ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমানোর উপায়

ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমানোর উপায়
ছবি: সংগৃহীত
অতিরিক্ত আঁশযুক্ত খাবার ক্যান্সার সৃষ্টিকারী ইস্ট্রোজেনের মাত্রা কমাতে পারে। এর ফলে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। মটরশুঁটি, তাজা ফল, আস্ত শস্য, ফ্ল্যাভনয়েড, ক্রুসিফেরাস ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট (ব্রোকলি, ফুলকপি, বাঁধাকপি) ও ক্যারোটিনয়েড সমৃদ্ধ সবজি খেতে হবে। পেঁয়াজ, রসুন, পেঁয়াজের পাতা ইত্যাদি সবজিগুলো ক্যান্সার কোষের বিভক্ত হওয়া প্রতিরোধ করে।

সারাবিশ্ব জুড়েই ব্রেস্ট ক্যান্সার ভয়াল আকার ধারণ করেছে। প্রতি ৮ জনের ১ জন নারী জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। কিছু রিস্ক ফ্যাক্টর আছে, যা পরিবর্তন করা কোন ভাবে সম্ভব নয় যেমন- জেনেটিক কারণ। কিন্তু নিয়মিত ডায়েট ও লাইফস্টাইল পরিবর্তনের মাধ্যমে এই বিধ্বংসী রোগটির ঝুঁকি কমানো যায়। 

 

স্তন ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি কমানোর উপায়:

 

ক্যান্সার প্রতিরোধী খাবার গ্রহণ: অতিরিক্ত আঁশযুক্ত খাবার ক্যান্সার সৃষ্টিকারী ইস্ট্রোজেনের মাত্রা কমাতে পারে। এর ফলে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। মটরশুঁটি, তাজা ফল, আস্ত শস্য, ফ্ল্যাভনয়েড, ক্রুসিফেরাস ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট (ব্রোকলি, ফুলকপি, বাঁধাকপি) ও ক্যারোটিনয়েড সমৃদ্ধ সবজি খেতে হবে। পেঁয়াজ, রসুন, পেঁয়াজের পাতা ইত্যাদি সবজিগুলো ক্যান্সার কোষের বিভক্ত হওয়া প্রতিরোধ করে। এ ধরনের সবজি কাঁচা খেলেই সফলতা পাওয়া যাবে। সয়াবিন ও অন্য সয়া পণ্য যেমন- টফু ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। কিন্তু মিষ্টি স্বাদের ও রিফাইন্ড সয়া পণ্য যেমন- সয়া দুধ ও সয়া তেল এড়িয়ে চলুন। মনে রাখবেন চিনি ক্যান্সারের মাত্রা বাড়িয়ে তোলে। চিনি ক্যান্সারের জিনকে সক্রিয় করে এবং ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধিতে জ্বালানী হিসেবে কাজ করে।

 

শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকুন: যেসব নারীরা দৈনিক ৩০-৪৫ মিনিট ব্যায়াম করে তাদের স্তন ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি ২০-৪০ শতাংশ কমে যায়। তাই প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট সাধারণ ব্যায়াম যেমন- দ্রুত হাঁটার লক্ষ্য নির্ধারণ করুন।

 

ওজন ঠিক রাখুন: গবেষণায় দেখা গেছে অধিক ওজন ব্রেস্ট ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে। ক্যান্সার ও ওজনের এই সম্পৃক্ততার জন্যই সবার উচিৎ দেহের স্বাভাবিক ওজন বজায় রাখা।

 

নিউট্রিশনাল সাপ্লিমেন্ট: অত্যাবশ্যকীয় ভিটামিন ও মিনারেল সমৃদ্ধ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করলে ব্রেস্ট ক্যান্সার ও অন্যান্য রোগ প্রতিরোধ করা যায়। পর্যাপ্ত মাত্রার ভিটামিন এ, ডি ও ই ব্রেস্ট ক্যান্সার প্রতিরোধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

গ্রিনটি পান করুন: গ্রিনটিতে ইজিসিজি (এপিগ্যালোক্যাটেচিন-৩-গ্যালেট) নামক উপাদান থাকে, যা ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধিকে বন্ধ করতে সাহায্য করে। তাই প্রতিদিন গ্রিনটি পান করুন।

 

ভালো ফ্যাট গ্রহণ করুন: বিভিন্ন ধরণের চর্বি ব্রেস্ট ক্যান্সারের উপর প্রভাব বিস্তার করে। তাই খারাপ ফ্যাট বর্জন করে ভালো ফ্যাট গ্রহণ করা উচিত। ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ খাবার যেমন- মাছের তেল এবং ওমেগা ৬ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ খাবার যেমন- ভুট্টা, সূর্যমুখীর তেল ইত্যাদি কম গ্রহণ করুন।

 

ধূমপান বর্জন করুন: যেসব নারীরা ধূমপান করেন বা ক্রমাগত পরোক্ষভাবে ধোঁয়ায় আক্রান্ত হন তাদের মধ্যে ব্রেস্ট ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা ৪০ শতাংশ বেশি। যাদের অ্যালকোহল সেবনের অভ্যাস আছে তাদের ব্রেস্ট ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। যদি এই অভ্যাসগুলো থেকে থাকে তাহলে পরিত্যাগ করার চেষ্টা করুন।