও সহায়তা করে পেঁপের বীজ।

 

তবে কমনে রাখতে হবে পেঁপের বীজ খাওয়ার আগে। কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, এটি শরীরে ক্ষতিকারক প্রভাব ফেলে। তবে ক্ষতির চেয়ে এর উপকারই বেশি। গর্ভকালীন অবস্থায় পেঁপের বীজ খাওয়া যাবে না।