গর্ভাবস্থায় এসব ভুল ভুলেও নয়

প্রতীকী ছবি
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, এসব ধারণার কোনোটাই আসলে ঠিক নয়। ভারতের স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ মার্থা হাজরার মতে, গর্ভাবস্থায় আজও বেশির ভাগ বাড়িতেই মায়েদের নানা রকম ভুল ধারণার শিকার হতে দেখা যায়। সেখান থেকেই নানা রকম উদ্বেগের শুরু। স্বাভাবিক কারণেই এ সময় মায়ের শারীরিক কিছু পরিবর্তন ঘটতে থাকে। তার উপর এই সব ভুল ধারণা আরও বেশি করে উদ্বেগের জন্ম দেয়।

গর্ভাবস্থায় আমাদের অনেকেই বেশ কিছু নিয়ম মেনে চলি অথবা অন্তত মেনে চলার চেষ্টা করি। যেমন, ছোট থেকে শুনে এসেছেন গর্ভবতী হলে খেতে হয় দু’জনের মাপে। নিজের ও সন্তানের।  বেশির ভাগ সময়ই শুয়ে–বসে থাকতে হয় ইত্যাদি। তবে এই নিয়মগুলো এই অবস্থায় আমাদের জন্য ঠিক কতটা উপকারী কিংবা ক্ষতির কারণ, সেটা কি আমরা আসলেই জানি? আসলের এসব নিয়মের কতগুলো শরীরের কোনও কাজেই লাগে না। উল্টো ক্ষতি করে মা ও সন্তানের। চিকিৎসকের পরামর্শ, নিজেদের ভাবনা-চিন্তার পরেও থেকে যায় নানা রকম ভুল।

 

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, এসব ধারণার কোনোটাই আসলে ঠিক নয়। ভারতের স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ মার্থা হাজরার মতে, গর্ভাবস্থায় আজও বেশির ভাগ বাড়িতেই মায়েদের নানা রকম ভুল ধারণার শিকার হতে দেখা যায়। সেখান থেকেই নানা রকম উদ্বেগের শুরু। স্বাভাবিক কারণেই এ সময় মায়ের শারীরিক কিছু পরিবর্তন ঘটতে থাকে। তার উপর এই সব ভুল ধারণা আরও বেশি করে উদ্বেগের জন্ম দেয়।

 

পাড়া-প্রতিবেশি কিংবা পরিবারের সদস্যদের থেকে শোনা এমন মতবাদে বিশ্বাস করতে গিয়েই হয়ে যায় বড়সড় ভুল। আসুন জেনে নেই গর্ভাবস্থায় করা সেই ভুলগুলো ও শোধরানোর উপায় সম্পর্কে,

 

খাবার খেতে হবে মা-শিশু দুইজনের মাপে

 

এতদিন ধরে নিজের জন্য যা খেয়ে এসেছেন এখন কি দ্বিগুণ খাবেন? না, এ ধারণা ভুল। ছোট্ট ভ্রূণের এত খাবার লাগে না। বরং শরীরের প্রয়োজনের অতিরিক্ত এই খাবারের পুরোটাই মায়ের ওজন বাড়িয়ে ফেলে। সেই সঙ্গে বাড়ে ডায়াবেটিস, প্রেসার ও আরও কিছু জটিল বিপদের শঙ্কা। ফলে শেষ পর্যন্ত শঙ্কা তৈরি হয় মা ও শিশু প্রাণ নিয়ে। কাজেই প্রথম তিন মাস পুষ্টিকর খাবার খান, আগের মাপেই।  তিন মাস পর থেকে মাত্র ২৫০ থেকে ৩০০ ক্যালোরি বেশি খেতে হবে। একটা কলা, ছোট এক বাটি সিরিয়াল আর দুধ একটু বেশি খেলেই যথেষ্ট।

 

নিজে নিজেই ছোটখাটো ওষুধ খাওয়া

 

নিতান্ত সাধারণ ওষুধ থেকেও বাচ্চার জন্মগত ত্রুটি-সহ আরও নানা সমস্যা হতে পারে।  কাজেই অম্বল–বদহজম–কোষ্ঠকাঠিন্য, যাই হোক না কেন, ওষুধ খান চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে।

 

কম ঘুমিয়ে কাজ সেরে রাখা

 

গর্ভাবস্থায় এমনিতেই মায়ের শরীর ক্লান্ত থাকে। আর এর সঙ্গে যথেষ্ট ঘুম না হলে স্বাস্থ্য ভাঙতে বাধ্য।  কাজেই প্রতিদিন অন্তত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমিয়ে নিন। অফিসে ন্যাপ নেওয়ার সুবিধা থাকলে দুপুরে খাওয়ার পর ১০–১৫ মিনিটের দিবানিদ্রা দিতে পারলে ভাল।  না হলে সপ্তাহ–শেষে অনেকটা ঘুমিয়ে শরীরের ঘুম পুষিয়ে নিন। কিন্তু কোনও ভাবেই কম ঘুমের থিওরিতে বিশ্বাস করবেন না।

 

সারাক্ষণ শুয়ে–বসে থাকতে হবে

 

এ অবস্থায় শুয়ে–বসে থাকার প্রশ্নই নেই। দিনে আধ ঘণ্টা অন্তত হালকা ব্যায়াম করতে হবে। সে ক্ষেত্রে জোরে হাঁটা, যোগাসন ইত্যাদি করাটা জরুরি। না হলে ওজন বেড়ে ডায়াবেটিস বা হাই প্রেসার হতে পারে।  সমস্যা হতে পারে প্রসবে।  মানসিক চাপ কমাতে, রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে, প্রসবের জন্য শরীরকে প্রস্তুত করতেও ব্যায়াম আবশ্যক।  আর যত নড়াচড়া করবেন, গর্ভস্থ সন্তানের বৃদ্ধিও ভাল হবে এতে। তাই ভারী কাজ না করলেও শরীরকে নানা ভাবে সচল রাখুন।

 

পছন্দসই খাবার নয়, চাই স্বাস্থ্যকর খাবার

 

মিষ্টি, ভাজাপোড়া, মশলাদার খাবার কম খেতে হবে ঠিকই। কারণ এতে একদিকে যেমন ওজন বাড়ে অন্যদিকে দেখা দিতে পারে অপুষ্টিও। কিন্তু পছন্দের খাবার পুরো বন্ধ করে দিলে যে স্ট্রেস হবে তা মা ও সন্তানের জন্য ভাল নয়। কাজেই পছন্দের খাবার খাওয়া একেবারে না ছেড়ে খাবারের তালিকায় পুষ্টিকর খাবারও যোগ করুন।