ক্যানসারের লক্ষণ যে ভাবে বুঝবেন

ক্যানসারের লক্ষণ যে ভাবে বুঝবেন
ক্যানসারের লক্ষণ যে ভাবে বুঝবেন
ফুসফুস ক্যানসারের একটি সাধারণ লক্ষণ হলো কাশি। যারা ধূমপায়ী নন তাদেরও এ লক্ষণ দেখা দেয়। একইসঙ্গে হাঁপানি, গ্যাস্ট্রিকের সমস্যাও ফুসফুস সংক্রমণের লক্ষণ। পাশাপাশি রক্ত কাশিও হতে পারে। যা ক্যন্সারের মারাত্মক লক্ষণ। এ

সাধারণ শারীরিক সমস্যাও হতে পারে ক্যানসারের মারাত্মক লক্ষণের কারণ। অনেকেই আছেন জ্বর, ঠাণ্ডা, কাশি, পেটে ব্যথা, ক্লান্তি, ওজন কমে যাওয়াসহ বেশ কিছু শারীরিক সমস্যাকে অবহেলা করে থাকেন। আবার কিছু ওষুধ খেয়ে এসব সমস্যা সারানোর চেষ্টা করে থাকেন। তবে আপনি জেনে অবাক হবেন, এসব সাধারণ সমস্যা থেকেই হতে পারে ক্যানসারের মারাত্মক লক্ষণ।   

 

সঠিক সময়ে ক্যানসারকে যদি চিহ্নিত করা যায়, এবং যথাযথ চিকিৎসা পাওয়া যায় তাহলে ক্যানসারকেও পরাজিত করা সম্ভব। ক্যানসার নিঃসন্দেহে মরণ ব্যাধি। তাই জন্য দরকার ক্যানসারের উপসর্গ সম্পর্কে সতর্কতা ও সচেতনতা।

 

ফুসফুস ক্যানসারের একটি সাধারণ লক্ষণ হলো কাশি। যারা ধূমপায়ী নন তাদেরও এ লক্ষণ দেখা দেয়। একইসঙ্গে হাঁপানি, গ্যাস্ট্রিকের সমস্যাও ফুসফুস সংক্রমণের লক্ষণ। পাশাপাশি রক্ত কাশিও হতে পারে। যা ক্যন্সারের মারাত্মক লক্ষণ। এমনটি দেখলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

 

ত্বকের ক্যানসারের লক্ষণ হিসেবে দেখা দেয় বিভিন্ন সমস্যা। যেমন- ত্বক ফ্যাকাসে হয়ে যাওয়া, নতুন দাগ কিংবা রেশ। এক্ষেত্রে ত্বকে এমন দাগ হতে পারে যা কিছুটা অস্বাভাবিক। এমন কিছু ত্বকে দেখলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।


 
প্রতিবছর বিশ্বের হাজারো নারী স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে থাকেন। স্তনের যে কোনো সমস্যা যেমন- ব্যথা, স্তনবৃন্ত পরিবর্তনসহ কোনো তরল পদার্থ বের হলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।


 
পেলভিক বা নারীর জননাঙ্গের ক্যানসারের উপসর্গগুলো বেশ সাধারণ। এ কারণে অনেক রোগীই প্রাথমিক অবস্থায় এ রোগ সনাক্ত করতে পারেন না। পেট ফুলে থাকা, গ্যাস্ট্রিকের সমস্যাসহ, ক্লান্তি, ওজন হ্রাস, পিঠে ব্যথা ইত্যাদি উপসর্গ থাকলে পরীক্ষা করে দেখুন।

 

অনেক পুরুষের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মূত্রনালির সমস্যা দেখা দেয়। প্রসাবে জ্বালা-পোড়া, ঘন ঘন প্রসাব হওয়া ইত্যাদি মূত্রনালির সমস্যার সাধারণ লক্ষণ। তবে এগুলো সাধারণভাবে নেওয়া উচিত নয়। কারণ এসব লক্ষণ প্রোস্টেট ক্যানসারের কারণ হতে পারে।

 

গলায়, বগলসহ শরীরের বেশ কয়েকটি স্থানে শিমের বীজের মতো গ্রন্থি থাকে। যখন এসব গ্রন্থি কোনো কারণে ফুলে ওঠে তখন আপনি ঠাণ্ডা বা গলা ব্যথায় ভুগতে পারেন। কিছু ক্যানসার যেমন লিম্ফোমা এবং লিউকেমিয়ার ক্ষেত্রেও এ ধরনের ফোলা ভাব হতে পারে।

 

রক্তাক্ত মল স্বাস্থ্যের বিভিন্ন সমস্যার ইঙ্গিত দেয়। হেমোরয়েড বা কোলন ক্যানসারের উপসর্গ হতে পারে রক্তাক্ত মল। একইসঙ্গে প্রস্রাবে রক্ত দেখা দেওয়া মূত্রনালির সংক্রমণ, কিডনি ও মূত্রাশয়ের ক্যানসারের কারণ হতে পারে।

 

পুরুষরা যদি অণ্ডকোষের মধ্যে ফোলা ভাব দেখতে পান তাহলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। অণ্ডকোষে ব্যথা হীন ফোলা ভাব বা মাংসপিণ্ডও কিন্তু টেস্টিকুলার ক্যানসারের সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ। আপনি যদি কখনও তলপেট বা অণ্ডকোষে ভারী অনুভব করেন তাহলে দ্রুত পরীক্ষা করান।

 

সাধারণত ঠাণ্ডা, গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বা ওষুধ খাওয়ার সময় গিলতে কষ্ট হতে পারে। তবে সব সময়ই যদি গিলতে অসুবিধা বা কষ্ট হয় তাহলে কণ্ঠনালীর ক্যানসারে ভুগতে পারেন।

 

প্রতি মাসে নারীদের পিরিয়ড হওয়া স্বাভাবিক। তবে শারীরিক সম্পর্ক করার সময় কিংবা অন্য যে কোনো কারণে পিরিয়ড ছাড়াই অধিক রক্তপাতের লক্ষণ দেখা দেওয়া চিন্তার কারণ হতে পারে। জরায়ু বা যোনি ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে। মেনোপজের পরেও যদি এমন রক্তপাত হয় তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

 

অনেকের মুখে সাদা, লাল দাগ বা ঘা হয়ে থাকে। যা সহজে সারতে চায় না। বিশেষ করে কেউ যদি ধূমপান করে তাহলে এমন ঘা অবহেলা করবেন না। এটি মুখের ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে। একই সঙ্গে যদি চোয়াল নাড়তে সমস্যা হয় বা মুখে ব্যথা ও দুর্গন্ধ হয়ে থাকে তাহলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

 

হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। এটি অগ্ন্যাশয়, পাকস্থলী, খাদ্যনালী, ফুসফুসসহ বিভিন্ন ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে।

 

শারীরিক বিভিন্ন অসুখের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে দেখা দেয় জ্বর। কিছু ওষুধের পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়াতেও এটি হতে পারে। তবে দীর্ঘদিন ধরে জ্বরে ভোগা রক্তের ক্যানসারের কারণ হতে পারে যেমন- লিউকেমিয়া বা লিম্ফোমা।

 

অত্যধিক ক্লান্তিও ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে। লিউকেমিয়ার মতো ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ হলো ক্লান্তি। আবার কোলন বা পেটের ক্যানসারের রোগীরাও খুব ক্লান্ত বোধ করেন। তাই দীর্ঘদিন ধরে ক্লান্তি ভাব পিছু না ছাড়লে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।